ভবানীপুর কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। হলফনামায় দেখা যাচ্ছে, আগের চেয়ে তাঁর সম্পত্তির পরিমাণ কমে গিয়েছে। পাঁচ বছর আগে ২০২১ সালে মমতা নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে বিধানসভা ভোটে লড়েছিলেন। পরাজিত হয়েছিলেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। সেই সময় তাঁর কিছু টাকা বিনিয়োগ ছিল। বর্তমানে তা-ও নেই।
২০২১ সালে নন্দীগ্রামে পরাজয়ের পর উপনির্বাচনে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মমতা। তাঁকে ওই কেন্দ্র ছে়ড়ে দেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। তিনি খড়দহ থেকে উপনির্বাচনে লড়ে বিধায়ক হন। এ বারের ভোটে মমতা ভবানীপুর থেকেই লড়ছেন। শোভনদেবকে বালিগঞ্জে প্রার্থী করা হয়েছে। তবে শুভেন্দুর সঙ্গে মমতার দ্বৈরথ দেখা যাবে এ বারও। কারণ নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর থেকেও শুভেন্দুকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। শুভেন্দু আগেই মনোনয়ন জমা দিয়ে দিয়েছিলেন। বুধবার মনোনয়ন দিলেন মমতাও।
মমতার বিরুদ্ধে কোথাও কোনও অপরাধের রেকর্ড নেই। কোনও থানায় তাঁর নামে এফআইআর দায়ের হয়নি। ফলে কোনও মামলাতে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জ গঠনেরও প্রশ্ন নেই। ২০২১ সালেও মমতার বিরুদ্ধে কোনও মামলা ছিল না। কোনও অপরাধের সঙ্গে তাঁর নাম জড়ায়নি।
হাতে ৭৫ হাজার ৭০০ টাকা নগদ নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামছেন মমতা। হলফনামা অনুযায়ী, তাঁর মোট দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। তাতে গচ্ছিত আছে ১২ লক্ষ ৭৬ হাজার ২০৯ টাকা। বর্তমানে তৃণমূলের সর্বময় নেত্রীর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ১৫ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫০৯ টাকা। কালীঘাটের ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট তাঁর ঠিকানা হলেও মমতার নিজের নামে কোনও বাড়ি বা গাড়ি নেই। নেই কোনও স্থাবর সম্পত্তিও। এমনকি, মমতার দেনার পরিমাণও শূন্য।
২০২১ সালে ৬৯ হাজার ২৫৫ টাকা নগদ ছিল মমতার হাতে। দু’টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ছিল ১৩ লক্ষ ৫৩ হাজার ৩৫৬ টাকা। ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেটে ১৮ হাজার ৪৯০ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন মমতা। সেই সময় তাঁর মোট অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ১৬ লক্ষ ৭২ হাজার ৩৫২ টাকা। অর্থাৎ, পাঁচ বছরে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ কমেছে ১ লক্ষ ৩৪ হাজার ৮৪৩ টাকা। এ ছাড়া, মমতার ৯ গ্রাম ৭৫০ মিলিগ্রাম গয়না রয়েছে। ২০২১ সালে তার বাজারদর ছিল ৪৩ হাজার ৮৩৭ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ১ লক্ষ ৪৫ হাজার টাকা। মমতা জানিয়েছেন, রাজনীতি এবং সমাজসেবাই তাঁর পেশা। রয়্যালটি এবং ব্যাঙ্কের সুদ থেকে রোজগার হয়।
১৯৭০ সালে দেশবন্ধু শিশু শিক্ষালয় থেকে মাধ্যমিক পাশ করেন মমতা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে যোগমায়া দেবী কলেজ থেকে ১৯৭৪ সালে স্নাতক হন। ১৯৭৭ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করেন (যদিও সেই পরীক্ষা হয়েছিল ১৯৭৯ সালে)। এর পর ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই অধীনে ১৯৮২ সালে যোগেশচন্দ্র চৌধুরী আইন কলেজ থেকে আইন পাশ করেন মমতা।