বিজেপি প্রার্থী সাবিত্রী বর্মণ। —নিজস্ব ছবি।
তৃণমূল এবং বিজেপির সংঘর্ষে আবার উত্তপ্ত কোচবিহারের মাথাভাঙা। বিজেপির দুই প্রার্থীকে ঘিরে বিক্ষোভের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। মহিলা প্রার্থীর গাড়িতেও ভাঙচুর চালানো হয় বলে অভিযোগ। পাল্টা বিজেপির বিরুদ্ধে এলাকায় অশান্তি সৃষ্টির অভিযোগ এনেছে শাসক শিবির।
স্থানীয় সূত্রে খবর, রবিবার সন্ধ্যায় মাথাভাঙার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারে গিয়েছিলেন ওই বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিক। সেখান থেকে গোলমালের সূত্রপাত। তৃণমূল এবং বিজেপির সংঘর্ষ হয়। দুই পক্ষের মারামারিতে তৃণমূলের এক কাউন্সিলর-সহ কয়েক জন আহত হন। তার পর প্রতিবাদে রাস্তায় বিক্ষোভ শুরু করে শাসক শিবির।
ঠিক সেই সময়ে শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সাবিত্রী বর্মণ মাথাভাঙা থানার সামনে দিয়ে গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ, ওই মহিলা প্রার্থীর গাড়ি-সহ আরও একটি গাড়িতে ভাঙচুর চালান তৃণমূলের লোকজন। মুহূর্তের মধ্যে উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। দু’পক্ষকে সামলাতে কার্যত হিমশিম খায় পুলিশ। শেষে কেন্দ্রীয় বাহিনী নামে।
সাবিত্রী অভিযোগ করেন, পুলিশের সামনেই তৃণমূলের লোকজন গোটা ঘটনা ঘটিয়েছেন। আর এক বিজেপি প্রার্থী নিশীথ বলেন, ‘‘বিজেপি নির্বাচনী প্রচারের কর্মসূচির জন্য সাত দিন আগে পারমিশন নিয়েছে। পুলিশ আমাদের রুট ঠিক করে দিয়েছে। সেই রুট দিয়েই আমরা যাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে তৃণমূলের কয়েক জন কাউন্সিলর এবং কর্মী গালাগালি করতে করতে আমাদের দিকে ঢিল ছোড়ে। স্বাভাবিক ভাবে তাঁরা যদি পাথর ছোড়েন, আমরা তো ফুল ছুড়ব না।’’ প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, ‘‘এর পর বদমায়েশি করতে এলে কী হবে, সেটা ওরা কল্পনাও করতে পারছে না।’’
গন্ডগোল এবং তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে মাথাভাঙার তৃণমূল প্রার্থী সাবলু বর্মণ এবং কোচবিহার জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান গিরীন্দ্রনাথ বর্মণকে ফোন করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের কেউই ফোন তোলেননি। স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, অশান্তি শুরু করেছে বিজেপি। কর্মীরা প্রতিবাদ করেছেন মাত্র।