E-20

হরমুজ় সঙ্কটে ইথানল মিশ্রণ নীতি খুবই কার্যকরী! ই-২০ পদক্ষেপের প্রশংসা করে আখ চাষিদের ধন্যবাদ জানালেন মোদী

পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা এবং হরমুজ় প্রণালী ‘অবরুদ্ধ’ থাকার কারণে ভারতে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও ভারত সরকার বার বার আশ্বস্ত করছে, দেশে আপাতত প্রয়োজনীয় তেল এবং গ্যাস মজুত রয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ১০:৩৭
Ethanol blending to cut fuel imports, said by Prime Minister Narendra Modi amid West Asia conflict

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। — ফাইল চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ায় সংঘাত, আর তার জেরে তৈরি হওয়া জ্বালানি সঙ্কটের আবহে কেন্দ্রীয় সরকারের ইথানল মিশ্রণ নীতির প্রশংসা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি মনে করেন, এই নীতি ভারতকে আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের উপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করছে। একই সঙ্গে ইথানল উৎপাদনে মুখ্য ভূমিকা নেওয়া আখ চাষিদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোদী। উল্লেখ্য, উদ্বৃত্ত চিনি ও আখজাত কাঁচামাল থেকে ইথানল উৎপাদন করা হয়।

Advertisement

নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে মোদী ইথানল মিশ্রিত পেট্রলের প্রসঙ্গ তোলেন। তাঁর কথায়, ‘‘ইথানল মিশ্রণ না-থাকলে আমাদের অন্য দেশ থেকে সাড়ে চার কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল আমদানি করতে হত।’’ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ে ভারতের কৃষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন মোদী।

দূষণ ও তেলের আমদানি খরচ কমাতে আমেরিকা, ব্রাজ়িল-সহ বিভিন্ন দেশের মতো ভারতও পেট্রলে ইথানলের ভাগ বৃদ্ধির পথে হাঁটতে শুরু করেছে ২০২২ থেকে। আগে কেন্দ্র ঠিক করে দিয়েছিল, এক লিটার পেট্রলে ১০ শতাংশ ইথানল মেশাতে হবে। পরে সেই পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়। আগামী ১ এপ্রিল থেকে সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিতে ২০ শতাংশ ইথানল এবং ন্যূনতম ‘রিসার্চ অক্টেন নম্বর (আরওএন) ৯৫’-সহ পেট্রল বিক্রি বাধ্যতামূলক করেছে মোদী সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে এই পরিমাণ বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করার লক্ষ্যমাত্রা রেখেছে কেন্দ্র। গত জুলাইয়ে ভারতের পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক জানায়, বিগত ১০ বছরে ভারত আমদানিকৃত অপরিশোধিত তেলের উপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে প্রায় ১.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করেছে।

পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা এবং হরমুজ় প্রণালী কার্যত ‘অবরুদ্ধ’ থাকার কারণে ভারতে জ্বালানি সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও ভারত সরকার বার বার আশ্বস্ত করছে, দেশে আপাতত প্রয়োজনীয় তেল এবং গ্যাস মজুত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই পরিস্থিতিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। সেই কথা পুনর্ব্যক্ত করে মোদী বলেন, ‘‘আমি দেশের জনগণের কাছে আবারও আবেদন করছি, আমাদের অবশ্যই শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থেকে ধৈর্য ধরে সঙ্কটের মোকাবিলা করতে হবে। এটি বৈশ্বিক সঙ্কট, তবে আমাদের অবশ্যই ভারতের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। এটাই আমাদের বড় শক্তি।’’ তার পরেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘পূর্ণ শক্তি দিয়ে ভারত পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে উদ্ভূত প্রতিকূলতা মোকাবিলা করছে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন