তারাতলা-কাণ্ডে অভিযুক্ত এবং কলকাতা পুরসভায় বিভিন্ন দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ যাঁর বিরুদ্ধে, প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ওএসডি কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে তাঁর ফ্ল্যাটে গিয়ে তল্লাশি চালাল বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। কী তথ্য পাওয়া গেল, তা নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ তদন্তকারীরা।
ধৃত কালীচরণ থাকেন হাওড়ার শিবপুরে। রবিবার তাঁকে নিয়ে তাঁর ফ্ল্যাটে দুপুর সাড়ে ৩টে নাগাদ ঢোকে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ এবং তল্লাশি চলে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা। রাত ৮টা নাগাদ ফ্ল্যাট থেকে কালীচরণকে নিয়ে বার হন সিটের সদস্যেরা। প্রাক্তন মেয়রের ওএসডি-র মুখ ঢাকা ছিল বালিশের খোলে। তাঁর সঙ্গে কথা বলার কোনও সুযোগ পায়নি সংবাদমাধ্যম। আবার তাঁর কাছ থেকে নতুন কী তথ্য মিলল, ফ্ল্যাটে কী কী পাওয়া গেল, তা নিয়েও তদন্তকারীরা কিছু বলতে চাননি। জানানো হয়, তদন্তের স্বার্থে এখন কিচ্ছু বলা যাবে না।
দক্ষিণ কলকাতার অংশ তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনার প্রেক্ষিতে উঠে আসে ফিরহাদের ওএসডি কালীচরণের নাম। গ্রেফতার হন তিনি। তারাতলা-কাণ্ডে যে সমস্ত অনিয়মের কথা উঠে এসেছে, তার নেপথ্যে কালীচরণের ‘টিমওয়ার্ক’ ছিল কি না প্রশ্ন ওঠে। প্রশ্ন উঠেছে, এমন নির্মাণের ‘প্ল্যান’ কার কথায় অনুমোদিত হয়েছে। ইতিমধ্যে ‘আসল তৃণমূলের’ সদস্য কলকাতা বন্দরের বিধায়ক এবং পদত্যাগী মেয়রের গ্রেফতারি দাবি করেছেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। নাম না করেও কুণালের মতো দাবিতে সরব তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
আরও পড়ুন:
কালীচরণের নামে অভিযোগ যে, তিনি মেয়র ফিরহাদের ওএসডি হিসাবে ক্ষমতার বলে নিয়ম-বহির্ভূত নানা কাজ করেছেন। ফিরহাদ হাকিম মেয়র হওয়ার পর ওএসডি হিসাবে তাঁর সব কাজ সামলাতেন কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। গত শুক্রবার সরকারি আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেছিলেন, কালীচরণ যা করতেন তা পুরোটাই নাকি ‘টিমওয়ার্ক’! কলকাতা পুরসভা এলাকায় কোনও নির্মাণে অনুমোদন দেওয়া যাবে না, তা কালীচরণরাই ঠিক করতেন। অনুমোদন করিয়ে দিতেন। এই প্রেক্ষিতে রবিবার কালীচরণকে নিয়ে তাঁর হাওড়ার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালাল সিট।