Liquor Shop

প্রথম দফার ভোটের এলাকায় শুধু নয়, কলকাতা-সহ রাজ্য জুড়ে আচমকাই মদের দোকান বন্ধ হয়ে গেল সোমবার থেকে

সরকারি নির্দেশিকায় রাজ্যের আবগারি কমিশনার সমস্ত জেলাশাসক এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২০:২৬
All liquor stores closed from monday ahead assembly election 2026

সোমবার থেকে রাজ্যের মদের দোকানে তালা। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

সোমবার থেকে হঠাৎ রাজ্য জুড়ে বন্ধ হয়ে গেল মদের দোকান। রাজ্যের আবগারি দফতরের নির্দেশে সোমবার থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের সব জেলাতেই মদের দোকান বন্ধ থাকছে। কারণ, বিধানসভা ভোট। আগাম ঘোষণা ছাড়াই আকস্মিক এই সিদ্ধান্তে বিপাকে সুরাপ্রেমীরা।

Advertisement

যাদবপুর, গড়িয়া, চৌরঙ্গী, বড়বাজার-সহ কলকাতার সব জায়গায় বন্ধ মদের দোকানের বাইরে সুরাপ্রেমীদের ভিড় দেখা গিয়েছে। সকলের চোখেমুখে একটাই প্রশ্ন, দোকান কেন বন্ধ? পরে জানা যায়, রাজ্যের আবগারি দফতরের নির্দেশে সোমবার থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের সব জেলাতেই মদের দোকান বন্ধ থাকছে! কারণ, বিধানসভা ভোট।

গত মাসে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্য সফরে এসেছিল। সে সময়েই ইঙ্গিত মিলেছিল, এ বারের ভোটের আগে ৪৮ ঘণ্টার বেশি মদের দোকান বন্ধ থাকতে পারে। আবগারি দফতরের নতুন নির্দেশিকায় তা-ই স্পষ্ট হল। তবে নির্বাচনের আগে মদ নিয়ে জেলা প্রশাসন এবং আবগারি দফতরকে সতর্ক করেছিল কমিশন। তারা স্পষ্ট জানিয়েছিল, কোনও ভাবেই মদ যাতে ভোটে প্রভাব ফেলতে না-পারে, তার জন্য প্রয়োজনীয় যে কোনও পদক্ষেপ করতে হবে। অনেকের মতে, মদের দোকান বন্ধ রাখা নিয়ে নির্দেশ যা-ই থাকুক না কেন, কমিশনের মৌখিক বার্তা মেনে কোনও ঝুঁকি না-নিয়ে আগেভাগে নির্দেশিকা জারি করল আবগারি দফতর। শুধু মদের দোকান নয়, কোনও পানশালাতেও সোমবার থেকে মদ পাওয়া যাচ্ছে না।

নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে যেখানে যেখানে ভোট সেখানে সেখানে মদের দোকান বন্ধ রাখতে হয়। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফায় ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ রয়েছে। সেই সব এলাকায় ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে মদের দোকান বন্ধ থাকার কথা। তবে আবগারি দফতরের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, সোমবার অর্থাৎ ২০ এপ্রিল থেকেই মদের দোকান বন্ধ রাখতে হবে। তবে দ্বিতীয় দফাতে যেখানে যেখানে ভোট রয়েছে, যেমন কলকাতা বা উত্তর ২৪ পরগনা, সেখানকার মদের দোকানও সোমবার থেকেই বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে আবগারি দফতর। কলকাতা বা উত্তর ২৪ পরগনা বা দক্ষিণবঙ্গের জেলার আধিকারিকদের কাছে যে নির্দেশিকা গিয়েছে, তাতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, ২০ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত চার দিন মদের দোকান সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। আবার ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও, গণনার দিন অর্থাৎ ৪ মে মদের দোকান বন্ধ থাকবে। উল্লেখ্য, এই সব এলাকায় ভোট দ্বিতীয় দফায়, অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল। কিন্তু প্রথম দফার ভোটের ক্ষেত্রে ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য যা নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, তা কলকাতা-সহ বাকি জায়গার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।

কেন এই সিদ্ধান্ত? সরকারি নির্দেশিকায় রাজ্যের আবগারি কমিশনার সমস্ত জেলাশাসক এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিধানসভা নির্বাচনে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এমন সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন অনেকে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, নির্বাচনী বিধি মেনে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি। নির্দেশিকায় আবগারি দফতর উল্লেখ করেছে, নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সময় বিভিন্ন নজরদারি রিপোর্টে দেখা গিয়েছে যে হঠাৎ করেই মদের বিক্রি অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গিয়েছে। বিশেষ করে এপ্রিল মাসে। আবগারি দফতরের মতে, এই পরিস্থিতি ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ, মদ ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ ইতিমধ্যেই প্রশাসনের কাছে এসেছে।

প্রথম দফায় যে যে এলাকায় নির্বাচন রয়েছে, সেই সব জেলার জেলাশাসকদের কাছে পাঠানো নির্দেশিকায় স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, ২০ থেকে ২৩ এপ্রিল মদের দোকান বন্ধ রাখতে হবে। তবে দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে ওই সব এলাকায় মদের দোকান বন্ধ থাকবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। যদিও আবগারি দফতরের এক কর্তার মতে, নিয়ম সকলের জন্য একই হওয়া উচিত। প্রথম দফার ভোটের নিয়ম দ্বিতীয় দফায় ভোট হওয়া বিধানসভা কেন্দ্রগুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হচ্ছে। সেই হিসাবে প্রথম দফাতে ভোট হওয়া বিধানসভা এলাকাগুলিতেও ২৬ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত মদের দোকান বন্ধ থাকতে পারে। অন্য দিকে, নির্দেশিকায় ২৪ এপ্রিল এবং ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মদের দোকান বন্ধ রাখার কোনও উল্লেখ নেই। সুরাপ্রেমীদের একাংশ মনে করছেন, ওই দু’দিন নির্দিষ্ট সময়ে মদের দোকান খোলা থাকতে পারে। তবে আদৌ খোলা থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয় দেখা গিয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন