WBJEE 2026

স্থির হয়নি রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্সের দিন, ফের আশঙ্কার কালো মেঘ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিতে

সাধারণত দ্বাদশের পরীক্ষা শেষ হলে এপ্রিল-মে মাসে জয়েন্ট এন্ট্রান্স আয়োজন করা হয়। গত বছর জয়েন্ট এন্ট্রান্স হয়েছিল ২৭ এপ্রিল। এ বছর ওই সময় বিধানসভা ভোট চলতে পারে। সে কারণে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা এগিয়ে আনা হয়েছে। অথচ, জয়েন্ট এন্ট্রান্স নিয়ে এখনও কোনও ঘোষণা হয়নি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:১৬
প্রতীকী চিত্র।

প্রতীকী চিত্র।

গত শিক্ষাবর্ষে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দু’মাস পর জয়েন্ট এন্ট্রান্সের ফলপ্রকাশ হয়েছিল। তার ফলে বহু পরীক্ষার্থীই ছিলেন উদ্বেগে। অনেকে সিদ্ধান্ত বদলে অন্য কোনও বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এমনকি রাজ্যের ইঞ্জনিয়ারিং কলেজগুলির তরফে অভিযোগ উঠেছিল, অপেক্ষাকৃত কম মেধার পড়ুয়ারাই ভর্তি হচ্ছেন। কারণ বাকিরা অন্য কোনও রাজ্যের কলেজে চলে গিয়েছিলেন সর্বভারতীয় জয়েন্টের ফলাফলের ভিত্তিতে। এ বছর সে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে চলেছে বলে আশঙ্কা করছে ওয়াকিবহালমহল।

Advertisement

হিসাব বলছে, প্রতি বছর জয়েন্টের ফলপ্রকাশের দিনই পরের বছরের পরীক্ষার দিনঘোষণা করা হয়। কিন্তু ২০২৫-এ তা হয়নি। সাধারণত দ্বাদশের পরীক্ষা শেষ হলে এপ্রিল-মে মাসে জয়েন্ট এন্ট্রান্স আয়োজন করা হয়। গত বছর জয়েন্ট এন্ট্রান্স হয়েছিল ২৭ এপ্রিল। এ বছর ওই সময় বিধানসভা ভোট চলতে পারে। সে কারণে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা এগিয়ে আনা হয়েছে। অথচ, জয়েন্ট এন্ট্রান্স নিয়ে এখনও কোনও ঘোষণা হয়নি। এমনকি, আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়াও শুরু করা যায়নি।

রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব নিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি গৌতম পাল। তিনি বলেন, “সময় মতো পরীক্ষা করানোই এখন আমার কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। সে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, আশা করছি দ্রুত ও সঠিক সময়ের মধ্যেই জয়েন্টের পরীক্ষা ও ফলপ্রকাশ করা সম্ভব হবে।”

শিক্ষকমহলের দাবি, ২০২৫ জয়েন্ট ফলপ্রকাশের দিন পরবর্তী বছরের পরীক্ষার দিনঘোষণা হয়নি। অথচ, সেই ঘোষণা আরও আগেই করা উচিত ছিল। কারণ এ বছর বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। তার উপর রয়েছে এসএসসি শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া। ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহেও শুরু করা যায়নি নবম-দশম শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের কাউন্সেলিং। মার্চের প্রথম দু’টি রবিবার পরীক্ষা নেওয়া হবে গ্রুপ-সি ও গ্রুপ-ডি নিয়োগের। মার্চেই অন্য নানা সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাও রয়েছে। মনে করা হচ্ছে তার মধ্যেই ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে যেতে পারে। এপ্রিলের শুরু থেকেই রাজ্যে আসতে পারে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ফলে বহু স্কুল, কলেজভবন তাদের আওতায় চলে যাবে।

শিক্ষকদের একাংশের দাবি, ভোট পর্ব শেষ হওয়ার আগে কোনও ভাবেই জয়েন্ট পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। আবার অন্য একটি অংশের দাবি, যদি কোনও ভাবে বোর্ড ভোটের আগে এপ্রিলের মধ্যে পরীক্ষা নিতে পারে, তা হলেও সমস্যার অন্ত থাকবে না। কারণ, প্রায় ৪০ শতাংশ পরীক্ষার্থী ভিন্‌ রাজ্য থেকে আসেন। তা ছাড়া, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও প্রায় একমাস সময় লাগে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে। তবে জানা গিয়েছে, কবে পরীক্ষা কবে হবে তা নিয়ে উচ্চশিক্ষা দফতরের সঙ্গে আলোচনাও শুরু হয়েছে বোর্ডের তরফে।

এ দিকে সর্বভারতীয় জয়েন্টে (মেন)-এর ফলঘোষণা হয়ে গিয়েছে। অ্যাডভান্সড-এর পরীক্ষা আয়োজিত হবে শীঘ্রই। শিক্ষকমহল মনে করছে এতে আরও একধাপ পিছিয়ে পড়বে রাজ্য।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর বিভাগীয় প্রধান স্বর্ণেন্দু সেন বলেন, “প্রত্যেক পরীক্ষার একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে। বিশেষ করে জয়েন্ট-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা সময় মতো না হলে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পক্ষে মেধাবী ছাত্রছাত্রী পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পরীক্ষার্থীদেরও ক্ষতি হবে।”

যত সময় যাবে ততই রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়ারা ভিন রাজ্যের দিকে চলে যাবেন বলে মনে করছেন শিক্ষামহল। আর ততই সমস্যা বাড়বে রাজ্যের সরকারি এবং বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির।

বেসরকারি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় সংগঠন আপাইয়ের সভাপতি তরণজিৎ সিং বলেন, “ভোটের আগে পরীক্ষা হওয়া নিয়ে সংশয় তো রয়েছে। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব চেয়ারম্যানের সঙ্গে।”

Advertisement
আরও পড়ুন