School Education Department

রাজ্যে ‘স্টেট কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক’! বিজ্ঞান-ইতিহাসের পাঠ্যক্রম থেকে পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের ইঙ্গিত

একেবারে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে ‘স্টেট কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক’। বছর খানেক আগে কেন্দ্রের তৈরি ‘ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরিতে পশ্চিমবঙ্গের অবদান থাকলেও কোনও এক আজানা কারণে এই রাজ্যের ফ্রেম ওয়ার্কই তৈরি করা হয়ে ওঠেনি। কেন্দ্রের তরফে একের পর এক সুপারিশ করা হলেও তা কার্যত ফাইল বন্দি হয়েই থেকেছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ১৭:০৫

— প্রতীকী চিত্র।

স্কুল শিক্ষায় কি বড় বদল আনতে চলেছে রাজ্য সরকার! এ প্রশ্ন ঘোরাফেরা করছে শিক্ষামহলেই। সূত্রের খবর, পরীক্ষা পদ্ধতি থেকে মূল্যায়ন, পাঠ্যক্রম বা সম্পূর্ণ শিক্ষাধারাতেই পরিবর্তন হতে।

Advertisement

দীর্ঘ দিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল, বছরের পর বছর কেন্দ্রের সুপারিশ নেড়েচেড়ে দেখেনি রাজ্য সরকার। এ বার সেই সব ফাইলই প্রকাশ্যে আসতে চলেছে বলে দাবি এক স্কুল শিক্ষা দফতরের এক কর্তার।

সূত্রের খবর, একেবারে প্রশাসনিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে তৈরি হচ্ছে ‘স্টেট কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক’। বছর খানেক আগে কেন্দ্রের তৈরি ‘ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক’ তৈরিতে পশ্চিমবঙ্গের অবদান থাকলেও কোনও এক আজানা কারণে এই রাজ্যের ফ্রেম ওয়ার্কই তৈরি করা হয়ে ওঠেনি। কেন্দ্রের তরফে একের পর এক সুপারিশ করা হলেও তা কার্যত ফাইল বন্দি হয়েই থেকেছে। এ বার সে সবের বাস্তবায়নে উদ্যোগী হয়েছে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। ইতিমধ্যে প্রশাসনিক স্তরে তৎপরতা শুরু হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।

কী এই ফ্রেম ওয়ার্ক?

দফতরের এক কর্তা জানান, বছর খানেক আগে কেন্দ্রীয় সরকার গোটা দেশের জন্য একটি ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করতে চেয়েছিল। অর্থাৎ আগামী দিনে কী রকম হবে পঠনপাঠন পদ্ধতি বা পরীক্ষা পদ্ধতি হবে, তার রূপরেখা তৈরি হবে। পাশাপাশি গোটা প্রক্রিয়াকে কতটা বিজ্ঞানসম্মত এবং আধুনিক করে তোলা যায়, তা নিয়ে ভাবনা চিন্তা শুরু হয়েছিল। সেই লক্ষ্যে প্রায় সব রাজ্যের কাছেই সুপারিশ চেয়ে পাঠিয়েছিল কেন্দ্র। বিজ্ঞান, ভাষা-সাহিত্য থেকে শুরু করে খেলাধুলার মতো প্রায় ২৫টি বিষয়ের সুপারিশ চেয়েছিল কেন্দ্র। পশ্চিমবঙ্গ-সহ সব রাজ্য সেই সুপারিশ পাঠায়।

এ রাজ্যের প্রায় ১৫০ জন শিক্ষাবিদ ও শিক্ষাব্রতীর পরামর্শ সেই সুপারিশে পাঠানো হয়। তার ভিত্তিতে তৈরি হয় এনসিএফ বা ‘ন্যাশনাল কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক’। এর ভিত্তিতে অধিকাংশ রাজ্যই এসসিএফ বা স্টেট কারিকুলাম ফ্রেমওয়ার্ক তৈরি করে। সে জন্য প্রতিটি রাজ্যেই পৃথক চারটি স্টিয়ারিং কমিটি তৈরির কথা ছিল। একটি এসসিএফ ফর স্কুল এডুকেশন, এসসিএফ ফর অ্যাডাল্ট এডুকেশন, এসসিএফ ফর আর্লি চাইল্ড কেয়ার ইন এডুকেশন এবং এসসিএফ ফর টিচার্স এডুকেশন।

কিন্তু এর কোনটিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তৈরি করেনি বলে স্কুল শিক্ষা দফতরের এক কর্তা। কেন তা করা হয়নি, তা-ও জানা যায়নি।

এই ফ্রেম ওয়ার্ক কেন জরুরি?

বিকাশ ভবনের এক কর্তা জানান, শিক্ষার সার্বিক কাঠামো ঠিক করে দিতে পারে এই ব্যবস্থা। পরীক্ষা পদ্ধতিতে সেমেস্টার পদ্ধতি আদৌ যুক্ত হবে কি না— তা খতিয়ে দেখবে বিশেষ কমিটি। কোন ক্লাসের পড়ুয়াদের কোন বিষয়ের কতটুকু পড়ানো হবে, তা-ও স্থির করে দেবে এসসিএফ। বিজ্ঞান, ইতিহাসের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়ের উপরে বেশি জোর দেওয়া হবে, নতুন করে তা ভাবা হচ্ছে বলে দাবি।

তবে ২০২৬ সালে আর কোনও বড় পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। পরিবর্তন হলেও ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকেই নতুন প্রক্রিয়া চালু হওয়ার সম্ভাবনা।

Advertisement
আরও পড়ুন