I-Pac Case

নয়াদিল্লিতে গ্রেফতার আইপ্যাক কর্তা! বিধানসভা ভোটের মুখেই কয়লাচুরি মামলায় সক্রিয় ইডি, বিপাকে তৃণমূল-সহযোগী সংস্থা

ভোটের ঠিক আগে তৃণমূলের সহযোগী সংস্থা আইপ্যাক কর্তা বিনেশের গ্রেফতারি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘এটি গণতন্ত্র নয়—ভীতিপ্রদর্শন।’’

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ ২২:৫০
বিনেশ চান্দেল।

বিনেশ চান্দেল। ছবি: সংগৃহীত।

কয়লা কেলেঙ্কারির তদন্তে আবার আইপ্যাক-কর্তার ঠিকানায় হানা দিল কেন্দ্রীয় সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এ বার তাদের নিশানায় ভোটকুশলী সংস্থাটির অন্যতম পরিচালক ও সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চান্দেল। তাঁকে সোমবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Advertisement

রাজ্য়ে বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে তৃণমূলের সহযোগী সংস্থা আইপ্যাক কর্তা বিনেশের গ্রেফতারি নিয়ে সোমবার রাতেই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘এটি গণতন্ত্র নয়—ভীতিপ্রদর্শন।’’

ইডির সূত্র উদ্ধৃত করে সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানাচ্ছে, দিল্লিতে ‘বেআইনি আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধ আইন’ (পিএমএলএ)-এ চান্দেলকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ২ এপ্রিল ইডি দিল্লিতে চান্দেলের বাসভবন ছাড়াও বেঙ্গালুরুতে আই-প্যাকের আরেক সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক ঋষি রাজ সিংহের এবং মুম্বইয়ে আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রাক্তন যোগাযোগ দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজয় নায়ারের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই এই গ্রেফতারি

৮ জানুয়ারি এই মামলার আইপ্যাকের দফতর এবং সংস্থার আর এক প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক প্রতীক জৈনের কলকাতার বাসভবনে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গে নিয়ে প্রতীকের বাড়ি এবং দফতরে ঢোকায় বিতর্ক তৈরি হয়। ভিযোগ, ইডির তল্লাশি চলাকালীনই প্রতীকের বাড়িতে ঢুকে নথিপত্র, ফাইল এবং ল্যাপটপ বার করে আনেন তিনি। পরে সল্টলেকে সংস্থার দফতরে গিয়েও একই কাজ করেন। এই ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে ইডির আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সোমবার অনির্দিষ্ট কালের জন্য তা পিছিয়ে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে শীর্ষ আদালত।

অভিষেক সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে ভোটের মাত্র ১০ দিন আগে আইপ্যাকের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিনেশ চ্যান্দেলের গ্রেফতারির ঘটনা শুধু উদ্বেগজনকই নয়—এটি প্রতিযোগিতার সমতার ধারণাটিকেই নাড়িয়ে দিয়েছে। যখন পশ্চিমবঙ্গের উচিত ছিল অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাওয়া, তখন এই ধরনের পদক্ষেপ একটি শীতল বার্তা দেয়— আপনি যদি বিরোধীদের সঙ্গে কাজ করেন, তা হলে আপনিই পরবর্তী নিশানা হতে পারেন। এটি গণতন্ত্র নয়—ভীতিপ্রদর্শন।’’

অভিষেকের অভিযোগ, ‘‘যাঁদের বিরুদ্ধে গুরুতর দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা দল পরিবর্তন করলেই সুরক্ষা পান। আর অন্যদের রাজনৈতিক ভাবে সুবিধাজনক সময়ে দ্রুত নিশানা করা হয়। যখন গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য তৈরি প্রতিষ্ঠানগুলিই চাপ রাজনীতির হাতিয়ার বলে মনে হতে শুরু করে, তখন বিশ্বাসের ভিত আলগা হতে থাকে। এক দিকে নির্বাচন কমিশন, অন্য দিকে ইডি, এনআইএ, সিবিআই-এর মতো সংস্থাগুলো সবচেয়ে সংবেদনশীল সময়ে হস্তক্ষেপ করছে। এতে ন্যায়বিচারের নয়, ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়।’’

এর পরেই ‘অমিত শাহ এবং বিজেপির ক্ষমতার পরিকাঠামো’র উদ্দেশে অভিষেকের বার্তা— ‘‘৪ এবং ৫ মে বাংলায় থাকুন। জ্ঞানেশ কুমার এবং আপনারা যে সব সংস্থা ব্যবহার করেন, তাদের সঙ্গে নিয়ে আসুন। বাংলা ভয় পাবে না, চুপ থাকবে না এবং মাথা নত করবে না। এটি এমন এক ভূমি, যা চাপের জবাব দেয় প্রতিরোধে। সেটির অর্থ কী, তা আপনাদের স্পষ্ট করে দেখিয়ে দেওয়া হবে।’’ প্রসঙ্গত, কয়লাচুরি মামলায় ইডির এই তদন্ত কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই)-এর নভেম্বর ২০২০-এর একটি এফআইআর সম্পর্কিত। সেই এফআইআর-এ পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের আশেপাশের কুনুস্টোরিয়া ও কাজোড়া এলাকায় ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের খনির সঙ্গে যুক্ত বহু কোটি টাকার কয়লা চুরির কেলেঙ্কারির অভিযোগ আনা হয়েছে।

পশ্চিম বর্ধমানের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড (ইসিএল)-এর তিনটি খনি সম্পর্কিত বহু কোটি টাকার কয়লা চুরি কেলেঙ্কারির ওই অভিযোগে ইসিএলের কয়েক জন প্রাক্তন কর্তা-সহ বেশ কয়েক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল সে সময়। ইডির দাবি, কয়লা চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যুক্ত এক হাওয়ালা অপারেটর আইপ্যাক-‘ঘনিষ্ঠ’ সংস্থা ইন্ডিয়ান পিএসি কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেডে কয়েক কোটি টাকার লেনদেন করেছিলেন। কয়লা চুরি থেকে পাওয়া প্রায় ২০ কোটি টাকার হাওয়ালা তহবিল আইপ্যাকের কাছে পৌঁছেছিল বলেও ইডির তরফে দাবি করা হয়েছে। ইডি সূত্রে আরও দাবি, ওই হাওয়ালা তহবিল যে সংস্থার মাধ্যমে আইপ্যাকের কাছে এসেছিল, সেই সংস্থাটি দিল্লির তথাকথিত আবগারি দুর্নীতির টাকা পাচারেও যুক্ত। ইডি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কয়লা পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত এক ‘হাওলা’ অপারেটর আই-প্যাকের নিবন্ধিত সংস্থা ইন্ডিয়ান পিএসি কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেডে কয়েক কোটি টাকার বেআইনি লেনদেন সহজতর করেছিল।

আইপ্যাকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, কলকাতার অফিসে এখনও কোনও বিধিনিষেধ জারি হয়নি। তৃণমূলের পাশাপাশি, তামিলনাড়ুর শাসকদল ডিএমকে-র হয়েও কাজ করছে আইপ্যাক। দুই রাজ্যের আইপ্যাক ইউনিটের দায়িত্ব বণ্টন স্থির করতে মঙ্গলবার সকালে ভিডিয়ো কনফারেন্স হতে পারে। আগামী ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটের সঙ্গে তামিলনাড়ুর ২৩৯টি বিধানসভা আসনের সব ক’টিতেই ভোটগ্রহণ হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন