Election Commission Controversy

মালদহের চার কেন্দ্রে বিহারের বিজেপি নেত্রীর স্বামীকে পুলিশ পর্যবেক্ষক করল কমিশন! ছবি প্রকাশ্যে এনে দাবি তৃণমূলের

তৃণমূলের প্রকাশ করা ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ আধিকারিক জয়ন্তের সঙ্গে রয়েছেন এক মহিলা। সেই মহিলাকেই আবার দেখা যাচ্ছে বিহারের বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সঙ্গে বিজেপির মঞ্চে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৪ মার্চ ২০২৬ ১৮:৫২
Election Commission deploys the husband of BJP leader of Bihar as the Police Observer in 4 seats of Malda, alleges TMC

(বাঁ দিকে) ‘বিজেপি নেত্রী’ স্ত্রীর সঙ্গে পুলিশ পর্যবেক্ষক জয়ন্ত কান্ত, জ্ঞানেশ কুমার (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য রাজ্যে ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। মালদহের চার কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা পুলিশ পর্যবেক্ষক জয়ন্ত কান্ত এবং তাঁর স্ত্রীর ছবি প্রকাশ করে তৃণমূল দাবি করল, কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষকের স্ত্রী বিহারের বিজেপি নেত্রী। সেই সূত্রেই রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক প্রশ্ন তুললেন, যাঁর স্ত্রী বিজেপির নেত্রী, তাঁর স্বামী কী ভাবে নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করবেন?

Advertisement

তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে বেশ কিছু ছবি দেখান ব্রাত্য এবং পার্থ। তাতে একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, পুলিশ আধিকারিক জয়ন্তের সঙ্গে রয়েছেন এক মহিলা। সেই মহিলাকেই আবার দেখা যাচ্ছে বিহারের বর্তমান উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরীর সঙ্গে বিজেপির মঞ্চে। তবে তৃণমূলের দাবি বা তাদের তরফে প্রকাশ্যে আনা ছবির সত্যতা আনন্দবাজার ডট কম যাচাই করে দেখেনি।

মালদহের যে চার কেন্দ্রের পুলিশ পর্যবেক্ষক করা হয়েছে জয়ন্তকে সেগুলি হল মোথাবাড়ি, বৈষ্ণবনগর, মানিকচক এবং সুজাপুর। ব্রাত্য বলেন, ‘‘এই এলাকাগুলি সবই বিহার সীমান্ত লাগোয়া। আর সেখানে যিনি পুলিশ পর্যবেক্ষক, সেই জয়ন্তের স্ত্রী সীমান্ত লাগোয়া বিহারের জামুই এলাকার বিজেপি নেত্রী।’’ দিল্লি থেকে এই ধরনের অফিসারদের পাঠিয়ে পশ্চিমবাংলাকে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন মিলে দখল করতে চাইছে বলে দাবি তৃণমূলের।

তৃণমূল ভবনে  সাংবাদিক বৈঠকে পার্থ ভৌমিক এবং ব্রাত্য বসু।

তৃণমূল ভবনে সাংবাদিক বৈঠকে পার্থ ভৌমিক এবং ব্রাত্য বসু। ছবি: সংগৃহীত।

সোমবারই রাজ্যের ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে বদলি করেছে কমিশন। মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ রওনা হওয়ার আগে এ নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তার কয়েক ঘণ্টা পরেই কমিশন নিযুক্ত এক পুলিশ পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধে তৃণমূল ‘বিজেপি নেত্রীর স্বামী’ বলে অভিযোগ তুলল। ব্রাত্য বলেন, ‘‘বাকি যাঁদের আনা হয়েছে, তাঁদের কোন কোন আত্মীয় বিজেপির কী কী পদে আছে, সেটাই এখন দেখার!’’

জয়ন্ত কান্ত আইপিএস অফিসার। তৃণমূল যে তালিকার ছবি মঙ্গলবার প্রকাশ্যে এনেছে, তাতে দেখা যাচ্ছে তিনি উত্তরপ্রদেশ ক্যাডারের অফিসার। কিন্তু বিহারে কর্মরত। ছবি প্রকাশ্যে এনে ব্রাত্য বলেন, ‘‘জ্ঞানেশ কুমার যা করছেন, তার সবটা মহাকালের খাতায় লেখা হচ্ছে। সমকাল কিন্তু ইতিহাস নয়। সেই হিসাব জ্ঞানেশ কুমারকে চোকাতে হবে।’’

এর আগে এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরুর পর্বে জ্ঞানেশ কুমারের কন্যা এবং তাঁর জামাতার সরকারি চাকরিতে ‘পোস্টিং’ পাওয়া নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এ বার মালদহের চার কেন্দ্রের পুলিশ পর্যবেক্ষককে নিশানা করল তৃণমূল। এখন দেখার রাজ্যের শাসকদলের এ হেন অভিযোগ নিয়ে কমিশন কোনও প্রতিক্রিয়া দেয় কিনা।

Advertisement
আরও পড়ুন