IPL 2026

৫ ব‍্যাটার: এ বারের আইপিএল যাঁদের ফেরাতে পারে জাতীয় দলে

আইপিএল শুরু হতে বাকি দু’দিন। গোটা ক্রিকেটবিশ্বের নজর থাকবে এই লিগের দিকে। তাকিয়ে থাকবেন নির্বাচকেরাও। ভাল খেললে কাদের প্রত্যাবর্তন হতে পারে জাতীয় দলে?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০২৬ ০৯:০৩
cricket

গুজরাতের অধিনায়ক শুভমন গিল। ছবি: সমাজমাধ্যম।

নতুম মরসুমের আইপিএল শুরু হতে বাকি আর দু’দিন। গোটা ক্রিকেটবিশ্বের নজর থাকবে ভারতের এই টি-টোয়েন্টি লিগের দিকে। তাকিয়ে থাকবেন নির্বাচকেরাও। ভারতের আগামী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের তুলে আনতে আইপিএলের উপরেই নির্ভর করেন তাঁরা। নতুন মুখদের মাঝেই লড়াই করবেন পুরনো মুখেরা, যাঁরা কোনও না কোনও সময়ে আইপিএলে ভাল খেলেই উঠে এসেছেন। কিন্তু এখন জাতীয় দলে ব্রাত্য। ভারতের জার্সি আবার গায়ে চাপানোর লড়াই প্রতিনিয়ত চলবে তাঁদের।

Advertisement

আইপিএল যেমন নতুনদের উঠে আসার মঞ্চ, তেমনই পুরনোদের কাছেই দলে ফেরারও একটা সুযোগ। আড়াই মাসের প্রতিযোগিতায় ভাল খেলতে পারলেই নির্বাচকদের সুনজরে আসা যাবে। ঢুকে পড়া যাবে জাতীয় দলে। ব্যর্থ হলে জাতীয় দলের স্বপ্ন শেষও হয়ে যেতে পারে। আনন্দবাজার ডট কম এ রকমই পাঁচ ব‍্যাটারকে বেছে নিল, যাঁদের কাছে এই আইপিএলে প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ হতে চলেছে।

ঋষভ পন্থ (লখনউ)

আইপিএল থেকেই তাঁর উঠে আসা। মূলত সাদা বলের ক্রিকেট খেলেছেন। সেখান থেকে লাল বলেও নির্ভরযোগ্য ক্রিকেটার হয়ে উঠেছেন। কিন্তু যে ফরম্যাট থেকে তাঁর উত্থান সেই টি-টোয়েন্টি দলেই আর জায়গা পান না। আগে তবু ১৫ জনের দলে থাকতেন। অনেক দিন ধরে সেটাও পাচ্ছেন না। দু’বছর আগে তাঁর চালাকিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল ভারত। দেশের মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতা দলের ধারেকাছে ছিলেন না। দেশের হয়ে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ দু’বছর আগে। গত বারের আইপিএলে এমন কিছু করেননি যাতে জাতীয় দলে ফিরতে পারেন। এ বার তাই পন্থের কাছে সুযোগ নিজেকে প্রমাণ করার।

শ্রেয়স আয়ার (পঞ্জাব কিংস)

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে তাঁর সম্পর্কে প্রধান নির্বাচক অজিত আগরকর বলেছিলেন, “ওকে বাদ দেওয়া হয়তো সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত। কিন্তু দলের স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত আমাদের নিতেই হয়েছে।” জাতীয় টি-টোয়েন্টি দলের দরজায় অনেক দিন ধরেই কড়া নাড়ছেন। কিছুতেই সেই দরজা ফাঁক হচ্ছে না। টি-টোয়েন্টি দলে ফেরার ব্যাপারে তিনি সম্ভবত সকলের আগে থাকবেন। দেশের হয়ে শেষ টি-টোয়েন্টি খেলার পর তিন বছর কেটে গিয়েছে। ২০২৪-এ কলকাতা ট্রফি জেতানোর পর গত বছর পঞ্জাবকে ফাইনালে তুলেছিলেন। ১৭ ম্যাচে ৬০৪ রান করেছিলেন। তবু টি-টোয়েন্টি দলে ফিরতে পারেননি। এক দিনের দলে নিয়মিত খেলেন। কিন্তু টি-টোয়েন্টি দলে ফেরা শ্রেয়সের কাছে আসল চ্যালেঞ্জ।

শুভমন গিল (গুজরাত)

গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ় খেলার পরই দেওয়াল লিখন স্পষ্ট হয়েছিল। তবু একটা ধন্দ ছিল। কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল নির্বাচনের সময় সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচকেরা দল থেকেই ছেঁটে ফেলেছিলেন শুভমনকে। টেস্ট এবং এক দিনের দলের অধিনায়ক যে টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়বেন এটা অনেকেই ভাবতে পারেননি। ফলে শুভমনের কাছে প্রত্যাবর্তনের লড়াইটা সম্মানরক্ষারও বটে। তাঁকে দেখিয়ে দিতে হবে যে টি-টোয়েন্টি দলেও তিনি নিজের দমে খেলার যোগ্য। এমনিতে আইপিএলে প্রতি বছর ঝুড়ি ঝুড়ি রান করলেও দেশের হয়ে সেই ফর্ম দেখাতে পারেন না। প্রশ্ন উঠেছে স্ট্রাইক রেট নিয়েও। ফলে এই দু’টি বিষয়েই নজর রাখতে হবে শুভমনকে। রানও তুলতে হবে, স্ট্রাইক রেটও বাড়াতে হবে।

যশস্বী জয়সওয়াল (রাজস্থান)

বছর দুয়েক আগে ঠিক হয়েছিল অভিষেক শর্মার সঙ্গে তিনিই ধারাবাহিক ভাবে টি-টোয়েন্টিতে ওপেন করবেন। আচমকাই শুভমন গিলের সঙ্গে অভিষেককে ওপেন করানো শুরু হয়। তিনি প্রথম একাদশ থেকে বাদ পড়ে যান। এর পর সঞ্জু স্যামসন আসায় শুভমনও বাদ পড়ে যান। অবস্থা যা, তাতে এখন টি-টোয়েন্টি দলের ধারেকাছেও নেই যশস্বী। কারণ সঞ্জু ব্যর্থ হলে ঈশান কিশন ওপেন করতে পারেন। তা না হলে শুভমনকে ডাকা হতে পারে। তার পরে আসতে পারে যশস্বীর নাম। ফলে আইপিএলে খুবই ভাল না খেললে অদূর ভবিষ্যতে টি-টোয়েন্টি দলে ফেরার সম্ভাবনা কম। যশস্বী হয়তো বড় রান করারই লক্ষ্য নিয়েছেন।

জিতেশ শর্মা (বেঙ্গালুরু)

ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে এখন উইকেটকিপারের অভাব নেই। সঞ্জু না হলে ঈশান রয়েছেন। এই অবস্থায় জিতেশ শর্মাকে আইপিএলে শুধু ব্যাটিং ভাল করলেই চলবে না, উইকেটকিপিংয়েও মুন্সিয়ানা দেখাতে হবে। গত বছরের শেষ দিকে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিলেন। বিশ্বকাপের দলে জায়গা পাননি। পরিস্থিতি যা তাতে সঞ্জু বা ঈশান কেউই না খেলতে পারলে তাঁর দলে ঢোকার কথা। কিন্তু সঞ্জু এবং ঈশান দু’জনেই ভাল ব্যাটার। জিতেশ সাধারণত মিডল অর্ডারে ব্যাট করেন। ফলে শুধু উইকেটকিপিংয়ের দক্ষতা দেখিয়ে তাঁর পক্ষে দলে ঢোকা মুশকিল। আইপিএলে জিতেশের স্ট্রাইক রেট বিশেষ খারাপ নয়। তবে দেশের হয়ে ১২ বার ব্যাট করতে নামলেও বড় ইনিংস এখনও খেলতে পারেননি। নির্বাচকদের আস্থা অর্জনের জন্য তাঁকে দুই বিভাগেই ভাল খেলতে হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন