গ্রাফিক : আনন্দবাজার ডট কম
নানা ভাষা, নানা মতের ভারতবর্ষ। পড়ুয়াদের মধ্যে এ বার সেই মন্ত্রে দীক্ষিত করতে চাইছে রাজ্য। শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, এ বার রাজ্যে শুরু হচ্ছে ‘ভারতীয় ভাষা সামার ক্যাম্প’।
ভারতীয় সংবিধানে উল্লিখিত নানা ভাষার সঙ্গে কম বেশি পরিচিত হতে হবে পড়ুয়াদের। কেন্দ্রীয় উদ্যোগে এ বার শামিল হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গও। স্কুলে পড়ানো হয় না, এ রকম অন্তত একটি ভাষার উপরে দক্ষতা তৈরির লক্ষ্যে ২৮ ঘণ্টার এক বিশেষ শিবির আয়োজন করা হবে। এ জন্য প্রতিটি জেলায় নির্দেশ পাঠিয়েছে বিকাশ ভবন। জেলা শিক্ষা আধিকারিকদের (ডিইও) মাধ্যমে প্রতিটি স্কুলে এই নির্দেশ পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই।
বিকাশ ভবন সূত্রের খবর, গত ১৩ মে দিল্লিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘ভারতীয় ভাষা সামার ক্যাম্প’ বা বিবিএসসি-র উদ্বোধন হয়। তার পরই সব রাজ্যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। জাতীয় শিক্ষানীতির মধ্যে এই বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে যে, একের বেশি যে কোনও ভারতীয় ভাষার প্রতি দখল থাকতে হবে পড়ুয়াদের। সে কারণেই এই ক্যাম্প।
কী ভাবে চলবে এই প্রকল্প?
শিক্ষা দফতরের এক কর্তা জানান, গরমের ছুটির মধ্যে এই ক্যাম্প করা যেতে পারে। ৭ দিনে চার ঘণ্টা করে এই ক্যাম্প করা যেতে পারে। যদি গরমের ছুটির পরে স্কুলে শুরু হয়ে যায়, তা হলে পরের ৩ সপ্তাহে ১৪ দিনে দু’ঘণ্টা করে মোট ২৮ ঘণ্টা করে এই বিশেষ কর্মসূচি করতে হবে।
এই ক্যাম্পে মূলত অন্য একটি ভাষায় পরিচয় দিতে হবে পড়ুয়াদের। শর্ত হিসাবে বলা হয়েছে, শিবিরে অন্তত ৭৫-১০০ জন পড়ুয়াকে থাকতেই হবে। মনে রাখতে হবে, যে ভাষাটি তারা স্কুলে পড়ছে না সে রকমই একটি ভাষাকে বেছে নিতে হবে। যেমন কোনও বাংলা মাধ্যমের স্কুলে হিন্দি পড়ানো হলে সে ক্ষেত্রে অন্য ভাষা পড়াতে হবে। যেমন সংস্কৃত। কিন্তু অবশ্যই সেই ভাষা ভারতীয় এবং সংবিধান স্বীকৃত ২২টির মধ্যে যে কোনও একটি ভাষা হতে হবে।
ওই ভাষার পরিচয়ের পাশাপাশি তার শব্দভান্ডার, সেই ভাষার সংস্কৃতি সম্পর্কেও চর্চা হবে ওই ক্যাম্পগুলিতে। ইতিমধ্যে জেলা স্তরে সেই নির্দেশিকা পৌঁছে গিয়েছে। গরমের ছুটি ৩১ মে পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে রাজ্য সরকার। এর মধ্যেই স্কুলগুলিকে এই সামার ক্যাম্প করতে হলে দ্রুত ব্যবস্থা করতে হবে।
এক স্কুলশিক্ষক জানান, এ ভাবে ছুটির মধ্যে এই প্রকল্পের বাস্তব রূপায়ণ সম্ভব নয়। স্কুল খোলার পরেই সকলের সঙ্গে আলোচনা করে এই কাজ করা হবে।