West Bengal Assembly Election 2026

কালীঘাটের ওসি গৌতম দাস সাসপেন্ড, স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সমাজমাধ্যমে ছবি, শুক্র রাতে নালিশ করেছিল তৃণমূল

কালীঘাট থানার ওসি গৌতম দাসকে সাসপেন্ড করল লালবাজার। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হল চামেলি মুখোপাধ্যায়কে। শনিবার গৌতমকে নিলম্বিত করে কলকাতা পুলিশ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০২ মে ২০২৬ ১৫:৪৪
তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা ছবি।

তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের সমাজমাধ্যমে পোস্ট করা ছবি। ছবি: সংগৃহীত।

কালীঘাট থানার ওসি গৌতম দাসকে সাসপেন্ড করল লালবাজার। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব দেওয়া হল চামেলি মুখোপাধ্যায়কে। শনিবার গৌতমকে নিলম্বিত করে কলকাতা পুলিশ। সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি স্টেটাস দিয়ে বিতর্কে জড়ান গৌতম। শুক্রবার রাতে ওই ছবিকে ‘আপত্তিকর’ বলে দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল তৃণমূল।

Advertisement

তৃণমূলের তরফে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গিয়েছে যে, একটি অত্যাধুনিক বন্দুক হাতে থানায় নিজের চেয়ারে বসে রয়েছেন গৌতম। তার পরনে পুলিশের উর্দি (যদিও এই ছবির সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)। গৌতম নিজেই ফেসবুক এবং হোয়াট্‌সঅ্যাপ স্টেটাসে সেই ছবি পোস্ট করেন বলেও দাবি করে তৃণমূল।

শুক্রবার তৃণমূলের রাজ্য সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার ওই ছবিটি পোস্ট করেন। তিনি জানান, দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ অগ্রবাল এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দকে এই বিষয়টি নিয়ে চিঠি লিখে অবগত করা হয়েছে।

জয়প্রকাশের দাবি, গৌতম তাঁর পোস্টে নিজের ছবি দিয়ে সেখানে ক‍্যাপশনে লিখেছেন, ‘নতুন দায়িত্বের জন্য প্রস্তুত।’ জয়প্রকাশ তাঁর এক্স পোস্টে একটি ফেসবুক আইডিও দেন। যদিও সেই আইডির পোস্ট মুছে ফেলা হয়েছে। তৃণমূল নেতার মতে, ‘‘এ ধরনের ছবি শুধু অস্বস্তিকর নয়, আইনের চোখেও অত্যন্ত আপত্তিকর। ওই ছবি থেকে স্পষ্ট, তিনি অত্যাধুনিক বন্দুক নিয়ে কাউকে নিশানা করছেন।’’

লালবাজার সূত্রে খবর, ওই বন্দুক কাণ্ডের জেরেই গৌতমকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। শুক্রবার জয়প্রকাশ তাঁর আপত্তির সপক্ষে কয়েকটি যুক্তি খাড়া করেছিলেন। তাঁর মতে, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে কর্তব্যরত কোনও পুলিশ কর্মকর্তা ইউনিফর্ম পরা অবস্থায় নিজের ছবি তুলে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করতে পারেন না। সেটি কলকাতা পুলিশের সমাজমাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত নির্দেশিকাতে উল্লেখ রয়েছে। অন্য অনেক রাজ্যেই এ ধরনের বিধিনিষেধ বলবৎ রয়েছে। পাশাপাশি, সমাজমাধ্যম ব্যবহার সংক্রান্ত ভারত সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, হুমকিমূলক কোনও ধরনের ক্যাপশন-সহ অস্ত্রের ছবি প্রকাশ করা নিষিদ্ধ।’’ তা ছাড়া, কালীঘাট থানার ওসির হাতে যে ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে, তা তাঁর জন্য আদৌ বরাদ্দ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে তৃণমূল।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটের মুখে কালীঘাট থানার ওসি বদলে দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তবে তার আগে গত ২৯ মার্চ কালীঘাট থানার ওসি এক দফা বদল করা হয়েছিল। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের উৎপল ঘোষকে কালীঘাট থানার ওসি করে আনা হয়েছিল। সেই নিয়োগের এক মাসের মধ্যেই উৎপলকে সরিয়ে দেয় কমিশন। তাঁর জায়গায় কালীঘাট থানার নতুন ওসি করা হয়েছিল গৌতমকে। তিনি কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল ব্রাঞ্চে ছিলেন। এ বার সেই গৌতমকে সাসপেন্ড করা হল।

Advertisement
আরও পড়ুন