Jodhpur park boys school

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ কলকাতার স্কুলে! ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ অভিভাবকদের একাংশের

স্কুলের পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের আগে প্রশ্ন ছাত্রদের কাছে পৌঁছে দিতেন যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুলের শিক্ষিকা। সোমবার সকাল থেকে স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকদের একাংশ। তবে অভিভাবকদের একাংশ দাবি করেছেন, সবটাই পরিকল্পিত। শিক্ষিকাকে বদনাম করার জন্যই এ সব করা হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ১৬:৩৬

ছবি: সংগৃহীত।

এ বার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ স্কুলে।

Advertisement

খাস কলকাতার এক স্কুলে, ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখালেন অভিভাবকেরা। শিক্ষকদের একাংশ প্রশাসকের কাছে অভিযোগও জানিয়েছেন।

অভিযোগ, স্কুলের পর্যায়ক্রমিক মূল্যায়নের আগে প্রশ্ন ছাত্রদের কাছে পৌঁছে দিতেন যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুলের শিক্ষিকা। সোমবার সকাল থেকে স্কুলের সামনে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকদের একাংশ। তবে অভিভাবকদের একাংশ দাবি করেছেন, সবটাই পরিকল্পিত। শিক্ষিকাকে বদনাম করার জন্যই এ সব করা হয়েছে। এসব কোনও কাজের সঙ্গে ওই শিক্ষিকা যুক্ত থাকতে পারেন না। বরঞ্চ তিনি স্কুলে নিয়ম শৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন।

স্কুল সূত্রের জানা গিয়েছে, ওই স্কুলে প্রাক্‌-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পড়ানো হয়। প্রধানশিক্ষক অসিত সেনমজুমদার। কিন্তু প্রাথমিক স্তরে ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা হিসাবে রয়েছেন মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষিকা বৈশাখী কর মজুমদার। তাঁর বিরুদ্ধে নানা রকমের অভিযোগ করেছেন শিক্ষকদের একাংশ। প্রশাসকের কাছে লিখিত ভাবে তাঁরা প্রায় ১৮ দফা অভিযোগ করেছেন। স্বাক্ষর করেছেন ১৭ জন শিক্ষক। এই অভিযোগের অন্যতম, পরীক্ষার আগে ছাত্রদের হাতে প্রশ্ন তুলে দেওয়া।

অভিভাবকদের একাংশের অভিযোগ, ওই শিক্ষিকা গৃহশিক্ষকতা করেন। কোনও পড়ুয়ার ফল ভাল না হলে, তাকে সেখানে পড়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। দাবি, গৃহশিক্ষিকা হিসাবেই স্কুলের প্রশ্ন তুলে দেন তিনি পড়ুয়াদের হাতে।

যদিও এ সব অভিযোগের প্রেক্ষিতে কোনও কথা বলতে চাননি বৈশাখী। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “আমি সরকারি চাকরি করি। সরকারের নির্দেশ আমাকে মানতে হবে। সরকারের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, সংবাদমাধ্যমে কোনও কথা বলা যাবে না। ফলে আমি কিছু বলতে পারব না।”

প্রতিদিন প্রাথমিক স্তরের স্কুল শুরু হয় সকাল ৬টা ৫০ মিনিটে। এ দিন সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ একদল অভিভাবক নানা দাবি ও অভিযোগ নিয়ে স্বাক্ষর সম্বলিত আবেদনপত্র জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তাঁদের অভিযোগ, সে সময়ই স্কুল অশান্তি শুরু হয়। এক অভিভাবকের কথায়, “স্কুলে গিয়ে দেখি এক শিক্ষককে হেনস্থা করছেন কিছু অভিভাবক। তাঁদের সন্তানেরা ওই শিক্ষিকার কাছে স্কুলের বাইরে পড়ে। উত্তেজনা তৈরি হয় স্কুলে। হাতাহাতিও হয়েছে।”

অন্য অংশের অভিভাবকদের দাবি, প্রতিটি অভিযোগ ভিত্তিহীন। উল্টে তাঁদের দাবি ওই শিক্ষিকার জন্যই স্কুলে নিয়ম শৃঙ্খলা বজায় রয়েছে। তিনি কোনও দিন তাঁর কাছে পড়ানোর জন্য কাউকে চাপ দেননি। ইচ্ছে করে কয়েরকজন স্কুলের পরিবেশ নষ্ট করতে চাইছে।

স্কুলের তরফে অবশ্য বলা হয়েছে, ইতিমধ্যে তাঁরা জেলা স্কুলশিক্ষা দফতরের সঙ্গে কথা হয়েছে। গৃহশিক্ষকতা বিষয়ে সরকারের যে নির্দিষ্ট আইন রয়েছে সেই মতো ব্যবস্থা নেবে দফতর। স্কুল এই বিষয়ে সব রকমের সাহায্য করতে প্রস্তুত। স্কুলের কেউ গৃহশিক্ষকতার সঙ্গে কোনও ভাবে যুক্ত থাকুক সেটা স্কুল কর্তৃপক্ষ চান না বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

বিজেপি শিক্ষক সেলের আহ্বায়ক পিন্টু পাড়ুই জানান, জেলা স্কুলশিক্ষা দফতরে তাঁরা কথা বলেছেন। তিনি বলেন, “স্কুলে কোনও রকম দুর্নীতি বা বেআইনি কিছু হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। আমরা দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়েছি।”

Advertisement
আরও পড়ুন