IPL 2026

সমস্যা অনেক, সমাধান কম, চোটে জর্জরিত কেকেআর ভাল ফলের স্বপ্ন দেখছে বিদেশিদের জন্যই

গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর মিনি নিলাম শেষ হওয়ার খুশি ছিল কেকেআর দল। কয়েক মাস পর সেই হাসিই গিয়েছে মিলিয়ে। একাধিক ক্রিকেটার চোট পেয়ে ছিটকে গিয়েছেন। বিদেশিরাই এ বার আসল শক্তি কেকেআরের।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ১২:০৩
cricket

কেকেআর অধিনায়ক অজিঙ্ক রাহানে। ছবি: সমাজমাধ্যম।

গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর মিনি নিলাম শেষ হওয়ার পর হাসি চেপে রাখতে পারছিলেন না বেঙ্কি মাইসোর এবং অভিষেক নায়ার। কেকেআরের সিইও এবং কোচ বুঝে গিয়েছিলেন, দলে যাঁদের নেওয়া হয়েছে তাঁরা ট্রফি জেতানোর ক্ষমতা রাখেন। কয়েক মাস পর সেই হাসিই গিয়েছে মিলিয়ে। হর্ষিত রানার ছিটকে যাওয়া দিয়ে শুরু। এর পর আকাশ দীপ ছিটকে গিয়েছেন। মাথিশা পাথিরানাকে নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বোর্ডের নির্দেশে ছেড়ে দিতে হয়েছে মুস্তাফিজুর রহমানকে। কোনও দলের চার প্রধান বোলারই অনিশ্চিত হয়ে গেলে আর কী-ই বা পড়ে থাকে! কলকাতার অবস্থা হয়েছে তেমনই। যে দল ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছিল, তারাই এখন প্লে-অফে ওঠার কথা ভাবছে আগে।

Advertisement

চিন্তা বোলারেরাই

হর্ষিত, আকাশ এবং পাথিরানা মিলে অন্যতম সেরা বোলিং হতে পারত কেকেআরের। মুস্তাফিজুর থাকলে ডেথ ওভারের কথা ভাবতে হত না। সবই এখন অলীক স্বপ্ন। পাথিরানাকে তবু পরের দিকে পাওয়া যেতে পারে। বাকি তিন জনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম সম্ভাবনাও নেই। হর্ষিতের জায়গায় জ়িম্বাবোয়ের ব্লেসিং মুজ়ারাবানিকে নেওয়া হয়েছে। তিনি আইপিএলের মঞ্চে পরীক্ষিত নন। কতটা সাফল্য পাবেন তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।

তাই তরুণ বৈভব অরোরা, উমরান মালিকদের উপরে ভরসা করতে হবে কেকেআরকে। বৈভব এখনও সে ভাবে দাগ কাটতে পারেননি। উমরান কঠিন পরিস্থিতিতে প্রচুর রান দেন। বলে বৈচিত্র না আনলে দু’জনের পক্ষেই সাফল্য পাওয়া কঠিন। ফলে এই দু’জনকে দিয়ে বাজিমাত করা যাবে এমন স্বপ্ন দেখছেন না কেউই। মুজ়ারাবানি কতদূর কী করেন সেটাই দেখার। বরুণ চক্রবর্তী বিশ্বকাপে ১৪টি উইকেট পেলেও রান দিয়েছেন প্রচুর। তাঁকেও দ্রুত ফর্মে ফিরতে হবে।

রাসেলের অভাব মিটবে?

গত বছর রাসেলের ফর্ম খুবই খারাপ ছিল। প্রতিযোগিতার মাঝেই সমর্থকেরা দাবি তুলেছিলেন তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার। নিলামের আগেও রাসেলকে ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু কেকেআর রাসেলকে ছাড়েনি। রাসেল নিজেই খেলা ছেড়ে দিয়েছেন। তার পরেই কেকেআর তাঁকে বসিয়েছে ‘পাওয়ার কোচ’ নামক নতুন পদে। তবে অস্বীকারের জায়গা নেই, রাসেল যে ভূমিকা পালন করতেন তা খুব কম ক্রিকেটারই পারেন। দরকারের সময় ব্যাটে-বলে অনেক স্মরণীয় পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছেন। সেই শূন্যস্থান পূরণ করা কঠিন।

রাসেলের জায়গায় এ বার কেকেআর ২৫.২০ কোটি টাকা খরচ করে নিয়েছে ক্যামেরন গ্রিনকে। গত বছর গ্রিন আইপিএলে খেলেননি। তার আগের দুই বছর বেঙ্গালুরু এবং মুম্বইয়ের হয়ে খেলেছেন। ব্যাট-বল, দু’ভাবেই তিনি অবদান রাখতে পারেন। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে তাঁর ফর্ম খুবই খারাপ। অ্যাশেজ়ে খুবই খারাপ খেলেছেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে কিছু দিন আগে শতরান করেছেন বটে। তবে তা লাল বলের ক্রিকেটে। সাদা বলের ক্রিকেটে অনেক দিন পর ফিরে কী করতে পারেন সে দিকে তাকিয়ে অনেকেই। আইপিএলে ধরে খেলার জায়গা নেই। তাই গ্রিনকে শুরু থেকেই ফর্মের তুঙ্গে থাকতে হবে। তাঁর ব্যাটিং পজিশন এখনও ঠিক হয়নি। সেটাও একটা চিন্তা। সাধারণত গ্রিন ওপেনিংয়ে বা তিন নম্বরে নামেন। ওপেনিংয়ে জায়গা ভরাট থাকায় তিনে নামতে পারেন। তা হলে অঙ্গকৃশ রঘুবংশীকে নামতে হবে চারে। যদি গ্রিন ব্যর্থ হন তা হলে রভমান পাওয়েলকে দেখা যেতে পারে। দীর্ঘদেহী রভমান বড় শট খেলতে পারেন। তবে বোলিংয়ের হাত অতটাও ভাল নয়।

দলের কম্বিনেশন কী হবে?

কয়েক জন ক্রিকেটার বাদ গেলেও এখনও কেকেআরের হাতে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের অন্যতম সেরা। সমস্যা হল, এক জায়গায় খেলার মতো একাধিক ক্রিকেটার রয়েছেন। ফলে কাকে খেলানো হবে তা ভাবতে গিয়ে মাথার চুল ছিঁড়তে হচ্ছে নায়ার, রাহানেদের।

ফিন অ্যালেন, টিম সেইফার্ট, গ্রিন তিন জনেই প্রথম একাদশে থাকার জন্য। সেটা করতে হবে সুনীল নারাইনকে বাদ দিতে হবে। না হলে পাথিরানা বা মুজ়ারাবানির মতো পেসারকে খেলানো যাবে না। কেকেআরের হয়ে বছরের পর বছর নারাইনের যা রেকর্ড তাতে তাঁকে বসানোর কথা কেউ ভাবতেও পারবেন না। কঠিন সময়ে তিনিই তো রান আটকানোর আসল অস্ত্র। ফলে অ্যালেন বা সেইফার্টের মধ্যে একজনকে বাছতে হবে। তেমনই প্রথম একাদশে থাকার যোগ্য রাচিন রবীন্দ্রও। সম্ভবত প্রথম একাদশে তাঁকে রাখা হবে না।

দেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে থেকেও ঠিক ক্রিকেটার বেছে নেওয়া সমস্যার। বৈভব, উমরান, কার্তিক ত্যাগীর মতো দু’জনকে বাছতে হবে। মিডল অর্ডার সামলাতে হবে রিঙ্কু সিংহ, রমনদীপ সিংহকে। গত বার ব্যাটিং বিভাগ ভুগিয়েছিল কেকেআরকে। এ বার সেই ভুল করলে চলবে না। স্পিন বিভাগ সামলাতে পারেন অনুকূল রায় এবং বরুণ।

ইতিবাচক দিকও আছে

এত সমস্যার মধ্যেও কেকেআরের পক্ষে কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। অ্যালেন দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। কিছু দিন আগে ইডেন গার্ডেন্সেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে শতরান করেছিলেন। গোটা প্রতিযোগিতাতেই তিনি ভাল খেলেছেন। কোনও ভাবে অ্যালেন ব্যর্থ হলে সেইফার্টকে খেলানো যেতে পারে। আগ্রাসনে তিনিও কারও থেমে কম যান না।

মুজ়ারাবানি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভাল বল করেছেন। আইপিএলে সুযোগ পেয়ে তিনি নিজেকে প্রমাণ করতে মরিয়া থাকবেন। চমক দেখা যেতে পারে তাঁর বোলিংয়ে। রিঙ্কু সম্প্রতি ভারতীয় দলে জায়গা হারিয়েছেন। কেকেআরের সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব তাঁকে বাড়তি অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে। এ ছাড়া নতুন ক্রিকেটারেরা যদি জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন নিয়ে ভাল বোলিং করতে পারেন তা হলে তা বাড়তি পাওনা হবে কেকেআরের কাছে।

আইপিএলে ২০২৬-এ সম্ভাবনা

একাধিক ক্রিকেটার ছিটকে গেলেও প্রতিযোগিতার অন্যতম সেরা দল কেকেআর। গত কয়েক বছর ধরে এই দলের হয়ে অনেকে খেলছেন। বিদেশি এবং স্বদেশি মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়তে পারলে প্লে-অফে শেষ করতেই পারে। তবে ট্রফি জেতার স্বপ্ন এখনই না দেখাই ভাল। প্লে-অফে শেষ করলে অনেক কিছুই বদলে যেতে পারে শেষ মুহূর্তে।

Advertisement
আরও পড়ুন