শমীক ভট্টাচার্য। —ফাইল চিত্র।
জনতা বিজেপির সঙ্গে থাক বা না-থাক, তারা তৃণমূলের বিরোধিতায় আছে। রাজ্যে প্রথম দফার নির্বাচনের ঠিক চার দিন আগে এমনটাই জানালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। শনিবার কলকাতার প্রেস ক্লাবে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছিলেন শমীক। সেখানে তাঁর প্রত্যয়ী ঘোষণা, “২০২৬ সালে তৃণমূলের বিসর্জন হচ্ছে। এটা কেউ আটকাতে পারবে না।”
শমীক জানান, বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারে কিছু জিনিস বাদ পড়েছে। পরে সেগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই সূত্রেই সাংবাদিকদের প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা পেনশন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি। সাংবাদিকদের জন্য বিনামূল্যে ট্রেনযাত্রার কথাও জানান।
নানা বিষয়ে রাজ্যের তৃণমূল সরকারের সমালোচনা করেন শমীক। বলেন, “দুর্নীতি আর তৃণমূল সমার্থক। ১ লাখ ৯২ হাজার কোটি টাকার ঋণ ছিল তৃণমূল ক্ষমতায় আসার সময়। এখন সেটা বেড়ে ৭ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম গোটা দেশ এবং দেশের বাইরে একটা ভুল বার্তা দিয়েছে।”
এই নির্বাচনে বিজেপির জয় নিশ্চিত বলে জানিয়েও বাম, কংগ্রেস এবং তৃণমূলের নিচুতলার কর্মীদের পদ্মফুলে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন শমীক। ২০২৬ সালের নির্বাচনের সঙ্গে ২০১১ সালের ভোটের তুলনা করে বলেছেন, “বাম জমানায় নির্বাচনের দিন বিকেলে বলা হতো, দু’একটা বিক্ষিপ্ত ঘটনা ছাড়া ভোট শান্তিপূর্ণ। তার পরেও ২০১১-তে পরিবর্তন হয়েছে।” এই পরিবর্তনের কৃতিত্ব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দিয়েছেন শমীক। আবার সিপিএম এবং তৃণমূলের সম্পর্ক নিয়ে খোঁচা দিয়ে বলেছেন, “ওদের মধ্যে কী দুর্বোধ্য প্রেম, সেটা জানা যায় না।” এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন করা হলে শমীক বলেন, “১২টি রাজ্যে কোনও সমস্যা নেই, যত সমস্যা আমাদের রাজ্যে।”
বিজেপির জয় সম্পর্কে প্রত্যয়ী শমীক ৪ মে (ভোটের ফলপ্রকাশের দিন) সাংবাদিক বৈঠকে ফিশ ফ্রাই খাওয়ানোর কথা বলেছেন। আবার রাজনৈতিক সৌজন্যের বার্তা দিয়ে বলেছেন, “আগামী ৪ মে বাংলার রাজনৈতিক সংস্কৃতি বদল হচ্ছে। তৃণমূল কর্মীদের আমন্ত্রণ জানানো থাকছে যে, ওই দিন দুই ভাই একসঙ্গে বসে মাছ ভাত খাব।” সৌজন্যের মোড়়কে শমীক মাছের কথা বলে আমিষ-নিরামিশ বিতর্কে তৃণমূলের অভিযোগকেও ভোঁতা করার চেষ্টা করলেন বলে মনে করা হচ্ছে।