ছবি: এআই।
চিকিৎসা পরিষেবায় মেডিসিন সায়েন্স-এর জ্ঞানই যথেষ্ট নয়। বর্তমানে জটিল রোগ নির্ণয় এবং নিরাময়ের প্রক্রিয়ায় বিজ্ঞানের থিয়োরি এবং প্রযুক্তির সংযোজন হয়েছে। তাতেই স্পেশ্যালিস্ট হয়ে ওঠার জন্য একাধিক মাল্টিডিসিপ্লিনারি বিষয়ে চর্চার পরিসরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনই একটি বিষয় হল নিউক্লিয়ার মেডিসিন এবং মেডিক্যাল ফিজ়িক্স।
বিষয়টি কী?
‘রেডিয়োঅ্যাক্টিভ রে’ ব্যবহার করে রোগ নির্ণয় করার কাজ আগেই করা হত। বর্তমানে সেই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে রেডিয়েশন থেরাপি, নিউক্লিয়ার ইমেজিং পদ্ধতিতে রোগ নিরাময়, চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার কাজও করা হয়ে থাকে। এই বিষয়গুলি ছাড়া রেডিয়েশন সেফটি, রেডিয়োফার্মাসিও নিউক্লিয়ার মেডিসিন এবং মেডিক্যাল ফিজ়িক্স-এর পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত। মানুষের শরীরের যাবতীয় সমস্যা সমাধানের খুঁটিনাটিও ওই বিষয়ের অধীনে শেখানো হয়ে থাকে।
কারা পড়তে পারেন?
বিজ্ঞান বিভাগের অধীনে যাঁরা দ্বাদশ উত্তীর্ণ হয়েছেন, তাঁরা নিউক্লিয়ার মেডিসিন এবং মেডিক্যাল ফিজ়িক্স নিয়ে পড়াশোনা করতে পারেন। এ ছাড়াও উল্লিখিত বিষয়গুলি নিয়ে আলাদা করে ডিপ্লোমা করার সুযোগ রয়েছে। স্নাতক স্তরে পড়াশোনার জন্য দেশের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং মেডিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
— প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
এ ছাড়াও ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা বিজ্ঞান বিষয়ের স্নাতকেরা জয়েন্ট অ্যাডমিশন টেস্ট ফর মাস্টার্স (জ্যাম) উত্তীর্ণ হওয়ার পর এই বিষয় নিয়ে স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তি হতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে তাঁরা মাস্টার অফ সায়েন্স (এমএসসি) কোর্সের অধীনে বিষয় বিশেষজ্ঞ হওয়ার সুযোগ পাবেন। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে আইআইটি খড়্গপুরের স্কুল অফ মেডিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি-র তরফে ওই কোর্স চালু করা হবে। আগে এই বিষয়টি নিয়ে ওই প্রতিষ্ঠান থেকে পিএইচডি করার সুযোগ পাওয়া যেত।
এ ছাড়াও যাঁরা এমবিবিএস করেছেন, তাঁরা ডক্টর অফ মেডিসিন (এমডি) ডিগ্রি কোর্সের অধীনে উল্লিখিত বিষয়টি নিয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেয়ে থাকেন।
প্রবেশিকা এবং খরচ:
স্নাতক স্তরে ভর্তি হওয়ার জন্য বেশ কিছু প্রবেশিকা দিতে হয়। এর মধ্যে রয়েছে ন্যাশনাল টেস্ট ফর প্রোগ্রামস আফটার টুয়েলভথ (এনপ্যাট), কমন ইউনিভার্সিটি এন্ট্রান্স টেস্ট (কুয়েট)। এ ছাড়াও স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তি হওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলির তরফে আলাদা করে প্রবেশিকা নেওয়া হয়ে থাকে। এ ছাড়াও কিছু কিছু ক্ষেত্রে জ্যাম-এর ফলাফল যাচাই করে ভর্তি নেওয়া হয়।
সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে এই বিষয় নিয়ে পড়াশোনার জন্য বার্ষিক খরচ ৫ হাজার টাকা থেকে ১ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ওই খরচ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা থেকে ৫ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।