Myanmar Cricis

‘২০২৭ সালের মধ্যে দখল করে নেব...’ মায়নমারে নতুন সরকারের শপথের পরেই আরাকান আর্মির ‘যুদ্ধঘোষণা’

মায়ানমারের অন্যতম শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ২০২৭ সালের মধ্যে গোটা রাখাইন প্রদেশ দখলের উদ্দেশ্যে নতুন করে গৃহযুদ্ধ শুরুর ঘোষণা করেছে বুধবার।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ২৩:৪৯
আবার গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় মায়ানমার।

আবার গৃহযুদ্ধের আশঙ্কায় মায়ানমার। —প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

সামরিক জুন্টার প্রধান জেনারেল মিন অং হ্লাইংয়ের নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথের পরেই আবার নতুন করে গৃহযুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা মায়ানমারে। সে দেশের অন্যতম শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি ২০২৭ সালের মধ্যে গোটা রাখাইন প্রদেশ দখলের উদ্দেশ্যে নতুন করে গৃহযুদ্ধ শুরুর ঘোষণা করেছে বুধবার।

Advertisement

বর্তমানে রাখাইন প্রদেশের মাত্র তিনটি শহর— প্রাদেশিক রাজধানী সিত্তুয়ে, কিয়াকফিউ এবং মানাউং মিয়ানমার জুন্টা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আরাকান আর্মির প্রতিষ্ঠাদিবসে গোষ্ঠীর প্রধান মেজর জেনারেল তোয়াই ম্রা নাইং জানান, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এ পর্যন্ত রাখাইন রাজ্যের ১৪টি টাউনশিপ এবং দক্ষিণ চিন রাজ্যের পালেতওয়া দখল করেছেন তাঁরা। এর পরেই তাঁর ঘোষণা, ‘‘২০২৭-এর মধ্যে আমরা গোটা রাখাইন প্রদেশ দখল করব।’’

বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাখাইনের ৮০ শতাংশ দখলের পরে পরে গত বছরের গোড়ায় মণিপুর লাগোয়া চিন প্রদেশের দখল নিয়েছে মায়ানমারের বিদ্রোহীরা! এই অংশেই মায়ানমারের কুকি জনগোষ্ঠীর (যাঁরা সে দেশে কুকি-চিন নামে পরিচিত) বসবাস। ফলে আরাকান আর্মির যুদ্ধঘোষণায় নতুন করে অশান্তির আঁচ দেখছে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের একাংশ। জুন্টাবিরোধী নতুন জোট ‘চিন ব্রাদারহুড’-এর শরিক ‘ইয়াও ডিফেন্স ফোর্স’, সাগাইন অঞ্চলে সক্রিয় ‘ইয়াও আর্মি’ এবং ‘মনিওয়া পিপল্‌স ডিফেন্স ফোর্স’ চিন প্রদেশ দখলের লড়াইয়ে আরাকান আর্মির সহযোগী হতে পারে বলে সূত্রের খবর। প্রসঙ্গত, সাধারণ নির্বাচনের পরে গত ১০ এপ্রিল মায়ানমারে নতুন সরকার শপথ নিয়েছিল। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন করে অশান্তির মেঘ ভারতের পড়শি দেশে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভ্যুত্থান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেত্রী সু চির দল ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি’র নেতৃত্বাধীন সরকারকে উৎখাত করেছিল মায়ানমার সেনা। শুরু হয়েছিল সামরিক জুন্টার শাসন। তার আড়াই বছরের মাথায়, ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে সে দেশের তিন বিদ্রোহী গোষ্ঠী— ‘তাঙ ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি’ (টিএনএলএ), ‘আরাকান আর্মি’ (এএ) এবং ‘মায়ানমার ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক অ্যালায়েন্স আর্মি’ (এমএনডিএএ)-র নয়া জোট ‘থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়্যান্স’ সামরিক জুন্টা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে। ওই অভিযানের পোশাকি নাম ছিল ‘অপারেশন ১০২৭’। পরবর্তী সময় আরও করেকটি সশ্স্ত্র গোষ্ঠী বিদ্রোহে শামিল হলেও গত নভেম্বরে চিনের মধ্যস্থতায় আরাকান আর্মির অন্যতম সহযোগী সংগঠন ‘তাঙ ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি’ (টিএনএলএ) জুন্টার সঙ্গে সংঘর্ষবিরতি চুক্তি করেছে।

Advertisement
আরও পড়ুন