West Bengal Higher Education Department

কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে বজায় রাখতে হবে নিয়ম শৃঙ্খলা, কাজে কোনও ফাঁকি নয়, শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করতে উদ্যোগী দফতর

রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই স্কুল ও উচ্চশিক্ষায় বেশ কিছু পরিবর্তন করতে উগ্যোগী হয়েছে। তার মধ্যেই সম্প্রতি সরকারের নির্দেশে কিছু বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নানা আলোচনা শুরু করেছেন দফতরের কর্তারা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ১৪:১৫

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

কলেজে বজায় রাখতে হবে সব ধরনের নিয়ম শৃঙ্খলা। সঠিক সময়ে ক্লাসে আসতে হবে শিক্ষকদের, এই বার্তার পাশাপাশি আর্থিক সহায়তার জন্য কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পারমর্শ দিল উচ্চশিক্ষা দফতর। সম্প্রতি রাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং রেজিস্ট্রারের সঙ্গে বৈঠকে সরকারের তরফ থেকে উচ্চশিক্ষা দফতরের কর্তারা এই বার্তাই দিয়েছেন বলে খবর।

Advertisement

বিকাশ ভবন সূত্রে খবর, রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই স্কুল ও উচ্চশিক্ষায় বেশ কিছু পরিবর্তন করতে উদ্যোগী হয়েছে। নির্বাচিত বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে শিক্ষা দফতরের কর্তাদের বৈঠকে যে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেগুলির উপরেও বিশেষ ভাবে জোর দেওয়া হচ্ছে। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তার মধ্যেই সরকারের নির্দেশে কিছু বিষয় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নানা আলোচনা শুরু করেছেন দফতরের কর্তারা।

সম্প্রতি এক বৈঠকে যে সব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, বহু বছর ধরেই এরকম অভিযোগ রয়েছে যে সঠিক সময়ে একাংশের শিক্ষক ক্লাসে যান না। পড়ুয়ারা অপেক্ষা করে থাকলেও শিক্ষকের অভাবে সেই ক্লাস করতে পারেন না পড়ুয়ারা। আবার উল্টোটাও দেখা গিয়েছে যে, শিক্ষকেরা ক্লাসে গেলেও অনেক পড়ুয়া অনুপস্থিত থাকেন। সে কারণে প্রথমেই কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়ম শৃঙ্খলা রক্ষার উপরে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।

বিকাশ ভবনের এক কর্তা বলেন, ‘‘সঠিক সময়ে শিক্ষকেরা যেন কলেজে আসেন এবং ক্লাসেও যান, সেই বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে সচেষ্ট হতে হবে। শিক্ষাকর্মীদের হাজিরার সঙ্গে পড়ুয়াদের হাজিরার বিষয়েও নজর রাখতে হবে কর্তৃপক্ষকে।’’ দফতরের কর্তারা সরকারের ভাবনার কথা স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেন। স্পষ্ট ভাবে জানানো হয় যে, সেই দায়িত্ব নিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই।এ ছাড়া, শিক্ষকদের মতে যে সমস্যাটি সব থেকে বেশি উচ্চশিক্ষাকে বিপর্যস্ত করেছে সেটা হল অর্থাভাব। কেন্দ্রের বা রাজ্যের থেকে আর্থিক সহায়তার উপরেই নির্ভর করে থাকে বহু গবেষণার কাজ। কিন্তু বেশ কয়েক বছর ধরে সেখানেও ভাটা ছিল বলে অভিযোগ শিক্ষকদের। কারণ, বিগত তৃণমূল সরকার কেন্দ্রের বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে পিএম অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর নাম যুক্ত থাকার জন্য সেই প্রকল্পে যোগ দেয়নি। এ বারে দফতর থেকে সাফ জানানো হয়েছে যে কেন্দ্রের এই প্রকল্পগুলির সঙ্গে সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজকে যুক্ত হতে হবে। তার ফলে আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলে গবেষণার ক্ষেত্রে পড়ুয়ারা উপকৃত হবেন বলেই মত।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক স্পষ্ট বলেন, ‘‘ কলেজগুলিতে ক্লাস স‌ংক্রান্ত বিষয়ে শিক্ষক ও পড়ুয়া, উভয়ের দিক থেকেই সমস্যা রয়েছে। কর্তৃপক্ষের উচিত এই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করা। শিক্ষার পরিবেশ সুষ্ঠু ভাবে বজায় রাখতে হলে শিক্ষক, পড়ুয়া ও কর্তৃপক্ষ, সব পক্ষকেই সচেষ্ট হতে হবে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন