বৃহস্পতিবার অসমের বন ও পরিবেশ দফতরের বিশেষ সচিব এমকে যাদব পাঁচটি শকুনকে প্রাকৃতিক পরিবেশে মুক্ত করেন। ছবি: সংগৃহীত।
অসম বন দফতর এবং বন্যপ্রাণ গবেষণা সংস্থা বম্বে ন্যাচারাল হিস্ট্রি সোসাইটি (বিএনএইচএস)-র সৌজন্যে মুক্ত প্রকৃতিতে পুনর্বাসন পেল অতি সংকটাপন্ন (ক্রিটিকালি এনডেঞ্জারড) প্রজাতির সাদা-পিঠের শকুন (হোয়াইট ব্যাক্ড ভালচার বা বেঙ্গল ভালচার)। বৃহস্পতিবার অসমের বন ও পরিবেশ দফতরের বিশেষ সচিব এমকে যাদব পাঁচটি শকুনকে প্রাকৃতিক পরিবেশে মুক্ত করেন। তিনি জানান, ভারতে শকুন সংরক্ষণের ইতিহাসে এটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
অসমের প্রধান বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ আধিকারিক বিনয় গুপ্ত, বিএনএইচএস-এর ডিরেক্টর কিশোর রিঠে, ব্রিটিশ সংস্থা ‘রয়্যাল সোসাইটি ফর প্রোটেকশন অফ বার্ডস’ (আরএসপিবি)-র কর্ণধার ক্রিস বাউডেন ছিলেন ওই কর্মসূচিতে। ছিলেন, শকুন প্রজনন ও সংরক্ষণ কেন্দ্রের আধিকারিক (সেন্টার ম্যানেজার) তথা শকুন বিশেষজ্ঞ সচিন রানাডে। সচিন জানান, অসমে সংরক্ষণ কেন্দ্রের কৃত্রিম পরিবেশে জন্ম নেওয়া শকুনদের এই ভাবে মুক্ত করার এটি প্রথম ঘটনা। শকুন প্রজনন কেন্দ্রটি ২০০৭ সালে আসামের রানি এলাকার নলাপাড়ায় হয়েছিল এবং বর্তমানে এখানে ১৩৮টি সাদা-পিঠওয়ালা শকুন এবং ৫৬টি অতি বিপন্ন সরু-ঠোঁট শকুন (স্লেন্ডার বিল্ড ভালচার)-সহ মোট ১৯৪টি শকুন রয়েছে।
সচিন শুক্রবার বলেন, ‘‘রানি প্রজননকেন্দ্র থেকে প্রতি বছর ২০ থেকে ২৫টি শকুন মুক্ত করা যেতে পারে। তিনি জানান, উন্মুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে ছাড়ার আগে শকুনগুলিকে খাঁচা থেকে সরিয়ে বেশ কিছু দিন অপেক্ষাকৃত বড় ‘প্রি রিলিজ় অ্যাভিয়ারি’তে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘‘ছাড়ার আগে পাঁচটি শকুনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। তার পরে শনাক্তকরণের উদ্দেশ্যে পরানো হয় রিং এবং ট্যাগ। এই ট্যাগগুলি সৌরশক্তি চালিত এবং শকুনগুলির অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেবে। শকুনগুলির বয়স ৩ থেকে ৪ বছর, যাকে ‘সাব-অ্যাডাল্ট’ পর্যায় বলা হয়। মনে করা হচ্ছে, কয়েক মাসের মধ্যে তারা নিজেদের এলাকার খোঁজ শুরু করবে এবং সম্ভবত পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয় এবং বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের মতো প্রতিবেশী রাজ্য ও দেশে যেতে পারে।’’
আগামী ছয় মাস শকুনগুলির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে জানিয়ে সচিন বলেন, ‘‘এটি আমাদের জানাবে আশপাশের পরিবেশ কতটা নিরাপদ।’’ বিপন্ন শকুনের এই সংরক্ষণ কর্মসূচিতে আদানি-এলজিবিআই আর্থিক সহায়তা করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‘এই ১৯ বছরের যাত্রায় আমাদের সহযোগী সংস্থাগুলি— সেন্টার ফর ওয়াইল্ডলাইফ স্টাডিজ (সিডব্লিউএস), ওরিয়েন্টাল বার্ড ক্লাব, ডারউইন ইনিশিয়েটিভ, রাফোর্ড মরিস লেইং ফাউন্ডেশন এবং ভেট ওয়ার্ক ধারাবাহিক সাহায্য করেছে। আমরা বেলগুড়ি গ্রামের মানুষ এবং সমগ্র অসমের জনগণকেও কৃতজ্ঞতা জানাই।’’