তালিকায় প্রকাশিত তথ্য মিলিয়ে দেখছেন ভোটার। —ফাইল চিত্র।
বিবেচনাধীন ভোটারদের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া অতিরিক্ত প্রথম তালিকা সোমবার প্রায় মধ্যরাতে প্রকাশ্যে এনেছে কমিশন। রাজ্যের প্রতিটি বুথের জন্য দু’টি করে পৃথক তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। নিষ্পত্তির পরে কাদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় জুড়ল, একটিতে তার উল্লেখ রয়েছে। অন্যটিতে রয়েছে, কাদের নাম বাদ পড়ল। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম জুড়ল, নাকি বাদ গেল, নাকি এখনও ঝুলেই রইল— তা অনলাইনে বাড়ি বসেই দেখে নিতে পারবেন ভোটারেরা।
রাজ্যের প্রায় ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ২৯ লক্ষ নিষ্পত্তি হয়েছে। অর্থাৎ, এই ২৯ লক্ষের নাম হয় চূড়ান্ত তালিকায় যুক্ত হয়েছে, কিংবা বাদ গিয়েছে। তবে এই ২৯ লক্ষের মধ্যে কত জনের নাম দুই ধরনের তালিকা মিলিয়ে প্রকাশ্যে আনা হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে নির্দিষ্ট ভাবে কত জনের নাম জুড়েছে এবং কত জনের নাম বাদ গিয়েছে, সেই সংখ্যা কমিশনের তরফে এখনও পর্যন্ত জানানো হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল। ওই সময়ে তালিকায় নাম রয়েছে কি না, তা যে ভাবে অনলাইনে যাচাই করা হয়েছিল, এ ক্ষেত্রেও নিয়ম একই। নির্বাচন কমিশনের মূল ওয়েবসাইট (eci.gov.in), রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের ওয়েবসাইট (ceowestbengal.wb.gov.in) এবং ইসিআই নেট অ্যাপ থেকে ভোটারেরা দেখে নিতে পারবেন তাঁদের নাম কমিশনের তালিকায় কী অবস্থায় রয়েছে।
নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট বা অ্যাপে গিয়ে ভাষা, নিজের এপিক নম্বর (ভোটার কার্ডের নম্বর) এবং রাজ্য বেছে ‘ক্যাপচা কোড’ পূরণ করতে হবে। তার পরে ‘সার্চ’ অপশনে ক্লিক করলেই ভোটারেরা দেখতে পাবেন, তাঁর নাম কমিশনের তালিকায় কী অবস্থায় রয়েছে। যদি ইতিমধ্যে তাঁর নাম যাচাই করা হয়ে গিয়ে থাকে এবং কোনও সমস্যা না থাকে, তবে স্বাভাবিক ভাবেই নাম উঠে আসবে তালিকায়। যদি নাম এখনও যাচাই না-করা হয়ে থাকে, তবে তার নীচে ‘অ্যাডজুডিকেশন’ বা ‘বিবেচনাধীন’ লেখা থাকবে। কারও নাম মুছে দেওয়া হলে নীচে লেখা থাকবে ‘ডিলিটেড’।
তবে সোমবার মধ্যরাত থেকেই প্রযুক্তিগত সমস্যার অভিযোগ উঠে আসতে শুরু করেছিল। এপিক নম্বর দিয়েও নাম দেখা যাচ্ছে না, এমন অভিযোগও উঠে আসে। সে ক্ষেত্রে ভোটারেরা নিজ নিজ বুথের তালিকা ডাউনলোড করে দেখে নিতে পারেন। সিইও দফতরের ওয়েবসাইট খুললে দু’টি পৃথক অপশন পাওয়া যাবে। প্রথমটি, ‘সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট নম্বর-১ টু দ্য ফাইনাল লিস্ট’। কোন কোন নাম চূড়ান্ত তালিকায় জুড়েছে, তা এই তালিকা থেকে দেখা যাবে। দ্বিতীয়টি, ‘ডিলিশন লিস্ট নম্বর-১ টু দ্য ফাইনাল লিস্ট’। কাদের নাম বাদ গিয়েছে, তার উল্লেখ রয়েছে দ্বিতীয় তালিকাটিতে। যাঁদের নাম দু’টির কোনওটিতেই নেই, তাঁদের নাম এখনও বিবেচনাধীন বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে।
সিইও দফতরের ওয়েবসাইট থেকে রাজ্য, সাল, জেলা, বিধানসভা কেন্দ্র, ভাষা উল্লেখ করতে হবে। এর সঙ্গে কোন ধরনের তালিকা খুঁজছেন, তা উল্লেখ করে ‘ক্যাপচা কোড’ পূরণ করলেই তালিকা ডাউনলোড করা যাবে। তবে কিছু বুথের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তালিকা ডাউনলোডের ক্ষেত্রেও ভোটারদের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁরা ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করতে পারছেন না, এমন অভিযোগও উঠে আসছে। সে ক্ষেত্রে অনলাইনে দেখতে সমস্যা হলে সংশ্লিষ্ট বুথ, বিডিও অফিস, মহকুমাশাসকের দফতর এবং জেলাশাসকের দফতরে অতিরিক্ত তালিকা ঝোলানো থাকবে। সেখান থেকেও ভোটারেরা যাচাই করে নিতে পারবেন।