বিজেপি-বিরোধী প্রচার পুস্তিকা হাতে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে। — নিজস্ব চিত্র।
ভোটার তালিকা নিয়ে নজিরবিহীন টালবাহানার প্রতিবাদে এবং ভোটার তালিকা সম্পূর্ণ করে তবেই নির্বাচনের দাবিতে আগামী সোম ও মঙ্গলবার, ৩০-৩১ মার্চ রাজ্য জুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিল সিপিএম। ভোটের প্রচার চলাকালীনই সব বিধানসভা কেন্দ্রে এই প্রতিবাদে নামছে তারা। ‘বিচারাধীন’ তালিকায় ঝুলে থেকে তার পরে যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে, তাঁদের ট্রাইবুনালে আবেদনে সহায়তা ও আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্তও আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা করেছে সিপিএম। তার পাশাপাশি, বামফ্রন্টের তরফে ঘোষণা করা হয়েছে আরও ৭ আসনে প্রার্থীদের নাম। তবে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টকে (আইএসএফ) মত বদলের জন্য আরও একটু সময় দিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার বিতর্কিত আসনগুলিতে পাল্টা প্রার্থীদের নাম আপাতত ঘোষণা করেনি সিপিএম।
আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে বৃহস্পতিবার সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেছেন, ‘‘জনপ্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা জনতাকে ছাড়া চলতে পারে না। ভোটের অধিকার সকলকে দিতে হবে। কে কাকে ভোট দেবেন, পরের কথা। আগে তো ভোটার বাঁচাতে হবে। যাঁদের নাম উঠেছে, যাঁদের ওঠেনি না বাকি আছে, সকলকে অনুরোধ করছি ৩০-৩১ তারিখ প্রতিবাদ, বিক্ষোভ, ধর্নায় শামিল হোন।’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রীর আগেই সর্বদল বৈঠক ডাকা উচিত ছিল। ভোটাধিকার রক্ষায় সকলকে নিয়ে দাঁড়ানো উচিত ছিল। তাঁর প্রশাসন ব্যর্থ হয়েছে। গোদের উপরে বিষফোঁড়া বিজেপি জুটেছে! তারা নির্বাচন কমিশনকে দখল করেছে।’’
তার পাশাপাশিই সেলিম বলেছেন, ‘‘ট্রাইবুনাল, ভোটাধিকার রক্ষার প্রশ্নে মানুষ দিশাহারা। রাজ্যে ১৯টা ট্রাইবুনাল এবং প্রত্যেকটা জেলা ও বিধানসভা কেন্দ্রে বাম-মনোভাপন্ন আইনজীবী, তার সঙ্গে রেড ভলান্টিয়ার্স, আইনি সহায়তা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছেন। আমরা ফোন নম্বর দিয়ে বিভিন্ন বিধানসভায়, বিভিন্ন জেলায় ট্রাইবুনাল-ভিত্তিক দিয়ে দেব সমাজমাধ্যমে। কোনও অসহায় মানুষকে যাতে বাড়তি কোনও পয়সা খরচ করতে না হয় এবং যাতে কোনও প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ না যায়।’’ সেলিম ‘বিজেপি কেন জনগণের শত্রু’ শীর্ষক একটি প্রচার পুস্তিকাও প্রকাশ করেছেন।
বামফ্রন্টের তরফে এ দিনই মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর ও রঘুনাথগঞ্জ, নদিয়ার নাকাশিপাড়া, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম ও রানাঘাট উত্তর-পূর্ব, পূর্ব মেদিনীপুরের এগরা এবং বীরভূমের ময়ূরেশ্বর কেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ওই ৭ কেন্দ্রেই লড়বেন সিপিএম প্রার্থীরা। বাম সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদের ভরতপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তীতে অন্য সহযোগী দলের প্রার্থী থাকলেও দুই আসনে শরিক দল আরএসপি-র প্রার্থিপদ বামফ্রন্ট সমর্থন করবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া, পূর্ব মেদিনীপুরের ভগবানপুর আসনও আরএসপি-কে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। আর আইএসএফের সঙ্গে টানাপড়েন প্রসঙ্গে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সেলিম বলেছেন, ‘‘বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ঐক্যের জন্য আমরা এখন সংগ্রাম চালাচ্ছি। শেষ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ঐক্যে পৌঁছনো যাবে বলে আমরা আশাবাদী।’’
তৃণমূল ছেড়ে আসা প্রাক্তন বিধায়ক আরাবুল ইসলামকে এ বার ক্যানিং পূর্ব আসনে প্রার্থী করেছে নওশাদ সিদ্দিকীর আইএসএফ। ওই সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রথম থেকেই অসন্তোষ তৈরি হয়েছে সিপিএম তথা বাম শিবিরে। প্রকাশ্যেই এ দিন তাঁদের আপত্তির কথা জানিয়ে দিয়েছেন সেলিম। এই প্রশ্নে তাঁর বক্তব্য, ‘‘কোনও লুটেরা, গুন্ডা, দুর্বৃত্ত বা দুর্নীতিগ্রস্তদের সঙ্গে বামপন্থীরা সংস্রব রাখে না। তৃণমূলের কাউকে বগলদাবা করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই করা যাবে না। বামফ্রন্টের এই মনোভাবের কথা ওদের (আইএসএফ) জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’’ আইএসএফ কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশেও সেলিমের মন্তব্য, ‘‘পঞ্চায়েত ভোটের সময়েও গরিব লোকের ঘর, ভোট লুট করেছে, আইএসএফ কর্মীদেরও খুনে অভিযুক্ত, এমন কেউ নির্বাচনের সময়ে পরিযায়ী হয়ে এসে প্রার্থী হয়ে গেলে সেই দল ও ভোটারদের লাভ হয় না।’’ বাম সূত্রের ইঙ্গিত, আইএসএফ সিদ্ধান্ত বদল না-করলে ক্যানিং পূর্বে আলাদা প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি রাখছে সিপিএম।