ইস্তেহার প্রকাশের অনুষ্ঠানে মল্লিকার্জুন খড়্গে, শুভঙ্কর সরকার সহ অন্যান্য কংগ্রেস নেতারা। মঙ্গলবার কলকাতার এক হোটেলে। —নিজস্ব চিত্র।
২০ বছর বাদে একক শক্তিতে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ভোটে লড়াই করছে কংগ্রেস। সেই লড়াই জোরদার করতে মঙ্গলবার কলকাতায় এসে দলের ইস্তাহার প্রকাশ করে গেলেন সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। কলকাতার একটি বিলাসবহুল হোটেলে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের একগুচ্ছ নেতাকে নিয়ে ইস্তাহার প্রকাশ করেন তিনি। কংগ্রেসের এই ইস্তাহারে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্পের ছোঁয়া। ২০২১ সালে ক্ষমতায় আসার পর ‘লক্ষ্ণীর ভান্ডার’ প্রকল্পের সূচনা করেছিলেন মমতা। সেই প্রকল্পের ধাঁচেই কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে ‘দুর্গা সম্মান’ প্রকল্প চালু করার কথা জানিয়েছে। এই প্রকল্পে রাজ্যের মহিলাদের মাসিক দু’হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কৃষকবন্ধু প্রকল্পের মতোই ‘কৃষক সম্মান’ প্রকল্পের উল্লেখ রয়েছে ইস্তাহারে। যেখানে বছরে ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার পাশাপাশি, ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ বিনামূল্যে দেওয়ার কথাও ইস্তাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়াও রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের নামে ‘বিধান স্বাস্থ্য সুরক্ষা’ নামে একটি ১০ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্য বিমার বিষয়ও ইস্তাহারে জায়গা পেয়েছে। এ ছাড়া, যুব সম্মান প্রকল্পে এক বছরের মধ্যে সরকারি দফতরের সব শূন্যপদ পূরণ নিশ্চিত, ইন্টার্নশিপের সুযোগ। ‘শিক্ষার আলো’ স্নাতক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, কৃত্রিম মেধা শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র গড়ার কথা বলা হয়েছে।
ইস্তাহার প্রকাশের পর সভাপতি খড়্গে বলেন, ‘‘বাংলায় আমরা নতুন বিকল্প দিতে চাই। আমাদের ইস্তাহার অর্থ বিলোনোর কথা বলে না। রিবিল্ড রিফর্মের কথা বলে। তৃণমূলের সরকার এখানে ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায়। কিন্তু এখানে শিল্প, কর্মসংস্থান দরকার। বিজেপি এ সব বলে না। পোলারাইজেশনের কথা বলে। উন্নয়ন না, ওরা সবাইকে ভয় দেখিয়ে ধমকে নিজেদের কায়েমি ক্ষমতা দেখায়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘কংগ্রেস মডেল বানাতে হবে। মানুষ নির্ণয় করুক শর্ট টার্ম পলিটিক্স চাই না কি লং টার্ম প্রগ্রেস! কর্নাটক, তেলঙ্গানা, হিমাচলের মতো রাজ্যে আমরা করেছি। আমরা যা বলি তাই করি।’’
সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্ন ওঠে, বিরোধী জোট ইন্ডিয়ায় কংগ্রেস, তৃণমূল ও বামেরা থাকলেও, রাজ্যভিত্তিক কেন পৃথক লড়াই করছেন তারা। জবাবে খড়্গে বলেন, ‘‘আমরা রাজ্যভিত্তিক লড়াই করি ঠিকই, যেমন বাংলায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে, তেমনই কেরলে বামেদের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করছি। কিন্তু যখন জাতীয় স্তরের বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রশ্ন আসে, তখন আমরা দেশের স্বার্থে সবাই এক।’’