(বাঁ দিকে) শুভেন্দু অধিকারী। আর এন রবি (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
রাজ্য মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ নিয়ে জোর তৎপরতা শুরু হয়েছে। সেই আবহেই বুধবার লোক ভবনে রাজ্যপাল রবীন্দ্র নারায়ণ রবির সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আসন্ন বাজেট অধিবেশনের আগেই পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করার লক্ষ্যেই এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বুধবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ লোক ভবনে পৌঁছোন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে রাজ্যপাল আর এন রবির সঙ্গে প্রায় ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে বেলা সওয়া ১টা নাগাদ লোক ভবন থেকে বেরিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। যদিও বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে যে, খুব শীঘ্রই রাজ্যে বিজেপি সরকারের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হতে চলেছে। চলতি সপ্তাহে নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হতে পারে। রাজ্যপাল তাদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
উল্লেখ্য, গত ৯ মে রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, ক্ষুদিরাম টুডু, নিশীথ প্রামাণিক এবং অশোক কীর্তনীয়া। তবে সেই সময় পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করা সম্ভব হয়নি। এর পর থেকেই কবে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছিল।
রাজ্য বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে একাধিক বিষয় মাথায় রাখতে হচ্ছে দলকে। বর্তমানে বিজেপির ২০৭ জন বিধায়ক থাকলেও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিধায়কের সংখ্যা তুলনামূলক ভাবে কম। পাশাপাশি, প্রত্যেক জেলা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চাইছেন রাজ্য নেতৃত্ব। সেই কারণেই মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে ধীরে এগোচ্ছে বিজেপি।
দলীয় সূত্রের দাবি, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু এবং রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য দিল্লি গিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য রূপরেখা এবং নতুন মন্ত্রীদের নাম নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এর পরেই রাজ্যে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া আরও দ্রুত এগোতে শুরু করেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী ২২ জুন বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হওয়ার কথা। তার আগে প্রশাসনিক দায়িত্ব ভাগ করে দিতে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন মুখ্যমন্ত্রী। কারণ বাজেট পেশের সময় বিভিন্ন দফতরের মন্ত্রীদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন হয়। সেই কারণেই বাজেট অধিবেশনের আগেই নতুন মন্ত্রীদের শপথ করানো হতে পারে বলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
অন্য দিকে, সম্ভাব্য নতুন মন্ত্রীদের নাম নিয়েও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। উত্তরবঙ্গ, জঙ্গলমহল ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা থেকে প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দিকেও নজর রাখা হচ্ছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। পাশাপাশি, সংগঠনে দীর্ঘ দিন কাজ করা অভিজ্ঞ নেতাদেরও মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হতে পারে। সব মিলিয়ে লোক ভবনে রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীর দীর্ঘ বৈঠকের পর রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ নিয়ে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। বাকিটা সরকারি ভাবে ঘোষণা হওয়ার অপেক্ষা।