বিজেপির পতাকা। —ফাইল চিত্র।
প্রথম দফার ভোটের জন্য তারকা প্রচারকদের তালিকা প্রকাশ করল বিজেপি। মোট ৪০ জন তারকা প্রচারকের নাম জানানো হয়েছে। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মিশেলে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোটের তারকা প্রচারক করা হয়েছে বিজেপিশাসিত ছয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেও। রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, সুকান্ত মজুমদারদের সঙ্গে রয়েছেন দিলীপ ঘোষও।
আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যে প্রথম দফার ভোট রয়েছে। মোট ১৫২টি আসনে ভোট হবে প্রথম দফায়। এর মধ্যে রয়েছে উত্তরবঙ্গের সবগুলি বিধানসভা কেন্দ্রও, যেখানে বিজেপি সাংগঠনিক ভাবে তুলনামূলক বেশি শক্তিশালী বলে মনে করা হয়। প্রথম দফার ভোটে তারকা প্রচারক হিসাবে প্রত্যাশিত ভাবেই রয়েছেন নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, নিতিন নবীন, জেপি নড্ডারা। এ ছাড়া রাজনাথ সিংহ, নিতিন গডকরি, ধর্মেন্দ্র প্রধান, অশ্বিনী বৈষ্ণব, শিবরাজ সিংহ চৌহানের মতো দিল্লির নেতৃত্বও রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের তারকা প্রচারকদের তালিকায়।
প্রথম দফার আসনগুলির জন্য ছয় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকেও তারকা প্রচারক করেছে বিজেপি। তালিকায় রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, দিল্লির রেখা গুপ্ত, মহারাষ্ট্রের দেবেন্দ্র ফড়নবীস, ওড়িশার মোহনচরণ মাঝি, অসমের হিমন্ত বিশ্বশর্মা এবং ত্রিপুরার মানিক সাহা। বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধরিও রয়েছেন তারকা প্রচারকদের তালিকায়।
রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে শুভেন্দু, শমীক, সুকান্ত-সহ পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির ন’জন পদাধিকারী রয়েছেন তারকা প্রচারকদের তালিকায়। দিলীপ ঘোষকেও প্রথম দফার তারকা প্রচারক করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছেন শান্তনু ঠাকুর, মনোজ টিগ্গা, রাজু বিস্তাও। তারকা প্রচারক হিসাবে রাখা হয়েছে মিঠুন চক্রবর্তী এবং সদ্য বিজেপিতে যোগ দেওয়া টেনিস তারকা লিয়েন্ডার পেজ়কেও। তবে রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিংহ এই তালিকায় নেই।
বিজেপির এই তারকা প্রচারকদের তালিকা নিয়ে খোঁচা দিতে শুরু করেছে তৃণমূল। সমাজমাধ্যমে তৃণমূল দাবি করেছেন, বিজেপির ‘তারকা প্রচারকদের’ মধ্যে ৩০ শতাংশেরও কম সংখ্যক নেতার পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে প্রকৃত যোগ রয়েছে। তৃণমূল লিখেছে, “বিজেপির ‘বি’ হল আসলে ‘বহিরাগত’-র প্রতীক”। একই সঙ্গে বিজেপি-কে বিঁধে তৃণমূল আরও লিখেছে, “নিজেদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ড চালাতে ওদের বাইরে থেকে লোক আমদানি করতে হয়। শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারী, দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার, শান্তনু ঠাকুরদের করুণ দশাটা দেখুন। অন্য রাজ্য থেকে প্যারাশুটে করে উড়ে আসা নেতাদের নীচে এদের জায়গা হয়েছে।”
তৃণমূলের এই পোস্টের পাল্টা দিয়েছেন রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। তিনি বলেন, “বিজেপি তো একটি সর্বভারতীয় দল। সারা ভারত থেকেই নেতারা আসবেন, এটাই স্বাভাবিক। কেরলে, তামিলনাড়ুতে, কর্নাটকে, অন্ধ্রে, তেলেঙ্গানায় যখন নির্বাচন হয়, তারকা প্রচারক হিসাবে এঁদেরই নাম থাকে। বিহারে, উত্তরপ্রদেশে, মধ্যপ্রদেশে, গুজরাতে, মহারাষ্ট্রেও ভোটের সময়ে এঁরাই তারকা প্রচারক থাকেন। তৃণমূলের মতো আঞ্চলিক দলের পক্ষে তো এ সব বোঝা সম্ভব নয়। ওদের বোধবুদ্ধি যতটুকু, ওঁরা ততটুকুই বলবেন, সেটাই স্বাভাবিক।’’
শমীকের কথায়, “দেশের প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী, রেলমন্ত্রী আসবেন। তাঁরা তো গোটা দেশেরই মন্ত্রী। তাঁরা আবার বহিরাগত কী ভাবে হবেন? তৃণমূলকে বলব, দেখতে থাকুন। আরও অনেকে আসবেন। কেউ বহিরাগত নন।’’