UG admission in Universities

স্নাতকে ভর্তির মাপকাঠি নির্ধারণের পথে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়, কল্যাণীর আস্থা সেরা চারেই, ম্যাকাউটে সরাসরি

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সেরা চারের পাশাপাশি বিষয় ভিত্তিক নম্বরকে গুরুত্ব দিচ্ছে। কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় অবশ্য আস্থা রাখছে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রাপ্ত সেরা চার নম্বরেই। আবার ম্যাকাউট প্রবেশিকা পরীক্ষার বদলে সরাসরি নম্বরের ভিত্তিতেই ভর্তি করতে চেয়ে শুরু করেছে আলোচনা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:০৮

— প্রতীকী চিত্র।

স্নাতক স্তরে ভর্তির মাপকাঠি ইতিমধ্যেই ঠিক করে ফেলেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। উচ্চ শিক্ষা দফতরে তা পাঠিয়েও দেওয়া হয়েছে। রাজ্যের অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলিও দ্রুত নীতি নির্ধারণে সচেষ্ট হয়েছে।

Advertisement

এই রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ২০০টি কলেজ রয়েছে মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ম্যাকাউট) অধীনে। ফলে তারা কী পদ্ধতিতে ভর্তি নিচ্ছেন সেটা জানতে আগ্রহী বহু পড়ুয়া। রাজ্যের অতি গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি হল ম্যাকাউট। এখানে যেমন প্রযুক্তির কোর্স অর্থাৎ অল ইন্ডিয়া কাউন্সিল ফর টেকনিক্যাল এডুকেশন (এআইসিটিই) অনুমোদিত কোর্স পড়ানো হয় তেমনই নন-এআইসিটিই কোর্সও পড়ানো হয়।

এআইসিটিই অনুমোদিত কোর্স পড়ার ক্ষেত্রে জয়েন্ট এন্ট্রান্সের প্রবেশিকা পরীক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু নন-এআইসিটিই বিষয়ের ক্ষেত্রে একটু অন্য রকম ভাবে ভাবনা চিন্তা চলছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী উপাচার্য তাপস চক্রবর্তী। তিনি জানান, বহুদিন ধরেই ‘কমন এন্ট্রান্স টেস্ট’ বা (সিইটি)-এর মাধ্যমে ম্যাকাউটের ইনহাউস এবং কলেজগুলিতে নন-এআইসিটিই কোর্সে ভর্তি নেওয়া হয়। পরে আসন সংখ্যা পূরণ না হলে উচ্চ মাধ্যমিকের নম্বরের ভিত্তিতে সরাসরি ভর্তি নেওয়া হয়। কিন্তু এ বারে সেই নিয়মের বদলে হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

উপাচার্য এ দিন জানান, প্রাথমিক ভাবে আলোচনা করা হয়েছে যে এই পরীক্ষা পদ্ধতি (সিইটি) যেমন ছিল তেমনই থাকবে, কিন্তু ভর্তির জন্য উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরকেই ভর্তির মাপকাঠি করা হবে। অর্থাৎ এ বার থেকে সিইটি না দিয়েই ম্যাকাউটে এবং কলেজগুলিতে সরাসরি নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তি হতে পারবেন পড়ুয়ারা। যদিও তিনি জানান এটা একেবারেই আলোচনার স্তরে রয়েছে। আগামী সপ্তাহেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘‘প্রবেশিকা পরীক্ষা দেরি করে নেওয়ার ফলে অনেক পড়ুয়া বাইরে চলে যায়। আমরা চাই তারা এ রাজ্যেই পড়াশোনা করুক। তাই সরাসরি নম্বরের ভিত্তিতে ভর্তি নেওয়ার চেষ্টাই করা হবে। তবে কোনও সিদ্ধান্ত এখনও চূড়ান্ত হয়নি।’’ কিন্তু ওই পরীক্ষা যেমন ছিল তেমনই থাকবে। কারণ বেশ কিছু স্কলারশিপ পেতে হলে প্রবেশিকা পরীক্ষা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তাই শুধুমাত্র ওই সব পড়ুয়াদের জন্য সিইটি থাকবে। তাঁরা মনে করলে সরাসরি ভর্তি হয়ে ফের ওই পরীক্ষা দিতে পারবেন। পাশ করলে স্কলারশিপ পাবেন, না হলে পাবেন না। কিন্তু তাঁদের ভর্তি নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না বলে জানান তিনি।

অন্য দিকে, রাজ্যের পশ্চিমে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেও প্রায় ৬৭টি কলেজে রয়েছে। সেখানেও অবশ্য ভর্তির পদ্ধতির রূপরেখা তৈরির জন্য তোড়জোড় চলছে। সূত্রের খবর, আগামী সপ্তাহেই বিস্তারিত ভাবে সব কলেজকে ভর্তির নিয়ম জানিয়ে দেওয়া হবে।

কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কল্লোল পাল অবশ্য বলেন, ‘‘২০২৪ সাল থেকেই আমাদের সব কলেজে অভিন্ন মেধা তালিকায় ভর্তি হয়। এ বারেও উচ্চ মাধ্যমিকে সেরা চারটি বিষয়ের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতেই স্নাতকে ভর্তি হওয়া যাবে।’’

তবে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে নিয়মটি কিছুটা ভিন্ন হয়েছে বলেই জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা। সে ক্ষেত্রে উচ্চ মাধ্যমিকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের নম্বর এবং সেরা চার নম্বর— দুইই যোগ্যতামান হিসেবে বিবেচিত হবে। যদি কোনও পড়ুয়া কোনও বিষয়ে অনার্স নিতে চান এবং সেই বিষয়ে সব থেকে বেশি নম্বর পান, তা হলে ওই নম্বর দু’বার যোগ হবে। তা যদি না হয়, তা হলে সেরা চারটি বিষয়ের নম্বরের পাশাপাশি বিবেচনা করা হবে ওই বিষয়ের নম্বরও। গত বুধবার উচ্চ শিক্ষা দফতরে এই রিপোর্টই পাঠিয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ।

Advertisement
আরও পড়ুন