গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম
সরকারি বিভাগে আমলা কিংবা আধিকারিক হওয়ার জন্য সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষায় পাশ করতেই হবে। তার পর মিলবে দেশের প্রশাসনিক বিভাগে যোগদানের সুযোগ। এ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের পরীক্ষায় প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হয় তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতাও। ওই যোগ্যতা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অনুমোদিত হওয়া আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে যাঁরা বিদেশের কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছেন, তাঁরাও বিশেষ শর্তে সিভিল সার্ভিসেস পরীক্ষার জন্য আবেদনের সুযোগ পেয়ে থাকেন।
কী ভাবে আবেদন করতে হয়?
বিদেশের কোনও বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মেডিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, কলা শাখার বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জনের পর পড়ুয়াদের এ দেশের প্রবেশিকা দেওয়ার জন্য ইউজিসি-র অনুমোদন সংগ্রহ করতে হয়। ইউজিসি বিদেশি ডিগ্রির শংসাপত্র, মার্কশিট খতিয়ে দেখার পর পড়ুয়াদের একটি সমতুল্যতার শংসাপত্র দেয়। ওই শংসাপত্রের মাধ্যমে বিদেশি ডিগ্রিকে আনুষ্ঠানিক বৈধতা দেওয়া হয়ে থাকে। তবে, যে প্রতিষ্ঠান থেকে পড়ুয়া ওই ডিগ্রি অর্জন করছেন, তা অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ান ইউনিভার্সিটিস (এআইইউ) স্বীকৃত হওয়াও আবশ্যক।
এ ক্ষেত্রে যাঁরা স্নাতক স্তরের চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষা দেওয়ার আগেই ইউপিএসসি-র সিভিল সার্ভিস দিতে চান, তাঁরা প্রিলিমস-এর জন্য আবেদনের সুযোগ পান। মেনস-এর পরীক্ষার আগে তাঁদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সমস্ত প্রমাণপত্র জমা দিতেই হবে।
২০২৬-এর পরীক্ষার আবেদনের ক্ষেত্রে আলাদা করে সমতুল্যতার শংসাপত্র আপলোড করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি, চলতি বছরে যাঁরা ওই শংসাপত্র জমা দিতে পারেননি, তাঁদের ইউজিসি-র আবেদনপত্রের প্রতিলিপি জমা দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে ইউপিএসসি। তবে, প্রিলিমস এবং মেন পরীক্ষার পরই তাঁদের ওই শংসাপত্র জমা দিতেই হবে। ওই নথি ছাড়া বিদেশি ডিগ্রিকে শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসাবে মান্যতা দেওয়া হবে না।
সাধারণত, আমেরিকা, কানাডা এবং ব্রিটেনের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি অর্জন করেছেন, এমন পড়ুয়ারা সিভিল সার্ভিসেস-এর জন্য আবেদন করে থাকেন। তবে, তাঁদের মধ্যে কতজন আমলা বা আধিকারিক হতে পেরেছেন, সেই সম্পর্কিত তথ্য ইউপিএসসি প্রকাশ করেনি।