WB Election 2026

নেতা-পুলিশদের বার করে দিয়ে ভবানীপুরের নাগরিক সমাজের সঙ্গে বৈঠক মমতার, শুভেন্দু নন, তাঁর নিশানা সেই নরেন্দ্র মোদী

সভায় ঢোকার মুখেই পার্কের বাইরে বড় বড় চোং এবং মাইক লাগানো দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। উপস্থিত কাউন্সিলরদের ভর্ৎসনা করে তিনি বলেন, এটি তাঁর একটি ঘরোয়া বৈঠক।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:০০
ভবানীপুরের কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার।

ভবানীপুরের কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার। ছবি: সংগৃহীত।

নির্বাচনী প্রচারের ব্যস্ততার মাঝেই নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে রবিবার ঘরোয়া আলোচনায় যোগ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৭২ নম্বর ওয়ার্ডের লেডিজ় পার্ক বা উত্তম উদ্যানে আয়োজিত এই সভায় মুখ্যমন্ত্রী যেমন রাজ্যে তাঁর আমলে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরার পাশাপাশিই বিজেপি এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করেন। বিজেপি এ বার ভবানীপুরে প্রার্থী করেছে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। কিন্তু বৈঠকে এক বারের জন্যও বিজেপি প্রার্থীর নাম করেননি মমতা।

Advertisement

সভায় ঢোকার মুখেই পার্কের বাইরে বড় বড় চোং এবং মাইক লাগানো দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। উপস্থিত কাউন্সিলরদের ভর্ৎসনা করে তিনি বলেন, এটি তাঁর একটি ঘরোয়া বৈঠক। এখানে মাইক লাগানোর কোনও প্রয়োজন ছিল না। এমনকি, তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর দলের কোনও কর্মী বা পুলিশকর্মী যদি ভেতরে উপস্থিত থাকেন, তবে তাঁদের বেরিয়ে যেতে হবে। কারণ, এটি শুধুমাত্র ভবানীপুরের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে একান্ত আলাপের জায়গা।

বক্তব্যের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত এক মাস ধরে তিনি লাগাতার প্রচার করছেন। ভবানীপুর তাঁর নিজের কেন্দ্র হওয়ায় এখানকার মানুষের সুখ-দুঃখের সঙ্গে তিনি সবসময় জড়িয়ে আছেন। এর পরেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে প্রশ্ন তোলেন, গত ১২ বছর ক্ষমতায় থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী ক’টি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পেরেছেন? মমতা দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রীর সভাগুলি মূলত শহর এলাকায় হয়। কারণ, সেখানে অন্য এলাকা থেকে লোক নিয়ে আসা সহজ। তিনি অভিযোগ করেন, যেখানে টাকা দিয়ে লোক ‘ভাড়া করে’ প্রধানমন্ত্রীর সভায় আনা হচ্ছে, যেখানে তৃণমূলের সভায় মানুষ স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে এবং ভালোবাসার টানে আসছেন। মমতার দাবি, বিজেপি তাঁকে ভয় পাচ্ছে বলেই বার বার ‘টার্গেট’ করছে। কারণ, তারা মনে করে মমতা দিল্লি কাঁপিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখেন। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিজেপি ধর্ম এবং সম্প্রদায়ের নামে দেশকে টুকরো টুকরো করার চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, ‘‘আমি বাংলাকে নিয়ে চলি। বিভাজনের রাজনীতি করি না।’’ এনআরসি প্রসঙ্গে টেনে মমতা বলেন, ‘‘৯০ লক্ষ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং বিশেষত সংখ্যালঘুদের টার্গেট করা হচ্ছে।’’

ইডি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর অপব্যবহার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় সভার শেষের দিকে মুখ্যমন্ত্রী স্থানীয় মানুষের অভাব-অভিযোগ ও পরামর্শ শোনেন। অনেকে তাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী পদে দেখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন, অনেকে তাঁকে ‘ঝাঁসির রানি’র সঙ্গে তুলনা করেন। ইসকন মন্দিরের প্রতিনিধি রাধারমণ দাসও সভায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি অক্ষয় তৃতীয়ায় দিঘার জগন্নাথধামের এক বছর পূর্তি ও বিপুল জনসমাগমের কথা উল্লেখ করেন। উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তিনি রথযাত্রার সময় দিঘায় যাবেন।

Advertisement
আরও পড়ুন