শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা দিবসের অনুষ্ঠানে উদ্ধব ঠাকরে। ছবি: পিটিআই।
শিবসেনার (ইউবিটি) প্রধানের পদ ছাড়তে চান উদ্ধব ঠাকরে। শুক্রবার দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বক্তৃতায় এমনই প্রস্তাব দেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘দলের কর্মীরা যদি আমার নেতৃত্বের উপর আস্থা রাখতে না-পারেন, তবে আমি সরে যেতে প্রস্তুত। যদি মনে হয় আমি নেতৃত্ব দেওয়ার উপযুক্ত নই, তবে যে কোনও কর্মীর হাতে দল তুলে দিতে তৈরি।’’
শিবসেনা প্রতিষ্ঠা দিবসে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে উদ্ধব জানান, নেতৃত্বের পদ আঁকড়ে ধরে রাখতে রাজি নন তিনি। তবে দলের আদর্শের জন্য লড়াই থেকে সরবেন না। তাঁর কথায়, ‘‘আমি হাল ছাড়ব না। কিন্তু যে দিন আপনারা মনে করবেন আমি এই পদের যোগ্য নেই, আমি চলে যাব।’’ তিনি মনে করেন, কিছু লোক আশা করেছিল তাঁর দল ভেঙে যাবে। আশা ছেড়ে দেবে। কিন্তু শিবসেনা (ইউবিটি) তার লড়াই চালিয়ে যাবে।
শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বালা সাহেব ঠাকরের কথা উল্লেখ করে উদ্ধব বলেন, ‘‘বালাসাহেব এক বার বলেছিলেন যাঁরা সংগঠনের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। এখন আমাদের সেই পথ অনুসরণ করা উচিত।’’ উদ্ধবের কথায়, ‘‘অনেকে ভাবছেন আমরা আশা ছেড়ে দেব। কিন্তু আমরা তা করব না।’’ একই সঙ্গে দলের বিদ্রোহ ঘটানো ছ’জন সাংসদের জন্য ভোটারদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন উদ্ধব। তিনি বলেন, ‘‘আমি ক্ষমা চাইছি। কারণ, ভোটারেরা আমাদের ভোট দিয়েছেন, কিন্তু আমাদের সাংসদেরা দল ছেড়ে চলে গিয়েছেন।’’ উদ্ধব জানান, তিনি সব সময় দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে উপলব্ধ। এখন যাঁরা বিদ্রোহ দেখাচ্ছেন, শিবসেনাই তাঁদের এই জায়গা এনে দাঁড় করিয়েছে। যদি শিবসেনার সমর্থন না-থাকত, তবে কী ভাবে ভোটে জিততেন তাঁরা?
নাগেশ আশিতকর, সঞ্জয় দেশমুখ, সঞ্জয় যাদব, সঞ্জয় দিনা পাটিল, ওমপ্রকাশ রাজেনিম্বলকর, ভাওসাহেব ওয়াকচুরে— এই ছয় সাংসদ ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে দেখা করেছেন। সূত্রের খবর, তাঁরা স্পিকারকে জানিয়েছেন, উদ্ধবের শিবসেনা বাল ঠাকরের পুরনো মতাদর্শ ত্যাগ করে কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। আগামী দিনে তারা কংগ্রেসে মিশে যাবে। তাই তাঁরা দল ছাড়তে চান। সেই জল্পনা নিয়ে মুখ খোলেন উদ্ধব। তিনি স্পষ্ট জানান, এমন কোনও সম্ভাবনা নেই। তাঁর কথায়, ‘‘যদি আমরা ৩০ বছর বিজেপির সঙ্গে থেকেও তাদের সঙ্গে মিশে না-যাই, তবে কংগ্রেসের সঙ্গে হব কেন?’’ উদ্ধবের কথায়, ‘‘অতীতে কংগ্রেসের সঙ্গে শিবসেনার রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও, তারা কখনও ‘মাতশ্রীকে’ (উদ্ধবদের বাসভবন) অপমান করেনি। নিজেদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে।’’ মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মনে করেন, ‘বিজেপির হিন্দুত্বের চেয়ে’ অনেক ভাল কংগ্রেস।