singur movement

ইতিহাস পাঠ্য থেকে বাদ পড়ুক ‘সিঙ্গুর আন্দোলন’! বিজেপি সরকার গঠনের পরেই দাবি শিক্ষকদের

২০১১-এ রাজ্যে ৩৪ বছরের বাম শাসনের পরে তৃণমূল ক্ষমতায় ফেরে। তার পরই পাঠ্যক্রম পরিবর্তন শুরু হয়। ২০১৬ নাগাদ অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের ‘অতীত ও ঐতিহ্য’ নামক বইয়ে সিঙ্গুর আন্দোলনের ইতিহাস রয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১১ মে ২০২৬ ১৮:১০

ছবি: সংগৃহীত।

১৫ বছরের ব্যবধানে রাজ্যে বদলে গিয়েছে ক্ষমতার সমীকরণ। এ বার দাবি উঠছে পুরনো নানা বিধি পরিবর্তনের। তার মধ্যে অন্যতম হয়ে উঠেছে মধ্য শিক্ষা পর্ষদের কিছু পাঠ্যক্রম বদলের দাবিও।

Advertisement

রাজ্যের সরকার ও সরকার পোষিত স্কুলগুলিতে অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস পাঠ্যক্রম থেকে সিঙ্গুর আন্দোলন বিষয়ক অধ্যায় বাদ দেওয়ার জন্য স্কুলশিক্ষা দফতরে আবেদন জানিয়েছেন শিক্ষকেরা। সোমবার বিকাশ ভবনে শিক্ষা দফতরে স্মারকলিপি জমা দেন বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির প্রতিনিধিরা।

শিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, ২০১১-এ রাজ্যে ৩৪ বছরের বাম শাসনের পরে তৃণমূল ক্ষমতায় ফেরে। তার পরই পাঠ্যক্রম পরিবর্তন শুরু হয়। ২০১৬ নাগাদ অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের ‘অতীত ও ঐতিহ্য’ নামক বইয়ে সিঙ্গুর আন্দোলনের ইতিহাস রয়েছে। সেখানে ওই আন্দোলনের বিষয়বস্তু-সহ তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ও নাম রয়েছে। উল্লেখ রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে ২০১৬ সিঙ্গুর জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত মামলায় রাজ্য সরকারের জয়ের।

সেই সময় থেকেই বিরোধীদের নিশানায় ছিল এই পাঠ্যাংশটি। বিভিন্ন বিরোধী দলগুলি প্রতিবাদ করেছিল। এ বার রাজ্যে ফের পালা বদল হয়েছে। বিজেপি সরকার গঠনের পরে প্রথম কাজের দিনেই সিঙ্গুর আন্দোলনের এই অংশটিকে বাদ দেওয়ার দাবি তুললেন শিক্ষকেরা।

সংগৃহীত ।

সংগৃহীত ।

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের দাবি, “সিঙ্গুর থেকে টাটা বিদায়ের ফলে শিল্পমহলে এ রাজ্যের ভাবমূর্তি তলানিতে ঠেকেছে। অথচ, তাকে ইচিবাচক ভাবে পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। এই বিকৃত ইতিহাস অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। সে কারণে স্কুলশিক্ষা দফতরে এই আবেদন করা হয়েছে। ’’

নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাস বলেন, ‘‘তৃণমূল সরকারের কাছে এই বিষয়ে কমপক্ষে ১৫ বার স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনও ভাবেই এই অধ্যায় ইতিহাসের বই থেকে বাদ দেওয়া হয়নি। সিঙ্গুর আন্দোলন কোনও ভাবেই ইতিহাসে ঠাঁই পায় না। তাই আমাদের দাবি, পাঠ্যবই থেকে তা বাদ দেওয়া হোক।’’

Advertisement
আরও পড়ুন