Afghanistan-Pakistan Conflict

প্রত্যাঘাত শুরু আফগানিস্তানের, পাকিস্তানে আইএস ঘাঁটিতে আকাশপথে হামলা! তালিবান সরকারের দাবি, নিহত জঙ্গিরা

বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে ঢুকে পাকিস্তান যে ভাবে হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে মেরেছে, তার বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করতে আইএস ঘাঁটিগুলি বেছে নেওয়া হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ০৭:৫৬
Taliban claims Afghanistan launches airstrikes in Pakistan

পাকিস্তানে হামলার দাবি তালিবান সরকারের। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

পাকিস্তানে প্রত্যাঘাত শুরু করল আফগানিস্তান। তালিবান সরকারের দাবি, তারা পাকিস্তানে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তাদের নিশানায় সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট‌ের (আইএস) ঘাঁটি। তালিবান বাহিনী জানিয়েছে, তারা পাকিস্তানে যেখানে যেখানে আইএসের সহযোগী গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট খোরাসন (আইএস-কে)-এর ঘাঁটি ছিল, সেখানে ধারাবাহিক ভাবে আকাশপথে হামলা চালানো হয়েছে। যদিও এই হামলা নিয়ে পাকিস্তান এখনও পর্যন্ত কোনও প্রক্রিয়া দেয়নি।

Advertisement

আফগানিস্তানের সংবাদমাধ্যম ‘টোলোনিজ়জ’ সমাজমাধ্যমে বিবৃতি প্রকাশ করে এই হামলার কথা জানিয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই হামলা ন্যায্য। আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে ঢুকে পাকিস্তান যে ভাবে হামলা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে মেরেছে, তার বিরুদ্ধে হামলার পরিকল্পনা করতে এই ঘাঁটিগুলি বেছে নেওয়া হয়েছে। মূলত পাকিস্তানের বালুচিস্তান এবং খাইবার পাখতুনখোয়ায় হামলায় চালানো হয়েছে বলে দাবি।

বিবৃতিতে দাবি, খাইবার পাখতুনখোয়ার সারান এলাকার একটি স্কুলে হামলা চালিয়ে তালিবান বাহিনী। তাদের দাবি, এই স্কুলটিকে ঘাঁটি করেছিল আইএসের জঙ্গিরা। সেই আস্তানা ব্যববহার করে বিভিন্ন সন্ত্রাসমূলক অভিযান চালানো হচ্ছিল। আফগানিস্তানের দাবি, বিমান হামলায় বেশ কয়েক জন আইএস জঙ্গি নিহত হয়েছে। তবে তারা কোনও সাধারণ মানুষের ক্ষতি করেনি। এই অভিযানে সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়নি।

শনিবার পাকিস্তানের করাচির আধাসেনা ঘাঁটিতে জঙ্গি হামলায় তিন পাক জওয়ানের মৃত্যু হয়। হামলাকারী তিন জঙ্গিরও মৃত্যু হয় ঘটনাস্থলেই। এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই হামলার ঘটনায় দায় স্বীকার করেছিল টিটিপি-র ছায়াগোষ্ঠী জামাত-উল-আহরার। তার পরই আফগানিস্তানে অভিযান শুরু করে পাক সেনা। পাকিস্তানের দাবি, রবিবার গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সুপরিকল্পিত ভাবে আফগানিস্তানের সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছে। নিশানায় ছিল জঙ্গিদের ঘাঁটি। তবে এই অভিযানে ৩৬ জন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং ১৬৩ জন আহত হন। তবে পাকিস্তান দাবি করেছে, হামলায় নিহতেরা জঙ্গি ছিল। ইসলামাবাদের দাবি, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজ়াউর জেলার পাক-আফগান সীমান্তে রবিবার রাতে পাকিস্তানি স্থল এবং বায়ুসেনা যৌথ অভিযান চালিয়েছে। তাতে ২৯ জন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে।

পাকিস্তানের অভিযানের পর থেকেই দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। পাক হামলার পর আফগানিস্তানের তালিবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লা ফিতরাত স্পষ্ট জানান, ইসলামাবাদকে সমুচিত জবাব দেওয়া হবে। অন্য দিকে, আফগানিস্তানে পাক সেনাবাহিনীর হামলা এবং তাতে সাধারণ মানুষের মৃত্যুর ঘটনার নিন্দা জানিয়ে প্রতিক্রিয়া দিয়েছে ভারত। শনিবার করাচিতে হামলার নেপথ্যে ভারতের হাত আছে বলে দাবি করেছিল পাকিস্তান। সেই দাবি নস্যাৎ করে দেয় নয়াদিল্লি। পাশাপাশি, পাক হামলার নিন্দা করে এ-ও জানায়, পাকিস্তান তার সীমান্তের বাইরে সামরিক অভিযান চালিয়ে নিজেদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাজনিত সঙ্কট থেকে মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করছে। এই হামলা শুধু আফগানিস্তানের ভূখণ্ডের অখণ্ডতাকে ক্ষুণ্ণ করেনি, বরং সমগ্র অঞ্চলের শান্তির জন্য হুমকির সৃষ্টি করেছে।

Advertisement
আরও পড়ুন