West Bengal Elections 2026

বাবা-ছেলে হত্যার কেন্দ্রে লড়তেই গেল না সিপিএম

মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জ ও ধুলিয়ানে গত এপ্রিলের তাণ্ডবের ঘটনার পরেই জাফরাবাদে নিহত বাবা-ছেলের বাড়িতে গিয়েছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও দলের যুবনেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।

সন্দীপন চক্রবর্তী
শেষ আপডেট: ৩১ মার্চ ২০২৬ ০৮:১০
মুর্শিদাবাদে বামেদের মিছিলে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা।

মুর্শিদাবাদে বামেদের মিছিলে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা। ফাইল চিত্র।

কেন্দ্রীয় সরকারের সংশোধিত ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে অশান্তি ঘিরে গত বছর এপ্রিলে শমসেরগঞ্জে খুন হয়েছিলেন বাবা-ছেলে। তাঁরা ছিলেন সিপিএম সমর্থক। এক সময়ে সিপিএমের হয়ে বুথেও বসেছিলেন ওই ঘটনায় নিহত প্রৌঢ়। ঠিক এক বছর পরের এপ্রিলে বিধানসভা ভোট। এই নির্বাচনে সেই শমসেরগঞ্জ কেন্দ্রে লড়ার পথেই গেল না সিপিএম! তাদের পরিবর্তে ওই আসনে প্রার্থী দিল আইএসএফ। এমন কৌশলে বিস্ময় ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বাম শিবিরেই।

মুর্শিদাবাদের শমসেরগঞ্জ ও ধুলিয়ানে গত এপ্রিলের তাণ্ডবের ঘটনার পরেই জাফরাবাদে নিহত বাবা-ছেলের বাড়িতে গিয়েছিলেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ও দলের যুবনেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। ওই পরিবার সিপিএম সমর্থক বলেই হামলায় বাধা দিতে গিয়ে তাঁদের প্রাণ দিতে হয়েছে বলে দাবি করেছিলেন তাঁরা। পক্ষান্তরে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি ছিল, ওই পরিবারের ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই তাঁদের খুন হতে হয়েছে। এখন ভোটের সময়ে শমসেরগঞ্জে সিপিএম প্রার্থী না-দেওয়ায় প্রশ্ন উঠছে, বাবা-ছেলের হত্যার রাজনৈতিক বিচার ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের প্রতিকার চাওয়ার ‘দায়িত্ব’ কি তাদের আর নেই? বিচারের লড়াইয়ের ‘দায়িত্ব’ কি তবে বিজেপির? কারণ, ঘটনার পরেই নিহত দু’জনের স্ত্রীদের কলকাতায় নিয়ে এসেছিলেন শুভেন্দু। তাঁদের সাহায্যও করেছিলেন।

নদিয়ার কালীগঞ্জে উপনির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন বোমার আঘাতে নিহত তামান্নার মা সাবিনা ইয়াসমিনকে বিধানসভা ভোটে প্রার্থী করেছে সিপিএম। বাম শরিক আরএসপি-র দাবি নস্যাৎ করে ওই আসন লড়ার দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে নিয়েছে তারা। বাম শিবিরে প্রশ্ন, তা হলে শমসেরগঞ্জে অন্যথা হচ্ছে কেন? আইএসএফের ‘চাপ’ কি এখন এতই বেশি? সিপিএমের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক জামির মোল্লার বক্তব্য, ‘‘এইটুকু জানি, আলোচনার ভিত্তিতেই ওই আসন আইএসএফ-কে ছাড়া হয়েছে। বাকি কে কী বলছে, কিছু বলতে পারব না।’’ সরাসরি মন্তব্যে না-গেলেও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু এই সিদ্ধান্তে হাসছেন। তাতে ইঙ্গিত, তাঁদের আগেকার দাবিই ‘মান্যতা’ পেল!

আইএসএফ সোমবার যে তৃতীয় দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে শমসেরগঞ্জে শিক্ষক মহম্মদ ওদুদ হাসানের নাম আছে। মালদহের মোথাবাড়ি ও পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামেও প্রাথী ঘোষণা করেছে তারা। তিন দফায় এখনও পর্যন্ত ৩১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা হয়েছে আইএসএফের।

ইতিহাস বলছে, শমসেরগঞ্জে ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে জিতেছিলেন সিপিএমের তোয়াব আলি। তিনিই ২০১৬ সালে বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেসের আমিরুল ইসলামের কাছে হেরেছিলেন ১৭৮০ ভোটে। কংগ্রেসের সঙ্গে ২০২১ সালে সমঝোতা হলেও শমসেরগঞ্জে সিপিএমের আলাদা প্রার্থী ছিল। ব্যতিক্রম হচ্ছে এ বারই।

জাফরাবাদে নিহত প্রৌঢ়ের ছোট ছেলে সমর্থ দাস বলছেন, ‘‘বাবা সক্রিয় ভাবে সিপিএম করতেন অনেক আগে। পরের দিকে সে ভাবে নয়। এখন আমাদের সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক দলের যোগ নেই। আর এই এলাকায় এখন সিপিএম বলতে প্রায় কিছু নেই।’’ বিজেপি শমসেরগঞ্জে প্রার্থী করেছে ধুলিয়ানের পুরনো নেতা ষষ্ঠীচরণ দাসকে। তিনি জাফরাবাদের ওই পাড়া ও বাড়িতে ইতিমধ্যে ঘুরে এসেছেন।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্যের কথায়, ‘‘দু’শো ভোট পেলেও শমসেরগঞ্জে আমাদের দলের প্রার্থী থাকা উচিত ছিল। ঠিক যেমন আরাবুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্যানিং পূর্বে আলাদা প্রার্থী থাকা প্রয়োজন। তবে জোট-রাজনীতির বাধ্যবাধ্যকতা অনেক সময় অন্য রকম ভাবতে বাধ্য করে!’’

আরও পড়ুন