Mamata Delhi Visit

মুখ্যমন্ত্রীকে ‘অপমান’ প্রসঙ্গে নীরব! মমতা-সাক্ষাতের পর কমিশনের বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি: আইন ভাঙলেই কড়া ব্যবস্থা

বৈঠক মাঝপথে ‘বয়কট’ করে বেরিয়ে এসেছেন বলে দাবি করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, বৈঠকে তাঁরা যা প্রশ্ন করেছেন তার কোনও সদুত্তর মেলেনি। দুর্ব্যবহারের অভিযোগও করেন মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:১৭
Election Commission respond after Mamata Banerjee led TMC team visit

(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং জ্ঞানেশ কুমার (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।

দিল্লির নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতার বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ‘‘বৈঠকে আমাদের অপমান, অসম্মান করা হয়েছে।’’ শুধু তা-ই নয়, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে একের পর এক অভিযোগও করেছেন মমতা। তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর একটি বিবৃতি জারি করে কমিশন। তবে ‘অপমান, অসম্মানের’ অভিযোগ নিয়ে একটা কথা উল্লেখ নেই সেই বিবৃতিতে। উল্টে কমিশনের বিবৃতিতে রয়েছে আইনশৃঙ্খলার কথা। কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি।

Advertisement

বৈঠক মাঝপথে ‘বয়কট’ করে বেরিয়ে এসেছেন বলে দাবি করেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, বৈঠকে তাঁরা যা প্রশ্ন করেছেন তার কোনও সদুত্তর মেলেনি। দুর্ব্যবহারের অভিযোগও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে কমিশন তার বিবৃতিতে জানাল, তারা সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। কমিশন জানায়, মমতার নেতৃত্বে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল দেখা করেছে। পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর সংক্রান্ত তাদের কিছু প্রশ্ন ছিল, তা তুলে ধরেছে বৈঠকে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সব প্রশ্নেরই উত্তর দিয়েছেন।

তৃণমূলের অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি কমিশন স্পষ্ট জানায়, আইনের শাসন বজায় থাকবে। কেউ যদি আইন নিজের হাতে তুলে নেয়, তবে কমিশনের হাতে থাকা আইনগত ক্ষমতা এবং সংবিধান অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিবৃতিতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা সরব হয়েছে কমিশন। তাদের দাবি, তৃণমূলের বিধায়কেরা কমিশন বিশেষত মুখ্য কমিশনারের বিরুদ্ধে অশালীন এবং হুমকির ভাষা ব্যবহার করেন। ফরাক্কার তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলামের প্রসঙ্গ টেনেছে কমিশন। দিন কয়েক আগে মনিরুলের বিরুদ্ধে বিডিও অফিসে ঢুকে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। শুধু তা-ই নয়, প্রকাশ্য সভা থেকে কমিশনকে ‘কুরুচিকর’ মন্তব্য করা হয় বলে অভিযোগ মনিরুলের বিরুদ্ধে। নাম না-করে সেই প্রসঙ্গের উল্লেখ বিবৃতিতে করেছে কমিশন।

কমিশনের মতে, এসআইআর কাজে নিযুক্ত কর্তাদের উপর চাপ সৃষ্টি করা বা কাজে বাধা বা হস্তক্ষেপ উচিত নয়। পাশাপাশি কমিশনের অভিযোগ, বিএলও-দের সাম্মানিকের টাকা আটকে রেখেছে রাজ্য সরকার। অতীতেও এই অভিযোগ তুলেছে কমিশন। মমতার সঙ্গে সাক্ষাতের পর আবার একই অভিযোগ করল তারা।

মঙ্গলবার বিকেলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করেন মমতা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন দলের দুই সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বাকি ১২ জনের মধ্যে ছিলেন ‘এসআইআর ক্ষতিগ্রস্ত’রা। প্রায় এক ঘণ্টা দিল্লির নির্বাচন সদনে বৈঠক হয়। বৈঠকের পর নির্বাচন সদন থেকে বেরিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ‘‘আমি অনেক দিন দিল্লিতে রাজনীতি করেছি। মন্ত্রীও ছিলাম। কিন্তু এত দিনে এমন অহঙ্কারী নির্বাচন কমিশন দেখিনি।’’ মমতার অভিযোগ, বিজেপির ইশারায় কাজ করছে কমিশন।

Advertisement
আরও পড়ুন