কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। — ফাইল চিত্র।
শাহ বলেন, “সবচেয়ে বড় সমস্যা বেকারত্বের। বিজেপির সরকার গঠিত হওয়ার পরে চারটে বড় শিল্পশহর বানাব। যে সব প্রতিষ্ঠান মমতার সিন্ডিকেটের জন্য বাইরে চলে গিয়েছে, সেই সব প্রতিষ্ঠানকে আবার পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসবে বিজেপি।”
শাহ বলেন, “যে প্রধানমন্ত্রী সন্ত্রাসবাদকে শেষ করেছেন, খড়্গেজি সেই প্রধানমন্ত্রীকে সন্ত্রাসবাদী বলেন। খড়্গে সাহেব, রাহুলের সঙ্গে বসে বসে আপনারও মতিভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছে। সেই কংগ্রেসের সঙ্গী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে ভোট দেওয়া যায় কি? পশ্চিমবঙ্গ থেকেও সন্ত্রাসবাদ শেষ করব আমরা।”
শাহ বলেন, “তরুণদের প্রতি বছর ১ লক্ষ চাকরি দেওয়া হবে। বাড়ি বসে নিয়োগপত্র পাবেন, এমন ভাবে কাজ করবে বিজেপি।”
শাহ বলেন, “বিজেপি যেখানে যেখানে ক্ষমতায় এসেছে মহিলাদের সুরক্ষার কথা ভেবেছে। আপনারা বিজেপির সরকার গড়ে দিন, প্রত্যেক দিদির অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা পাঠাব আমরা।”
শাহ বলেন, “দিদি আমার কথা শুনে নিন। ৫ তারিখের পর বিজেপির সরকার আসবে। আপনার গুন্ডাদের বলবেন, নিজেদের এক্তিয়ারে থাকতে। না হলে ৫ তারিখের পর আমরা ঠিকঠাক হিসাবনিকেশ করে নেব।”
শাহ বলেন, “আমি আজ সকালে কলকাতার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা বলছেন, মমতার গুন্ডাদের তাঁরা ভয় পাচ্ছেন। আপনারা কি ভয় পাচ্ছেন হাবড়াবাসী? ভয় পাবেন না। আমি হাবড়ায় দিদির গুন্ডাদের বলে যাচ্ছি, ২৯ তারিখ ঘরের বাইরে বেরোবেন না। না হলে ৫ তারিখ উল্টো করে শায়েস্তা করব। অনেক হয়েছে। এখন পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের কেউ ভয় দেখাতে পারবেন না।”
শাহ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গকে অনুপ্রবেশকারীদের থেকে মুক্ত করার জন্য ভোট দিন। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, শুধু পশ্চিমবঙ্গ থেকে নয়, অনুপ্রবেশকারীদের গোটা দেশ থেকে বেছে বেছে তাড়াবে বিজেপি। অনুপ্রবেশকারীরা আমাদের পশ্চিমবঙ্গের তরুণদের চাকরি খাচ্ছে। গরিবদের রেশন খাচ্ছে অনুপ্রবেশকারীরা। দেশের সুরক্ষার উপরও প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে অনুপ্রবেশকারীরা। ৫ তারিখ বিজেপির সরকার গড়ে দিন। ৬ তারিখ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের পালানো শুরু হয়ে যাবে।”
শাহ বলেন, “১৯৩০ সালে আজকের দিনেই বিপ্লবী সূর্য সেন ব্রিটিশদের গুলিতে বিদ্ধ হয়েছিলেন। আজকের দিনেই নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আইসিএস-এর চাকরি ছেড়ে ব্রিটিশদের মুখোমুখি দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এই দিনেই আমি হাবড়ায় এসেছি।”
দমদম উত্তরের সভা শেষ করে শাহ পৌঁছে গিয়েছেন হাবড়ায়।
দ্বিতীয় দফার ভোটের রণকৌশল নিয়ে মঙ্গলবার গভীর রাতে বিজেপির নিউ টাউনের দফতরে বৈঠক করেন শাহ। দ্বিতীয় দফার নির্বাচন যে সব এলাকায়, সেখানকার জেলা সভাপতি, জেলা ইনচার্জ এবং প্রবাসী জেলা ইনচার্জদের নিয়ে বৈঠকে বসেন তিনি। চারটি সাংগঠনিক জ়োনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতারা বৈঠকে ডাক পেয়েছিলেন, যার অধীনে রয়েছে ১৩টি সাংগঠনিক জেলা। এ ছাড়া শাহের সঙ্গে ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা ভূপেন্দ্র যাদব, বিপ্লব দেব, সুনীল বনসল এবং অমিত মালবীয়।
রাজ্যে বুধবার চারটি সভা রয়েছে অমিত শাহের। প্রথম সভাটি হয়েছে নিউ ব্যারাকপুরে। আগামী ২৭ এপ্রিল (সোমবার) পর্যন্ত কলকাতাতেই থাকবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। রাজ্য বিজেপির একটি সূত্রে এ কথা জানা গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোট আগামী ২৯ এপ্রিল। সোমবার সেখানে প্রচারের সময়সীমা শেষ হচ্ছে। আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) যখন প্রথম দফার ভোট হবে, তখনও শাহ রাজ্যেই থাকবেন।