WB Assembly Elections 2026

ভোটকর্মীদের জন্য এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করছে নির্বাচন কমিশন, সঙ্গে জরুরি প্রয়োজনের জন্য হেলিকপ্টারও

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের মালদহে এসে পৌঁছেছে। গুজরাত থেকে আরও একটি আসছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ সেটির পৌঁছনোর কথা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ২০:৫৬
Election Commission arranging air ambulance for polling workers in West Bengal

প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

অবাধ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য কড়া নিরাপত্তা এবং বিধিনিষেধ জারির পাশাপাশি, ভোটকর্মী ও আধিকারিকদের স্বাচ্ছ্যন্দের বিষয়টিতেও বিশেষ নজর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ভোট কর্মীদের জন্য এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে এ বার।

Advertisement

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই একটি এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স মালদহে এসে পৌঁছেছে। গুজরাত থেকে আরও একটি আসছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা নাগাদ সেটির পৌঁছোনোর কথা। কমিশন সূত্রে খবর, সেটি কলকাতায় থাকবে। এ ছাড়া নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহার করার জন্য চপার (হেলিকপ্টার) রাখছে কমিশন। এ বারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে অনেক বেশি স্বাধীনতা দেওয়া হচ্ছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। কোনও ঘটনা দেখলে স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা।

এ বারের ভোটে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের জন্য বাইক ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। সব জায়গায় দ্রুত এবং সহজে পৌঁছোনোর জন্য বাহিনী ব্যবহার করতে পারবে ওই বাইক। প্রায় প্রতি জেলায় সরু রাস্তা বা গলির মধ্যে বুথ রয়েছে। সেখানে গাড়ি ঢুকতে পারে না। তাই বাইকের বন্দোবস্ত। এর আগে ভোটে প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু এলাকায় বাইক ব্যবহার করা হত। এ বার প্রতি জেলাতেই বাইক নেওয়া হচ্ছে। এই প্রথম এলাকা ধরে ধরে সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে থাকবেন কমান্ডান্ট পর্যায়ের আধিকারিকেরা। তাঁদের নির্দেশ পালন করবে বাহিনী। রাজ্য পুলিশ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সাহায্য করবে। কিন্তু তাদের পরিচালনা করতে পারবে না। কোথাও কড়া পদক্ষেপের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিক এবং কমান্ডান্ট যৌথ ভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন।

তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার অভিযোগ করেছেন, ভোটের আগে তাঁদের দলের বেশ কিছু নেতা-কর্মীকে গ্রেফতার করা হতে পারে। সিইও দফতর সূত্রের খবর, কোনও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে বলা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে এমন ব্যক্তিদের নির্বাচনের আগে গ্রেফতার করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া দাগি অপরাধিদেরও গ্রেফতার নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। সুষ্ঠু ভাবে ভোটের জন্য এমন পদক্ষেপ করা হয়েছে। এই নিয়ম আগেও ছিল। অনেক ক্ষেত্রে হয়তো কার্যকর হয়নি। এ বার কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় সমগ্র উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির ভোটগ্রহণ হয়ে যাবে— দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহার, উত্তর এবং দক্ষিণ দিনাজপুর এবং মালদহ। পাশাপাশি, জঙ্গলমহলেও প্রথম দফায় নির্বাচন রয়েছে। ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার পাশাপাশি বীরভূম, মুর্শিদাবাদে এই দফাতেই ভোট হবে। অন্য দিকে, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং পশ্চিম বর্ধমানেও এই দফায় ভোটগ্রহণ। কমিশন যে হিসাব দিয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে, প্রথম দফার ভোটে সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে মুর্শিদাবাদ জেলায়।

Advertisement
আরও পড়ুন