‘প্রহৃত’ ভোটকর্মী সৈকত চট্টোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
ভোটের প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে তৃণমূল সরকারের প্রচার ভিডিয়ো নিয়ে প্রশ্ন তুলে যিনি মার খেয়েছিলেন বলে অভিযোগ, সেই প্রাথমিক শিক্ষকের বাড়িতে এ বার মাঝরাতে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠল।
নদিয়ার রানাঘাটে সৈকত চট্টোপাধ্যায় নামে ওই শিক্ষককে মারধরের অভিযোগে শুক্রবার রাতেই হাঁসখালি ব্লক অফিসের দুই কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। স্থানীয় পার্বতীপুর বাজারপাড়ার বাসিন্দা সৈকত ওই রাতে বাড়িতে থাকেননি। তাঁর মা লতিকা চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রাত আড়াইটে-তিনটে নাগাদ কয়েক জন তাঁদের বাড়ির জানলা ধাক্কাতে থাকে, সৈকতের নাম ধরে ডাকাডাকিও করে। তাঁর দাবি, “ওরা হুমকি দেয়— ছেলেকে বলবি মামলা তুলে নিতে, তা না হলে ফল খারাপ হবে।” শনিবার তিনি রানাঘাট থানায় অভিযোগ করেছেন। দুই ধৃত অবশ্য এ দিনই রানাঘাট আদালত থেকে জামিনে ছাড়া পেয়েছে।
স্থানীয় জিএসএফপি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সৈকত শুক্রবার রানাঘাট দেবনাথ ইনস্টিটিউশন ফর বয়েজ় স্কুলে ভোটের প্রশিক্ষণ নিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দিয়ে প্রচারের ভিডিয়ো দেখে নির্বাচনী বিধিভঙ্গের অভিযোগ তোলেন। প্রশিক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত হাঁসখালির বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্যের সঙ্গে তর্কাতর্কিতেও জড়ান তিনি। এর পরেই ব্লক অফিসের কয়েক জন কর্মী তাঁর উপরে চড়াও হন বলে অভিযোগ। তাঁর কপালের কাছে ফেটে রক্তারক্তি হয়। এ দিন সৈকত বলেন, “পরিবার নিয়ে আতঙ্কে রয়েছি।”
রানাঘাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কৃষ্ণগোপাল মিনা বলেন, “কী অভিযোগ হয়েছে, সে বিষয়ে পরে কথা বলব।” তবে নদিয়ার জেলাশাসক শ্রীকান্ত পাল্লীর বক্তব্য, “প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনকে জানানো হয়েছে। ব্লক অফিসের ওই দুই কর্মীকে নিলম্বিত করা হয়েছে। এর পরে কমিশন যেমন নির্দেশ দেবে, সেই মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”