Security

অনুব্রত, কাজলের নিরাপত্তায় কাটছাঁট! পাইলট, হোম গার্ড প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত, তালিকায় রাজ্যের প্রাক্তন এক মন্ত্রীও

মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দেন, যদি কোনও রাজনীতিকের জীবনের প্রকৃত ঝুঁকি না-থাকে তবে তাঁকে অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়া হবে না।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৭ মে ২০২৬ ১৪:০৮
Decision to reduce security of Anubrata Mondal, Kajal Sheikh and Chandranath Sinha

(বাঁ দিকে) অনুব্রত মণ্ডল, কাজল শেখ (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।

এ বার অনুব্রত মণ্ডল, কাজল শেখের নিরাপত্তা কাটছাঁট করল জেলা পুলিশ প্রশাসন। এত দিন তাঁদের ঘিরে থাকত বিশেষ নিরাপত্তা বলয়। তবে এ বার আর থেকে আর থাকবে না। পাইলট, এসকর্ট বা বাড়ির বাইরে থাকা নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, মঙ্গলবার রাত থেকেই অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। অনুব্রত, কাজল ছাড়াও রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বোলপুরের তৃণমূল বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহের নিরাপত্তাতেও কাটছাঁট করা হচ্ছে।

Advertisement

বীরভূমের রাজনীতিতে অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসাবে পরিচিত অনুব্রত। বীরভূমে তৃণমূলের কোর কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। বোলপুরের নিচুপট্টিতে তাঁর বাড়িতে ২৪ ঘণ্টা মোতায়েন থাকত পুলিশবাহিনী। রাজনৈতিক সভা, দলীয় কর্মসূচি বা ব্যক্তিগত যাতায়াত— সব সময়ই পুলিশ ঘিরে থাকত কেষ্টকে। কিন্তু রাজ্যে পালাবদলের পরই কোপ পড়ল তাঁর নিরাপত্তায়। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে অনুব্রতের সঙ্গে থাকবেন মাত্র এক জন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী। তুলে নেওয়া হয়েছে পাইলট এবং এসকর্টের ব্যবস্থাও।

অনুব্রতের সঙ্গে হাসনের বিধায়ক কাজলের নিরাপত্তা একই ভাবে কাটছাঁট করা হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, তাঁর নিরাপত্তায় এখন থেকে থাকবেন শুধু তিন জন সশস্ত্র রক্ষী। চন্দ্রনাথের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর বাড়িতেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন ছিল। বর্তমানে বিধায়ক হিসাবে তাঁকে দেওয়া হয়েছে দু’জন সশস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী।

প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বিভিন্ন তৃণমূল নেতার নিরাপত্তা পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেই আবহেই বীরভূমের এই তিন নেতার নিরাপত্তায় রদবদল করা হয়েছে। যদিও গোটা বিষয় নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি তিন নেতা।

উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠক থেকে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দেন, কোনও রাজনীতিকের জীবনের প্রকৃত ঝুঁকি না-থাকে, তবে তাঁকে অপ্রয়োজনীয় নিরাপত্তা দেওয়া হবে না। এ-ও প্রশ্ন তোলেন, শুধুমাত্র প্রভাব বা মর্যাদা প্রদর্শনের জন্য কেন সরকারি অর্থ ব্যয় করা হবে? তার পর থেকেই একে একে বেশ কয়েক জন প্রথম সারির তৃণমূল নেতার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কাটছাঁট করা হয়।

Advertisement
আরও পড়ুন