কালনার সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।
মমতা আবার বলেন, ‘‘সরকারি জায়গা ব্যবহার করে কাল কেঁদে কেঁদে প্রধানমন্ত্রী বললেন তাঁদের নাকি মহিলা সংরক্ষণ করতে দেওয়া হয়নি। আমি বলব, ওটা তো ২০২৩ সালে পাশ হয়ে গিয়েছিল। তবে কেন কার্যকর হল না? আমরাও সমর্থন করেছিলাম। চালাকি ছিল, সামনে মহিলাকে রেখে দেশ ভাঙার চেষ্টা। ৫৪৩টা আসন থাকলে মোদী হেরে যাবে, তাই ৮৪০ আসন করে দেশ, রাজ্য ভাঙার পরিকল্পনা ছিল। তাই আমরা জোটবদ্ধ ভাবে হারিয়ে দিয়েছি। আমাদের কাছে আরও কিছু ভোট আছে। যাঁরা যেতে পারেননি, সেগুলো যদি যোগ করেন, আর বিজেপির ভোটটা বিয়োগ করেন, তবে দেখবেন আগামী দিনে মোদীর সরকার পড়ে যাবে।’’
মমতার অভিযোগ, ‘‘বিজেপি আমাকে খুন করার চেষ্টা করছে।’’ তার পরেই চ্যালেঞ্জ, ‘‘ক্ষমতা থাকলে বলো, কখন কোথায় (খুন) করবে। আমি একা দাঁড়িয়ে থাকব। আমার সঙ্গে তৃণমূলের কেউ থাকবে না। বন্দুকটা আমার বুকে চালিয়ে দাও, আমি বুক পেতে নেব। কিন্তু মাথানত করব না।’’
কালনা থেকে মমতার ঘোষণা, এ বার কৃষকদের জন্য আলাদা বাজেট হবে। একই সঙ্গে মমতা বলেন, ‘‘দুয়ারে সরকারের মতো এ বার দুয়ারে স্বাস্থ্য হবে।’’
মমতার অভিযোগ, ভোটের আগে তৃণমূল প্রার্থীদের বাড়িতে ইডি পাঠাচ্ছে। দলীয় কার্যালয়ে সিবিআই। তৃণমূলনেত্রীর কথায়, ‘‘ভাবছে, তৃণমূল কর্মীদের গ্রেফতার করে বিজেপির হয়ে ভোট করাবে! প্রার্থীদের বাড়ি ইডি পাঠিয়ে দিচ্ছ। পার্টিঅফিসে সিবিআই পাঠাচ্ছ। ভয় দেখিয়ে বলছ বাংলা ছেড়ে চলে যাও। আমি বলি, তোমরা ভাল ভাবে বাংলা ছেড়ে চলে যাও। নাড়ু দেব এক বোতল করে। বাংলার মানুষকে বাংলাকে বাংলা ছাড়তে বলবে না। তোমরা বহিরাগত, তোমরা বাংলা ছেড়ে যাও। আমাদের হয়ে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের বাংলা ছেড়ে চলে যেতে বলছে। না হলে ইডি, সিবিআই গ্রেফতার করবে।’’ মমতার হুঁশিয়ারি, ‘‘যাঁরা এই সব করছেন, মনে রাখবেন আগামী দিনে বিজেপি থাকবে না। আমাদেরও নাম, ঠিকানা মুখস্থ আছে, রেকর্ড আছে। আমরা আমাদের মতো আইনি ব্যবস্থা নেব।’’
মমতা বলেন, ‘‘ওদের (বিজেপি) পরশু থেকেই পতন শুরু হয়ে গিয়েছে। দেখেছেন তো লোকসভায় হেরেছে। আবার হারবে। দিল্লিতে বিজেপি থাকবে না, থাকবে না, থাকবে না। বাংলাকে টার্গেট করলে, আমরাও দিল্লিকে টার্গেট করি।’’
লোকসভার আসন বাড়িয়ে মহিলাদের সংরক্ষণ চালুর উদ্দেশে আনা ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল শুক্রবার লোকসভায় পাশ করাতে পারেনি কেন্দ্র। তা নিয়ে শনিবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়ে তৃণমূল, কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলিকে কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী। কালনার সভা থেকে তা নিয়ে মোদীকে তোপ দাগেন মমতা। তাঁর অভিযোগ, সরকারি জায়গা ‘অপব্যবহার’ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। মমতার কথায়, ‘‘দূরদর্শন সরকারের প্রচার কেন্দ্র। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী কাল (শনিবার) রাজনৈতিক প্রচার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধেও তো কমপ্লেন (অভিযোগ) হওয়া উচিত। দেখছি কাকে দিয়ে করানো যায়।’’
বিজেপি-কে কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘‘আপনারা ‘বেটি পড়াও, বেটি বাঁচাও’-এর কথা শুনেছেন। কিন্তু কিছু কি হয়েছে? আমাদের এখানে কন্যাশ্রী, শিক্ষাশ্রী আছে।’’
মমতা বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ একমাত্র রাজ্য যেখানে সরকারি কর্মচারীরা পেনশন পান। মনে রাখবেন ২৫ শতাংশ ডিএ আপনারা পেয়ে গিয়েছেন। চার শতাংশ ডিএ-ও পেয়ে যাবেন।’’
কালনার সভা থেকেও ইডি এবং আয়কর হানা নিয়ে সরব হলেন মমতা। ভোটের আগে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে কাজে লাগাচ্ছে বিজেপি, আবার সেই অভিযোগ করলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘দিল্লি থেকে আসছে। সঙ্গে আসছে ইডি, সিবিআই, আয়কর এবং কতগুলি দালাল। তারা কী করছে? আমাদের লোকেদের গিয়ে গিয়ে তল্লাশি করছে। গ্রেফতার করছে। নির্বাচনের পরে কী হবে? তোমরা তো বসন্তের কোকিলের মতো নির্বাচনের সময় আসো। তার পরে আর দেখা পাওয়া যায় না।’’
কালনার সভা থেকে মমতা বলেন, ‘‘যাঁরা কার্ড নিয়েছেন তাঁরা জেনে রাখুন, এটা ভাঁওতা ছাড়া আর কিছু নয়। এই সুযোগে আপনার নাম, ঠিকানা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে নিয়েছে। যে টুকু লক্ষ্মীর ভান্ডার পান সে টুকুও নিয়ে নেবে। লুটে নেবে। আগামী দিন ফর্মফিলাপ করতে বলবে।’’
দিন দুয়েক আগে পূর্ব বর্ধমানে ভোটপ্রচারে এসে ‘মাতৃশক্তি কার্ড’ বিলি করেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। সেই নিয়ে রবিবার কালনার জনসভা থেকে কটাক্ষ করলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘এখানে এসে অর্থমন্ত্রী বেআইনি ভাবে কার্ড বিলি করে গিয়েছেন। আমি তাঁকে ধিক্কার জানাই। বলি, নির্বাচনের সময় কার্ড বিলি করা মানে বিধিভঙ্গ।’’ তার পরেই দলীয় নেতৃত্বকে এর বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দেন মমতা।
তারকেশ্বর থেকে কালনা। সেখানে দলীয় প্রার্থী দেবপ্রসাদ বাগের সমর্থনে জনসভা করবেন মমতা। কালনার বৈদ্যপুরের মীরহাট কোলোর মাঠে সেই জনসভার আয়োজন করা হয়েছে।
রবিবার দিনভর তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বেশ কয়েকটি কর্মসূচি রয়েছে। তিন জনসভার পর এক পদযাত্রাও করবেন তিনি। তার পরেই নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে প্রচার শুরু করবেন মমতা। তবে রবিবার সেখানে তাঁর কোনও জনসভা নেই। বিকেলে উত্তম মঞ্চে ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের সর্ব স্তরের মানুষের সমন্বয় ক্রমসূচির আয়োজন করা হয়েছে।