Postal Ballot

তালিকায় নাম নেই ভোটকর্মীদের! পোস্টাল ব্যালট জমা দেওয়া গেল না, অভিযোগ কমিশনে

পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের ভগৎ সিংহ মোড়ের কাছে একটি বেসরকারি স্কুলে ভোটকর্মীদের চূড়ান্ত প্রশিক্ষণ চলছিল। সেখানেও পোস্টাল ব্যালট জমা নেওয়ার কাজ চলছিল। অভিযোগ, ছোট্ট একটি ঘরের মধ্যে তিনটি বিধানসভা এলাকার ভোটকর্মীদের জমায়েত করে ভোট নেওয়া হচ্ছিল। অব্যবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছয়, অনেকেই ভোট না দিয়ে বেরিয়ে যান।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:২৩

— প্রতীকী চিত্র।

যাঁদের উপরে ভোট পরিচালনার দায়িত্ব তাঁরাই পারলেন না ভোট দিতে। কারণ তালিকায় তাঁদের নামই নেই! এমনই অভিযোগ উঠল বিভিন্ন জেলায়।

Advertisement

পশ্চিম মেদিনীপুর, দুর্গাপুর-আসানসোলের একাধিক কেন্দ্রে ভোটকর্মীরা চূড়ান্ত প্রশিক্ষণে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানেই উঠল অব্যবস্থার অভিযোগ। রাজ্যে প্রথম দফার ভোট আগামী ২৩ এপ্রিল। উত্তরবঙ্গ এবং পশ্চিমের জেলাগুলিতে ভোটকর্মীদের প্রশিক্ষণ পর্ব প্রায় শেষ। বুধ এবং বৃহস্পতিবার শেষ প্রশিক্ষণের দিনে ফর্ম ১২-এর মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালট জমা দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করার কথা দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের। কিন্তু অভিযোগ, বহু ভোটকর্মীর নাম পোস্টাল ব্যালটের তালিকায় নেই। তাই তাঁরা ভোটই দিতে পারলেন না।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাথমিক স্কুল শিক্ষক জানান, পশ্চিম মেদিনীপুরের বসন্তপুর তেলিপুকুর এলাকার একটি স্কুলে তাঁদের দ্বিতীয় দফার প্রশিক্ষণ ছিল। তিনি বলেন, ‘‘আমরা বেশ কয়েকজন ভোটকর্মী পোস্টাল ব্যালট জমা দিতেই পারলাম না। দু’দফায় প্রশিক্ষণ নিয়েছি, এর পর ভোট পরিচালনাও করব। অথচ, আমরাই ভোট দিতে পারলাম না!” ওই শিক্ষকের দাবি, তাঁদের দিয়ে একবার ফর্ম-১২ এবং একবার ফর্ম ১২-এ পূরণ করানো হয়েছে। অথচ, শেষ পর্যন্ত তাঁদের নামই ওঠেনি তালিকায়। ওই শিক্ষকের দাবি, অন্য দিনে তাঁদের ভোট নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যদিও সেটা কতটা বাস্তব সম্মত সেটা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন ভোটকর্মীরা।

পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরের ভগৎ সিংহ মোড়ের কাছে একটি বেসরকারি স্কুলে ভোটকর্মীদের চূড়ান্ত প্রশিক্ষণ চলছিল। সেখানেও পোস্টাল ব্যালট জমা নেওয়ার কাজ চলছিল। অভিযোগ, ছোট্ট একটি ঘরের মধ্যে তিনটি বিধানসভা এলাকার ভোটকর্মীদের জমায়েত করে ভোট নেওয়া হচ্ছিল। অব্যবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছয়, অনেকেই ভোট না দিয়ে বেরিয়ে যান। এক ভোট কর্মী বলেন, ‘‘আসানসোল উত্তর, কুলটি ও বারাবনি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ করা হচ্ছিল। লাইনে দাঁড়াতে গিয়ে কার্যত ঠেলাঠেলি শুরু হয়। পাশের ঘরগুলিতেও একই অবস্থা। অনেক ভোটকর্মীই বিরক্ত হয়ে বেরিয়ে গিয়েছেন।’’

ভোট দিতে না পারায় ইতিমধ্যে রাজ্য নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছে শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের ভোটকর্মী শাখা। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, ‘‘ভোটকর্মীদের ভোটই সুরক্ষিত নয়। অনেকের নাম নেই, ভোট কেন্দ্রে সমস্যার জন্য অনেকে ভোট দিতে পারছেন না। সেখানে সাধারণ ভোটারের মধ্যে কী ভাবে নির্বাচনের প্রতি আস্থা থাকবে, সেটাই প্রশ্ন।’’

কোনও কোনও শিক্ষক প্রশ্ন তুলছেন, পোস্টাল ব্যালট ভোট সুরক্ষিত ও নির্বিঘ্নে করার জন্য কমিশনের বেশ কয়েক দফা নির্দেশিকা দিয়েছিল। এমনকি কোথাও কোনও গোপনীয়তা ভঙ্গ হওয়ার অভিযোগ উঠলে শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারেও বলে জানিয়েছিলেন কমিশনের এক কর্তা। কিন্তু এ দিন জেলার বিভিন্ন জায়গার যে সব অভিযোগ উঠল তার জেরে ফের প্রশ্ন উঠছে কতটা নির্বিঘ্নে হতে চলেছে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন।

এ প্রসঙ্গে অবশ্য রাজনীতির কথাই তুলে আনছে বাম মনোভাবাপন্ন শিক্ষক সংগঠনগুলি। ভোটকর্মী ও বি এল ও ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলের দাবি, “সরকারপন্থী আধিকারিকেরা ইচ্ছে করেই এ সব করছেন। সরকারি কর্মীদের ভোট প্রতিষ্ঠান বিরোধী হবে, এ কথা বুঝতে পেরেই অব্যবস্থা তৈরি করা হয়েছে।” তাঁর দাবি, ইচ্ছা করেই বিরোধী ভোট কাটতে এ সব করা হচ্ছে। তাঁরা ফের ভোট গ্রহণের দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন মুখ্য নির্বচনী আধিকারিকের কাছে।

Advertisement
আরও পড়ুন