West Bengal Elections 2026

সেই কালীমন্দির! সেই সিপিএম! সেই পুজো দেওয়া! মহেশতলার বাম প্রার্থী সায়ন এড়িয়ে গেলেন সুভাষের তারাপীঠ বিতর্ক প্রসঙ্গ

সিপিএমের তরুণ নেতা তথা আইনজীবী সায়ন বিধানসভা নির্বাচনে মহেশতলা কেন্দ্রের প্রার্থী। বুধবার বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে দেখা যায়, তিনি বাটানগরের কালী মন্দিরে সস্ত্রীক পুজো দিতে গিয়েছেন। কমিউনিস্ট পার্টিতে ধর্মচর্চা নিয়ে বিতর্ক কম নেই।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:০৯
(উপরে) ২০০৬ সালে তারাপীঠ মন্দিরে সিপিএম নেতা সুভাষ চক্রবর্তী। বাটানগরের কালীমন্দিরে পয়লা বৈশাখের সকালে পুজো দিচ্ছেন সস্ত্রীক সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় (নীচে)।

(উপরে) ২০০৬ সালে তারাপীঠ মন্দিরে সিপিএম নেতা সুভাষ চক্রবর্তী। বাটানগরের কালীমন্দিরে পয়লা বৈশাখের সকালে পুজো দিচ্ছেন সস্ত্রীক সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় (নীচে)। — নিজস্ব চিত্র।

২০ বছর আগের সিপিএমের স্মৃতি ফিরিয়ে আনল সিপিএম-ই। ২০ বছর আগে বিতর্ক উস্কে দেওয়ার পুরোধা ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার সুভাষ চক্রবর্তী। দু’দশক পরে সুভাষকে মনে করালেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায়। সৌজন্যে, পুজো, কালী মন্দির এবং ঠাকুর-ভক্তি।

Advertisement

সিপিএমের তরুণ নেতা তথা আইনজীবী সায়ন বিধানসভা নির্বাচনে মহেশতলা কেন্দ্রের প্রার্থী। বুধবার বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে দেখা যায়, তিনি বাটানগরের কালী মন্দিরে সস্ত্রীক পুজো দিতে গিয়েছেন। কমিউনিস্ট পার্টিতে ধর্মচর্চা নিয়ে বিতর্ক কম নেই। সায়নের কালী-ভক্তি প্রদর্শনের পর সেই পুরনো বিতর্ক নতুন করে উস্কে গিয়েছে। যদিও সায়ন নিজে এর মধ্যে বিতর্কের অবকাশ আছে বলে মনে করছেন না।

একে কালী মন্দির, তার উপর সিপিএম নেতা। স্বাভাবিক ভাবেই দু’দশক আগের ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে তারাপীঠ মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন সুভাষ। মা তারার বিগ্রহের সামনে শ্বেত পোশাক পরিহিত সুভাষের সেই ছবি হইচই ফেলে দিয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। বিতর্কে আরও খানিক ঘিয়ের ছিটে দিয়ে সুভাষ বলেছিলেন, ‘‘আগে আমি হিন্দু ব্রাহ্মণ, তার পর কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য।’’ সুভাষের সেই পুজো দেওয়াকে ভাল ভাবে নেয়নি সিপিএম। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএমে সুভাষের রাজনৈতিক গুরু জ্যোতি বসু বলেছিলেন, ‘‘সুভাষের মধ্যে মৃত্যুভয় কাজ করছে।’’ তার অব্যবহিত আগেই সুভাষের শরীরে কর্কট রোগ ধরা পড়েছিল। ২০০৯ সালে তিনি প্রয়াত হন। জ্যোতি বসু প্রয়াত হন ২০১০ সালের জানুয়ারিতে।

কালীপুজো নিয়ে সুভাষ-বিতর্ক প্রসঙ্গে সায়নকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জবাব এড়িয়ে গিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘‘জ্যোতিবাবু এবং সুভাষ চক্রবর্তী দু’জনেই প্রয়াত হয়েছেন। দু’জনেই আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা। তাই ওই বিষয় নিয়ে আমি কোনও মন্তব্য করব না।’’ সায়ন জানিয়েছেন, তিনি দুর্গাপুজোর অষ্টমীতে অঞ্জলি দেন, পাড়ার পুজোয় চাঁদা তোলেন, চড়কের মেলায় থাকেন। পুজো দেওয়া তাঁর কাছে নতুন নয়। তিনি আরও বলেন, ‘‘আমাদের দলের অবস্থান হল, ধর্মীয় অনুষ্ঠান যত ক্ষণ না কুসংস্কারের পর্যায়ে যাচ্ছে, তত ক্ষণ আমরা তাতে যুক্ত থাকতে পারি।’’

সুভাষের পর সিপিএমে ধর্ম বিতর্ক তৈরি করেছিলেন অধুনাপ্রয়াত রেজ্জাক মোল্লা। দলের রাজ্য কমিটির সদস্য থাকাকালীন তিনি হজ করতে চলে গিয়েছিলেন। ধর্মাচারণ নিয়ে প্রশ্ন করায় স্বভাবসিদ্ধ ঢঙে জবাব দিয়েছিলেন, ‘‘মার্ক্সের চেয়ে মহম্মদ বড়।’’ পরে অবশ্য রেজ্জাক শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে সিপিএম থেকে বহিষ্কৃত হন। পরে যোগ দেন তৃণমূলে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের মন্ত্রীও হয়েছিলেন তিনি।

Advertisement
আরও পড়ুন