মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।
‘‘আপনারা ব্যস্ততার মাঝে এতটা সময় দিয়েছেন বলে ধন্যবাদ। ভাল থাকুন, সৎপথে থাকুন। ভোট দিন আমাদের।’’
‘‘কমিশনকে দেখুন! চেয়ারকে সম্মান করি। ইভিএম যন্ত্র কেউ দখল করতে গেলে আপনাদের তো দেখা উচিত। লোডশেডিং তো হওয়া উচিত নয়। কারেন্ট অফ করে, কম্বল মুড়ি দিয়ে লুট করতে যাচ্ছে। ওদের অন্য মতলব আছে। কিন্তু আপনারা এতে ফাঁসবেন না। অন্য কাউকে ফাঁসতে দেবেন না।’’
‘‘এখানকার পুলিশের কথা আর কী বলব। বিজেপি দেখে দেখে লোক নিয়ে এসেছে। কোনও পদক্ষেপ ওরা করে না। আমাদের দলের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে। ৪ তারিখের পরে ওরা চলে যাবে। আপনারা থেকে যাবেন। আপনাদের আমরা মিষ্টি খাওয়াব। আপনাদের পরিবারকে দেখব। কেন বিজেপির হয়ে কাজ করবেন? আমি চাই, আপনারা তৃণমূলের হয়েও কাজ করুন। রাজ্যের মানুষের জন্য কাজ করুন। এটা আমার অনুরোধ। ’’
‘‘এখানে ২ লক্ষ পুলিশ পাঠিয়েছে। কাল ২টো ঘটনা শুনেছি। কম্বলে মুড়িয়ে অপরাধীদের নিয়ে যায়। যেখানে ভোট হয়েছে, সেখানে গিয়ে ইভিএম মেশিন দখল করে। যেখানে ভোট হয়ে গিয়েছে, সেখানে নজর রাখুন।’’
‘‘ভরসা রাখুন। ১৪ বছর রয়েছি, দেখেছেন কোনও গড়বড় হয়েছে? জুমলা করেছে কেউ? বিজেপি বলে, মহিলারা বাংলায় রাস্তায় চলতে পারে না। বলে সব ঝুপড়ি। এখানে গরিবদের থাকারও অধিকার রয়েছে। আগে দিল্লি সামলাও। পহেলগাঁও সামলাও। ওখানে যখন হামলা হল, সাঁজোয়া গাড়ি কেন পাঠাওনি? এখানে কেন পাঠালে?’’
‘‘ট্রেডার্সের কমিটি করে দিয়েছি, যাতে কারও সমস্যা না হয়। অনেকেই কাজ করেন, কিন্তু তাঁদের বিমা নেই। আমরা সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প করেছি তাঁদের জন্য। মেয়ের বিয়ে হলে, সন্তানের পড়াশোনার জন্য তাঁরা টাকা পাবেন।’’
‘‘প্রথম দফায় সেঞ্চুরি করেছি, দ্বিতীয় দফায় আবার করব। বিজেপি ভয় পেয়েছে। তাই কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে এসেছে। সব ওসি বদলেছে। গুন্ডামি করছে। নিজের ভোট নিজে দিন। ভোটার স্লিপ রেখে দিন, যাতে এনআরসি করতে না পারে।’’
ভবানীপুরের মানুষের জন্য কী করেছে তাঁর সরকার, সেই খতিয়ান দিলেন মমতা। তিনি বলেন, ‘‘সস্তায় চিকিৎসা হয় এসএসকেএমে। আমরা কোনও কর বৃদ্ধি করিনি। কেন্দ্রীয় সরকার করে। জিএসটি কর ছিনিয়ে নেয়।’’
ক্যামাক স্ট্রিটে সভা শুরু করলেন মমতা। তিনি সর্বধর্মের মানুষকে সম্বোধন করলেন। তিনি বললেন, ‘‘যত উৎসব হবে, সকল ব্যবসায়ীর আয় বাড়বে। বাংলায় আমরা ভেদাভেদ করি না। বিজেপির মতো। আমি সকলকে ভালবাসি।’’
শনিবার ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় ‘বিপত্তি’ হয়। তাঁর সভাস্থলের কিছুটা দূরে বিজেপি মাইকিং শুরু করে বলে অভিযোগ। তার জেরে সভায় কয়েক মিনিটের সংক্ষিপ্ত বক্তৃতা দিয়েই তা শেষ করতে হয় মমতাকে। তৃণমূলনেত্রী বলেন, “কেন করবে এটা? ইলেকশনের কতগুলো রুলস আছে। তা হলে ওরাও যেদিন মিটিং করবে তোমরা পাল্টা লাগিয়ে দেবে। তখন পুলিশ তুলতে আসলে, মেয়েদের ধরে এফআইআর করবে। এটা পার্শিয়ালিটি।”এই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূল এবং বিজেপি উভয় পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয় বলে অভিযোগ। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তার পরে রবিবারের সভায় মমতা কী বলেন, সে দিকে নজর।