WB Elections 2026

নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল, পানিহাটির সেই আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ কমিশনের

পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের সহকারী সেক্টর অফিসার অতনু চক্রবর্তী নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, তিনি নাকি একটি রাজনৈতিক দলের প্রচারের সামগ্রী নির্মাণের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ছিলেন!

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ০০:৪৫

—প্রতীকী চিত্র।

পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের সহকারী সেক্টর অফিসারের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল তৃণমূল। এ বার সেই আধিকারিককে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল কমিশন। একই সঙ্গে তাঁকে শো কজ় নোটিসও দেওয়াক কথা বলা হয়েছে। কেন তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে না, তার কারণ দর্শাতে বলেছে কমিশন।

Advertisement

পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের সহকারী সেক্টর অফিসার অতনু চক্রবর্তী নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, তিনি নাকি একটি রাজনৈতিক দলের প্রচারের সরাসরি যুক্ত ছিলেন! সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়োকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। ওই ভিডিয়োয় কয়েক জন ব্যক্তিকে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পতাকা ও অন্যান্য প্রচার সামগ্রী তৈরি করতে দেখা যায়। অভিযোগ, সেখানে অতনু ছিলেন!

তৃণমূল সেই ভিডিয়োর কথা উল্লেখ করে কমিশনকে জানায়, নির্বাচন কমিশনের অধীনে দায়িত্ব পালন করার সময় এ ধরনের কার্যকলাপ শুধু দায়িত্বজ্ঞানহীনই নয় বরং নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকেও প্রশ্নের মুখে ফেলে। এক জন সেক্টর অফিসারের কাজ অত্যন্ত সংবেদনশীল। ভোটগ্রহণের আগে বিভিন্ন এলাকায় স্পর্শকাতর বুথ বা ভোটার চিহ্নিত করা, নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় দেখা— এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তাঁর উপর বর্তায়। সেই প্রেক্ষিতে কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করা নির্বাচনী আচরণবিধি, ‘রিপ্রেজেন্টেশন অফ দ্য পিপল অ্যাক্ট’ এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে অভিযোগ করে পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল।

অতনুর কথা উল্লেখ করে তৃণমূল আরও দাবি করেছিল, এই ধরনের আচরণ সাধারণ মানুষের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও সন্দেহ তৈরি করতে পারে। ফলে ভোট প্রক্রিয়ার উপর আস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। কমিশনের কাছে ওই আধিকারিকের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের আর্জিও জানানো হয়। তার পরেই দেখা গেল কমিশন অতনুকে তাঁর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও)-কে এই মর্মে পদক্ষেপ করার কথা জানিয়েছে কমিশন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শো কজ় নোটিসের উত্তর দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এ বারের নির্বাচনে যে কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের দিকে রাজ্যবাসীর নজর রয়েছে, তার অন্যতম পানিহাটি বিধানসভা। কারণ এই বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী হিসাবে লড়াই করছেন আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা। তৃণমূলের হয়ে লড়ছেন বিদায়ী বিধায়ক নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ। এ ছাড়াও, সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত। ভোটের ময়দানে রয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী শুভাশিস ভট্টাচার্যও।

Advertisement
আরও পড়ুন