গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
শুক্রবার নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। সেখানে ‘১০ প্রতিজ্ঞা’-র কথা জানিয়েছেন তৃণমূলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইস্তাহারে ঘোষণা করা হয়েছে সপ্তম পে কমিশন গঠন করা হবে।
এর পাশাপাশি গত ১৫ মার্চ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার অব্যবহিত আগে মুখ্যমন্ত্রী ধাপে ধাপে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা-ও ঠাঁই পেয়েছে নির্বাচনী ইস্তাহারে। তৃণমূলের ইস্তাহারের দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে (প্রশাসনিক সক্রিয়তা) রয়েছে সপ্তম পে কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি। লেখা হয়েছে, ‘সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামোয় সামঞ্জস্য আনতে এবং জন্য ন্যায্য বেতন, উচ্চ ক্রয়ক্ষমতা ও আর্থিক নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করা’।
অন্য দিকে, ‘মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটানো’ শীর্ষক শিরোনামে দেওয়া প্রতিশ্রুতি— ‘রাজ্য সরকারি কর্মচারী, পেনশনভোগী, শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নন-টিচিং স্টাফ, সেই সঙ্গে পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং অন্যান্য গ্রান্ট-ইন-এইড প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও পেনশনভোগীরা তাঁদের রোপা-২০০৯-এর বকেয়া মহার্ঘ ভাতা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হাতে পাবেন। অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাস থেকে ধাপে ধাপে এই বকেয়া টাকা দেওয়া হবে’।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ মার্চ দুপুর ৩টে ০৫মিনিটে এক্স হ্যান্ডলে আরও একটি পোস্ট করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারি কর্মীদের পুরনো বকেয়া মহার্ঘভাতা দেওয়া শুরু হচ্ছে। মমতা লেখেন, ‘আমাদের মা-মাটি-মানুষের সরকার তার সকল কর্মচারী, পেনশনভোগী, লক্ষ লক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অশিক্ষক কর্মচারী, পঞ্চায়েত-পুরসভার কর্মী ও পেনশনভোগীকে যে কথা দিয়েছিল, তা রেখেছে। তাঁরা রোপা-২০০৯ অনুযায়ী বকেয়া ডিএ ২০২৬ সালের মার্চ থেকেই পেতে শুরু করবেন’।
রাজ্যের সরকারি কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া ডিএ-র দাবি করছেন। এ নিয়ে কলকাতা হাই কোর্ট এবং সেখান থেকে সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছিলেন তাঁরা। হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট তাঁদের ডিএ দেওয়ার পক্ষেই রায় দিয়েছে। তার পরে বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মচারী সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনা করে রাজ্য সরকার। সুপ্রিম কোর্টে পাল্টা আবেদন করে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময় চেয়ে নিয়েছিল নবান্ন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ ছিল। গত শুক্রবার বেশ কয়েকটি রাজ্য সরকারি কর্মচারী এবং শিক্ষক সংগঠন একযোগে ধর্মঘট পালন করে। সেই ধর্মঘটে আংশিক সাড়া পড়েছিল রাজ্যের সরকারি দফতরগুলিতে। কিন্তু তখনও এমন কোনও ইঙ্গিত মেলেনি যে, রাজ্য সরকার বকেয়া ডিএ নিয়ে কোনও ঘোষণা করতে পারে।
ঘটনাচক্রে, মুখ্যমন্ত্রীর ওই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পরেই দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে পশ্চিমবঙ্গ-সহ পাঁচটি বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। মুখ্যমন্ত্রীর ওই ঘোষণায় আদর্শ আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে কি না জানতে চাওয়া হলে জ্ঞানেশ জবাব দিয়েছিলেন, যে মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ-সহ চারটি রাজ্য এবং একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়েছে, সেই মুহূর্ত থেকে ওই রাজ্যগুলি এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হচ্ছে। তার আগের মুহূর্ত পর্যন্ত নয়। অর্থাৎ, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা রবিবার দুপুরে যে দু’টি ঘোষণা করেছেন, তার সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধির কোনও সম্পর্ক নেই।