রঘুনাথপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
গত ২৫ মার্চ নকশালবাড়ির জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে হুমকি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনই অভিযোগের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন রিপোর্ট তলব করেছে। কমিশনের চিঠিতে বলা হয়, মমতা মহিলাদের ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে এবং প্রয়োজনে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে বাড়ির রান্নাঘরের সরঞ্জাম ব্যবহার করতে বলেছেন। এই ভাবে সিআরপিএফ কর্মীদের প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন তিনি। কমিশনের আশঙ্কা মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর গ্রামীণ এলাকায় অশান্তি হতে পারে। এই মর্মে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-কে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে কমিশন। তবে শনিবার রঘুনাথপুরের জনসভা থেকে ফের কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিশানা করেছেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, ‘‘ভোটের সময় বিজেপি হয়ে গিয়েছে ওরা।’’
‘‘বিজেপির টাকায় নিজেদের বেচবেন না। খবর আমরাও রাখি। মা বোনদের দায়িত্ব দেব। ইলেকশনের আগের দিন থেকে লক্ষ্য রাখবেন বাইরের গুন্ডারা আসছে কি না। আর পুলিশের ড্রেস পরে সেন্ট্রাল ফোর্স যদি ছাপ্পা দিতে আসে, রুখে দাঁড়াবেন। যদি ভোটমেশিন দখল করতে আসে, রুখে দাঁড়াবেন। কাউন্টিংয়ের দিন ফাইনাল রেজাল্ট বের না হওয়া পর্যন্ত থাকবেন। সঙ্গে কী নিয়ে যাবেন? পাখা নিয়ে যাবেন। বাড়িতে রুটি বেলা হয়। বেলন আছে। যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে,’’ বললেন মমতা।
মমতা বলেন, ‘‘বলে তৃণমূল চোর, এত বড় সাহস! আসলে যে চোর হয়... তোরা তো ডাকাত। দেশ বেচে দেওয়ার ডাকাত। আপনারা কৌরবদের চান না পাণ্ডবদের? তৃণমূল পাণ্ডব। বিজেপি কৌরবদের দল।’’
মমতা বিজেপিকে নিশানা করে বলেন, ‘‘বাংলাকে টার্গেট করেছে কেন জানেন? ওরা চায় বাংলাটাকেই উঠিয়ে দিতে। যদি বাংলাকে ওঠাতে না চান, তবে মনে রাখুন একটা ভোটও তৃণমূল ছাড়া আর কাউকে নয়।’’
মমতার অভিযোগ, এসআইআরে বেছে বেছে মহিলাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘পদবি দেখে বাদ দেওয়া হয়েছে। মেয়েদের তো বিয়ের পর পদবি বদল হয়। মুসলিম মহিলাদের তো ঢেলে নাম বাদ দিয়েছে। আবার হিন্দুদেরও নাম বাদ গিয়েছে।’’
‘‘১০ বছরে কত বার রেলের ভাড়া বাড়ল? আমিও রেল মিনিস্টার ছিলাম। কোনও দিন ভাড়া বাড়াইনি। আর তোমরা আমার ‘দূরন্ত’ কেটে ‘বন্দে ভারত’ করলে! খাবারে টিকটিকি ঘুরে বেড়াচ্ছে। টাকা নিচ্ছো আর দেশ বেচছো,’’ বললেন মমতা।
মমতা অভিযোগ করেছেন, ‘‘কেন ট্রাইবুনাল জেলায় জেলায় থাকবে না। কেন শুধু কলকাতায় আসতে হবে এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া মানুষদের।’’ তিনি বিজেপিকে ‘শয়তান’, ‘বজ্জাত’ বলে আক্রমণ করেন।
মমতা বলেন, ‘‘ক’বার লাইন দেবেন একটা জীবনে? নোটবন্দি, আধারকার্ড। সেই আধারকার্ডের কত রূপ! যেন আধার না থাকলে সে মানুষই নয়। এ বার শুরু হয়েছে এসআইআর! নাকে নল লাগিয়ে মানুষকে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।’’
রঘুনাথপুরের ইনানপুর ফুটবল মাঠের জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘বাংলার সব বাড়িতে পরিস্রুত পানীয় জল পৌঁছে যাবে।’’