— প্রতীকী চিত্র।
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে স্যালাইন-কাণ্ডে স্বস্তি অভিযুক্ত চিকিৎসকদের। বিভাগীয় প্রধান মহম্মদ আলাউদ্দিনের পরে এ বার সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হল হাসপাতালের সুপার (এমএসভিপি) জয়ন্তকুমার রাউত, আরএমও সৌমেন দাস, সহকারী অধ্যাপক হিমাদ্রি নায়েকের। শুক্রবার ওই তিন চিকিৎসক মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে কাজে যোগ দেন। জয়ন্তের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হবে বলেও ওই নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে। তবে এখনও ওই ঘটনায় অভিযুক্ত দু’জন নিলম্বিত রয়েছেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে স্যালাইন নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন পাঁচ জন প্রসূতি। অভিযোগ, স্যালাইন দেওয়ার পরেই তাঁরা অসুস্থ বোধ করেন। এক জনের সেখানেই মৃত্যু হয়। চার জন প্রসূতিকে গ্রিন করিডর করে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এসএসকেএমে একজন প্রসূতি মারা যান। বাকিরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। এক জন মহিলা মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ থেকে সুস্থ হলেও মৃত্যু হয় তাঁর সন্তানের।
ওই ঘটনায় শুরু হয় সিআইডি তদন্ত। রিঙ্গার্স ল্যাকটেট স্যালাইন দেওয়ার পরেই এই অসুস্থতা এবং মৃত্যু বলে দাবি করা হয়। অভিযোগ, ড্রাগ কন্ট্রোলার একটি নির্দিষ্ট সংস্থাকে ‘রিঙ্গার্স ল্যাকটেট’ স্যালাইন উৎপাদন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। তার পরেও কেন এই স্যালাইন রাজ্যের হাসপাতালে ব্যবহার করা হচ্ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এই ঘটনায় নবান্ন থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ১২ জন চিকিৎসককে নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করেন। হাসপাতালের সুপার এবং এক জুনিয়র ডাক্তারকেও পরে সাসপেন্ড করা হয়। স্যালাইন-কাণ্ড নিয়ে জনস্বার্থ মামলা হয় কলকাতা হাই কোর্টে। আন্দোলনের জেরে সাত জন জুনিয়র ডাক্তারের সাসপেনশন তুলে নেওয়া হয়।
প্রসূতি বিভাগের প্রধান আলাউদ্দিন গত জানুয়ারি মাসে অবসর নেন তিনি। পরে তাঁর সাসপেনশন তুলে নেওয়া হয়। এ বার আরও তিন জন চিকিৎসকের সাসপেনশন তুলে নেওয়া হল।