I-PAC Case

আইপ্যাক-কর্তা বিনেশের ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ! পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটের মুখেই কয়লাকাণ্ডে ‘সক্রিয়তা’

কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে আইপ্যাক-কর্তার ঠিকানায় হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। সোমবার রাতে তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থাটির অন্যতম পরিচালক ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলকে তারা গ্রেফতার করে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৪ এপ্রিল ২০২৬ ১০:২৭
আইপ্যাকের অন্যতম পরিচালক ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলকে হেফাজতে নিল ইডি।

আইপ্যাকের অন্যতম পরিচালক ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেলকে হেফাজতে নিল ইডি। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

অর্থ পাচার মামলায় ভোটকুশলী সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আইপ্যাক)-এর অন্যতম কর্তা বিনেশ চান্দেলকে ১০ দিনের জন্য হেফাজতে পেল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। মঙ্গলবার ভোরে দিল্লির পটীয়ালার আদালত এই নির্দেশ দিয়েছে।

Advertisement

সোমবার কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে আইপ্যাক-কর্তার ঠিকানায় হানা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা। রাতেই তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থাটির অন্যতম পরিচালক ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশকে তারা গ্রেফতার করে। মঙ্গলবার ভোরে পটীয়ালা হাউস কোর্টের অতিরিক্ত দায়রা বিচারক (এএসজে) শেফালি বার্নালা ট্যান্ডন বিনেশের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

আদালতে ইডি জানিয়েছে, আইপ্যাকের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ সংশ্লিষ্ট সংস্থার ৩৩ শতাংশের অংশীদার। অর্থ পাচার প্রতিরোধ আইন (পিএমএলএ)-এর অধীনে একটি মামলায় তিনি তদন্তাধীন রয়েছেন। দিল্লি পুলিশের দায়ের করা একটি এফআইআর থেকে এই মামলার সূত্রপাত।

এর আগে গত ৮ জানুয়ারি এই মামলায় আইপ্যাকের দফতর এবং সংস্থার আর এক প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক প্রতীক জৈনের কলকাতার বাসভবনে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই অভিযানের সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে প্রতীকের বাড়ি এবং দফতরে যান। অভিযোগ, ইডির তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রী আইপ্যাক-কর্তা প্রতীকের বাড়িতে ঢুকে নথিপত্র, ফাইল এবং ল্যাপটপ বার করে এনেছিলেন। তার পরে সল্টলেকে সংস্থার দফতরে গিয়েও একই কাজ করেন। তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি। মঙ্গলবারই সুপ্রিম কোর্টে ইডির সেই আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনির্দিষ্ট কালের জন্য তা পিছিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে শীর্ষ আদালত।

এখন বিনেশের গ্রেফতারি নিয়ে ইডি-র দাবি, ওই সংস্থায় একাধিক আর্থিক অনিয়মের ঘটনা উদ্‌ঘাটিত হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে হিসাবভুক্ত এবং হিসাববহির্ভূত উভয় প্রকার তহবিল গ্রহণ, জামানতবিহীন ঋণ, ভুয়ো চালান প্রদান, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তহবিল স্থানান্তর ইত্যাদি। তা ছাড়াও নগদ অর্থ স্থানান্তরের জন্য দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক হাওয়ালা চ্যানেল ব্যবহারের অভিযোগও করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাটি।

মঙ্গলবার আদালতে ইডির আইনজীবী বলেন, ‘‘তদন্তে উঠে এসেছে আইপ্যাক— কনসাল্টিং প্রাইভেট সংস্থা বহু কোটি টাকার অপরাধলব্ধ অর্থ পাচারে জড়িত ছিল। এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।’’ সওয়াল-জবাবের পর আইপ্যাকের অন্যতম কর্তা বিনেশকে ইডি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

Advertisement
আরও পড়ুন