—প্রতীকী চিত্র।
ভারতের বিরুদ্ধে এখনও সক্রিয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলির শক্ত ঘাঁটি পাকিস্তান। এমন তথ্যই উঠে এল আমেরিকার কংগ্রেসের রিপোর্টে। ওয়াশিংটন যখন ইসলামাবাদকে পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি সামাল দিতে ইরানের সঙ্গে মধ্যস্থতার কাজে ব্যবহার করছে, তখন তাদেরই প্রকাশিত এমন রিপোর্ট যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
আমেরিকার এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে বেশ কয়েকটি বড় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন সক্রিয় রয়েছে, যারা জম্মু-কাশ্মীর তো বটেই, সামগ্রিক ভাবেই ভারতের দিকে নজর রেখেছে এবং পাকিস্তানে তারা বেশ নিরাপদেই আছে। প্রসঙ্গত ১৫টি সন্ত্রাসী সংগঠনের বিস্তারিত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে ওই রিপোর্টে। সন্ত্রাসবাদের আখড়া পাকিস্তান যে নিজেও সন্ত্রাসবাদের শিকার, সে কথাও বলা হয়েছে ওই রিপোর্টে।
পহেলগাম হামলার পর একদিকে যেমন ‘অপারেশন সিঁদুর’ ঘটানো হয়েছিল, তেমনই গোটা বিশ্ব জুড়ে নানা দেশে সাংসদদের পাঠিয়ে ইসলামাবাদের আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের কথা প্রচারও করেছিল মোদী সরকার। কিন্তু আমেরিকার পক্ষ থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কোনও নিষেধাজ্ঞামূলক ব্যবস্থা নেওয়া তো দূরস্থান, সে দেশের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতেদেখা গিয়েছে আমেরিকারপ্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। তবে আমেরিকার কংগ্রেস কী ভাবে তাঁর এই পাকিস্তান-প্রীতির পাশে থেকেছে, তা স্পষ্ট হয়নি।
আমেরিকার প্রকাশিত রিপোর্টে ‘ভারত ও কাশ্মীর-কেন্দ্রিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলির’ ক্রমাগত হুমকির কথা উল্লেখ করে যে নামগুলি সামনে আনা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে লস্কর-ই-তইবা, জইশ-ই-মহম্মদ, হরকত-উল-জিহাদ ইসলামি, হরকত-উল-মুজ়াহিদিন, হিজবুল মুজ়াহিদিন। এর মধ্যে জইশ-ই-মহম্মদ নাকি ৫০০ কাশ্মীরি জঙ্গির হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। হিজবুল মুজ়াহিদিনের ১৫০০ জঙ্গি বাহিনীর কথা উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। পাক জঙ্গি সংগঠনগুলিকে পাঁচ ভাগে ভাগ করা হয়েছে সেখানে— বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস ছড়ানো সংগঠন, আফগানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন, কাশ্মীরভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী, ঘরোয়া জঙ্গি সংগঠন এবং শিয়া-বিরোধী জঙ্গি সংগঠন। উল্লেখিত ১৫টি জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে ১২টি আমেরিকার আইনে নিষিদ্ধ।
প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালে সন্ত্রাসবাদের জেরে পাকিস্তানে প্রাণ হারিয়েছেন ৪০০১ জন। গত ১১ বছরে সন্ত্রাসবাদের জেরে এটাই সর্বোচ্চ মৃত্যু। এ দিকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠীর মধ্যে আল-কায়দা এখনও পাকিস্তানে সক্রিয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইসলামিক স্টেটের আঞ্চলিক শাখা, আইএসকেপি সক্রিয়আছে পাকিস্তানে।
তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে সম্প্রতি আমেরিকার গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান তুলসী গ্যাবার্ড একটি প্রতিবেদন পেশ করে বলেছিলেন, পাকিস্তানকে আমেরিকার জন্য বিপদ হিসাবে দেখেন তিনি। তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র আমেরিকার জন্য বিপদবহ। আমেরিকার গোয়েন্দা প্রধানের আশঙ্কা, যদি কোনও ভাবে এই পারমাণবিক অস্ত্র চরমপন্থী বা জঙ্গি গোষ্ঠীর হাতে চলে যায়, তা হলে তা শুধু আমেরিকা নয়, গোটা বিশ্বের জন্য ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।