কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের হাতে জওহরলাল নেহরুকে নিয়ে বই উপহার হিসেবে তুলে দিচ্ছেন প্রদেশ ইস্তাহার কমিটির চেয়ারম্যান প্রদীপ ভট্টাচার্য।
বিভিন্ন অংশের মানুষের জন্য পাঁচ দফা অঙ্গীকার সামনে আনল কংগ্রেস। রাজ্যে বিধানসভা ভোটের জন্য দলের ইস্তাহার প্রকাশ করতে এসে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে আবেদন জানালেন তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির বাইরে তৃতীয় বিকল্প পথ বেছে নেওয়ার। তাঁর মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরেও পশ্চিমবঙ্গে প্রকৃত পরিবর্তন কিছু আসেনি। আর বিজেপি বিভাজন এবং বিবাদ লাগানোর রাজনীতির বাইরে কিছু ভাবে না। এমতাবস্থায় উন্নয়নের বিকল্প দিতে পারে কংগ্রেস। খড়্গের পাশে বসে এআইসিসি-র প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশের মন্তব্য, ‘‘বিজেপি আর তৃণমূল একই মুদ্রার দুই পিঠ!’’
মধ্য কলকাতার একটি অভিজাত হোটেলে মঙ্গলবার কংগ্রেসের ইস্তাহার প্রকাশ অনুষ্ঠানে খড়্গে, জয়রামদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন এআইসিসি-র পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীর, অম্বা প্রসাদ, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার, প্রদেশ ইস্তাহার কমিটির চেয়ারম্যান প্রদীপ ভট্টাচার্য, ভাইস চেয়ারম্যান অমিতাভ চক্রবর্তী প্রমুখ। কংগ্রেসের ইস্তাহারে রাজ্যের মানুষের জন্য ‘দুর্গা সম্মান’, ‘বিধান স্বাস্থ্য সুরক্ষা’, ‘যুব সম্মান’, ‘শিক্ষার আলো’ ও ‘কৃষক সম্মান’ শীর্ষক মূলত পাঁচটি অঙ্গীকার করা হয়েছে। প্রথমটির আওতায় রয়েছে মহিলাদের জন্য মাসে দু’হাজার টাকা সম্মান ভাতা, স্নাতকোত্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, নিঃশুল্ক সরকারি গণপরিবহণ এবং ‘অভয়া সুরক্ষা আইনে’র প্রতিশ্রুতি। দ্বিতীয়টিতে বলা হয়েছে ১০ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা এবং বিনামূল্যে ক্যানসার চিকিৎসার কথা। তৃতীয় অঙ্গীকারে আছে এক বছরের মধ্যে সরকারি সব শূন্য পদে নিয়োগ এবং ‘বঙ্গীয় কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা মিশন’। চতুর্থটিতে রয়েছে স্নাতক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্রের আশ্বাস। আর পঞ্চম অঙ্গীকারে আছে কৃষকদের জন্য বছরে ১৫ হাজার টাকা এবং মাসে ২০০ ইউনিট বিনামূল্যের বিদ্যুৎ।
কংগ্রেসের ‘অঙ্গীকার’ হাতে নিয়ে খড়্গে বলেছেন, ‘‘আমাদের ইস্তাহারে বিভাজনের কথা নেই। রাজ্যে ১৫ বছর তৃণমূলের সরকার রয়েছে কিন্তু বদল কিছু আসেনি। দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে, মন্ত্রীর ঘর থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। বাংলায় শিল্প চাই, রোজগার চাই। এই সমস্যার সমাধান বিজেপি করতে পারবে না। বিজেপি এই দিকে নজর দেয় না, শুধু বিভাজনে জোর দেয়। তারা ধর্মের নামে ঝগড়া বাধাবে। আমরা নেহরুর মধ্যপন্থায় তৃতীয় বিকল্প এনেছি। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে আবেদন, রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে এই তৃতীয় রাস্তা বেছে নিন।’’ জয়রামের সংযোজন, ‘‘বলিউডে ১৯৬২ সালে একটা হিট ছবি হয়েছিল— ‘বিশ সাল বাদ’। নায়ক ছিলেন বাঙালি, বিশ্বজিৎ। এই বাংলায় বিশ সাল পরে কংগ্রেস বিধানসভায় আবার একা লড়ছে। তৃণমূলের বিকল্প বিজেপি নয়। এখন প্রকৃত বিকল্প বেছে নেওয়ার সময়।’’
জাতীয় স্তরে ‘ইন্ডিয়া’ মঞ্চে কংগ্রেস এবং তৃণমূল একসঙ্গে শামিল আর এই রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করছেন। কংগ্রেস নেতারাও পাল্টা তৃণমূলের সমালোচনায় সরব। এই সংক্রান্ত প্রশ্নে খড়্গে অবশ্যে বলেছেন, ‘‘রাজ্যে আলাদা আলাদা লড়াই হয়, পরে দেশের স্বার্থে বিরোধী দলেরা মিলে যায়। এখানে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়াই হচ্ছে, কেরলে বামের সঙ্গে হচ্ছে। রাজ্য সরকার ঠিক পথে না-চললে তার বিরুদ্ধে সরব হওয়াও কংগ্রেসের দায়িত্ব। বিরোধী দল জাতীয় রাজনীতির প্রশ্নে এক জায়গায় আসে। এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।’’
ইস্তাহার কমিটির চেয়ারম্যান প্রদীপের দাবি, ‘‘আমরা জেলাগুলির উন্নয়নের জন্য পরিকল্পনার কথা বলেছি, যা অন্য কেউ বলেনি। কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের কাছে আবেদন, এ বার দ্বিমেরু রাজনীতি ভাঙার জন্য সর্বাত্মক লড়াই করুন। আমাদের কাছে বিধানচন্দ্র রায় আছেন, বিজেপি এবং তৃণমূলের কাছে নেই!’’ আর প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্করের বক্তব্য, ‘‘বাংলায় উন্নয়নের সরকার দেখতে চাই আমরা। সেই লক্ষ্যেই এই ইস্তাহার। তৃণমূলকে সরাতে এবং বিজেপিকে রুখতে আমাদের লড়াই।’’