TMC Councilor

কলকাতার বরো চেয়ারম্যানের পদ ছাড়লেন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ, পুরসভার পদ ছেড়ে দিলেন অরূপ চক্রবর্তীও

বুধবার দুপুরে সুশান্ত এবং অরূপকে প্রায় এক সঙ্গেই পুরসভায় আসতে দেখা যায়। কী কারণে তাঁরা হঠাৎ পুরসভায় তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। তবে পরে জানা যায়, বরো চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিতে এসেছেন সুশান্ত। এ ছাড়া, পুরসভার অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দিলেন অরূপ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ১৪:০৩
TMC Councilor Sushanta Ghosh and Arup Chakraborty resign their post

(বাঁ দিকে) সুশান্ত ঘোষ এবং অরূপ চক্রবর্তী (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

কলকাতা পুরসভার ১২ নম্বর বরোর চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুশান্ত ঘোষ। বুধবার কলকাতার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন তিনি। সুশান্তের সঙ্গে ছিলেন তৃণমূলের আর এক কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী। তাঁকেও পুর কমিশনারের ঘরে যেতে দেখা যায়। তিনিও পুরসভার পদ থেকে ইস্তফা দেন।

Advertisement

বুধবার দুপুরে সুশান্ত এবং অরূপকে প্রায় এক সঙ্গেই পুরসভায় আসতে দেখা যায়। কী কারণে তাঁরা হঠাৎ পুরসভায় তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। তবে পরে জানা যায়, বরো চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিতে এসেছেন সুশান্ত। এ ছাড়া, পুরসভার অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্য পদ থেকে ইস্তফা দেন অরূপ। পরে মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ঘরে গিয়েও পদত্যাগপত্র জমা দেন দু’জনে। সুশান্ত ১০৮ নম্বর এবং অরূপ ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। পুরসভার পদ থেকে ইস্তফা দিলেও কাউন্সিলর পদ যে তাঁরা ছাড়ছেন না সে কথা দু’জনেই জানিয়ে দিয়েছেন।

পরে সাংবাদিক বৈঠক করে অরূপ বলেন, ‘‘ভোটে এই ফল কাম্য ছিল না। তবে মানুষের রায়কে মাথা পেতে নিতে হবে। হার স্বীকার করতে না-পারলে আগের জয় মিথ্যা হয়ে যায়। দলের কর্মীরা এখন বিপদে। এত দিন যাঁরা মন্ত্রী ছিলেন, যাঁরা এত দিন সুবিধা নিয়েছিলেন, তাঁরা এখন কোথায়?’’ একই সুর শোনা যায় সুশান্তের গলাতেও। তাঁরা জানান, মানুষ চাইলে কাউন্সিলর পদও ছেড়ে দেব।

দিন কয়েক আগে একই পথে হাঁটেন কলকাতা পুরসভার ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবলীনা বিশ্বাস। তিনি ৯ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সনের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন। তাঁর ইস্তফাপত্র প্রকাশ্যে এসেছিল। দেবলীনা কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়ের কাছে ইস্তফাপত্র পাঠিয়েছিলেন। তৃণমূল সূত্রে খবর, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে দলের ভরাডুবির জেরেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দেবলীনা।

গত বছর ১৫ নভেম্বর নিজের বাড়ির সামনেই সুশান্তকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর চেষ্টা করেন এক আততায়ী। আততায়ী স্কুটারে চেপে এসেছিলেন। কিন্তু গুলি না-চলায় প্রাণে বাঁচেন সুশান্ত। পরে স্কুটারচালক পালিয়ে গেলেও সুশান্ত এবং তাঁর অনুগামীরাই ধরে ফেলেন ওই শুটার যুবরাজ সিংহকে। পরে ধরা পড়েন ‘মূল ষড়যন্ত্রকারী’ আফরোজ় খান ওরফে গুলজ়ার, আহমেদ আলি নামে এক ট্যাক্সিচালক, ঘটনার ‘অন্যতম মূলচক্রী’ ফুলবাবু এবং আলি। বরো চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সেই পুরনো ঘটনার তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তুললেন সুশান্ত। তিনি মনে করেন, তদন্ত সঠিক পথে হয়নি। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে সুশান্তের অনুরোধ, যাতে ওই গুলিকাণ্ডের সঠিক তদন্ত হয়।

রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের ছোট-মেজো-বড় অনেক নেতাই ‘বেসুরো’! তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বৈঠকও এড়িয়ে যাচ্ছেন অনেকে। কেউ কেউ প্রকাশ্যেই দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। দলীয় পদ ছাড়তে শুরু করেছেন অনেকে। এ বার পুরসভার পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সুশান্ত-অরূপ।

Advertisement
আরও পড়ুন