ঠাকুরনগরের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ছবি: সংগৃহীত।
‘‘বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় পথের পাঁচালিতে গরিব, মহিলাদের কষ্ট, লড়াইয়ের কথা লিখেছিলেন। তা আজও বাংলার বাস্তব। সেই পরিস্থিতি বদলানোর জন্য এই নির্বাচন। বুথে আপনাদের ভোট কমল চিহ্নে দিন। বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী করুন। পিএম-সিএম মিলে কাজ করবে।’’
‘‘তৃণমূল যে মিথ্যাপ্রচার করছে, তার থেকে সাবধান হতে হবে। এরা প্রকাশ্যে সিএএ-র বিরোধিতা করে। তারা কি আপনাদের ভাল চায়? কেউ তৃণমূলকে ভোট দিলে নিজের পূর্বপুরুষকে দুঃখ দেব। বনগাঁ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের হুঁশিয়ারি দিচ্ছি, যাঁরা অবৈধ ভাবে প্রবেশ করেছেন, তাঁরা ২৯ এপ্রিলের আগে বাংলা, ভারত ছেড়ে দিন। নয়তো, ৪ মের পরে সব অনুপ্রবেশকারীকে খুঁজে বার করা হবে। তৃণমূল কাউকে বাঁচাতে পারবে না।’’
‘‘কলকাতা থেকে জয়ী হয়েছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তখন ২৪ পরগনা, নদিয়া অনেক সমর্থন পেয়েছিল জনসঙ্ঘ। পূর্ব বঙ্গ থেকে আসা শরণার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তাঁদের কথা বলেছিল। শরণার্থীদের প্রবক্তা মনে করা হয় শ্যামাপ্রসাদকে। দেশভাগ থেকে আজ পর্যন্ত সব শরণার্থীরা আমাদের দায়িত্ব। তাঁদের চিন্তা করা ভারতের ঐতিহাসিক দায়িত্ব। সে জন্য মোদী সিএএ এনেছিল। এর আগে সেই কাজ কেন হয়নি? মতুয়া, নমশূদ্রদের বলব, আপানদের নাগরিকত্ব, স্থায়ী ঠিকানা, কাগজ দেওয়া হবে, সব অধিকার দেওয়া হবে, যা ভারতের সব নাগরিকেরা পান। এটা মোদীর গ্যারান্টি।’’
‘‘ক্রীড়াক্ষেত্রকে নতুন পর্যায়ে নিয়ে যাবে। তৃণমূল নষ্ট করেছে। কলকাতায় কয়েক মাস আগে যা হয়েছে, দুনিয়ার ফুটবলপ্রেমীরা যা দেখেছেন, তা জঙ্গলরাজের পরিণাম। আমি সব ক্রীড়াবিদদের বলছি, খেলো ইন্ডিয়া কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাকে সাহায্য করা হবে।’’
‘‘বাংলার ছেলেমেয়েদের রিল, ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে প্রশংসিত হচ্ছে। আমিও দেখেছি কয়েকটি। ঝালমুড়ি দিয়ে যাদের এত ঝাল লাগে, তাঁদের যুবসমাজের ক্রিয়েটিভিটি পছন্দ নয়। কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে বাংলার শক্তি করবে বিজেপি।’’
‘‘বাংলায় বিজেপি সরকার প্রতি বছর মহিলাদের বছরে ৩৬ হাজার টাকা দেবে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের বেতন নিয়েও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি চাকরিতে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের লাভ পাবে মহিলারা।’’
‘‘মহিলারা প্রতি বছর যাতে এক লক্ষ টাকার বেশি আয় করতে পারেন, তাই ৭৫ লক্ষ মহিলাকে সুবিধা দেওয়া হবে। স্যালোঁ, ধাবা, হোটেল খুলতে চাইলে ব্যাঙ্ক থেকে ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবেন। ব্যাঙ্ককে গ্যারান্টি দেবে আপনাদের ভাই মোদী।’’
‘‘মহিলাদের চিন্তা থাকে সংসার কী ভাবে চলবে। বিজেপি সরকার মুক্ত চাল দেয়। সাত থেকে ১০ হাজার টাকা বাঁচে বছরে প্রতি পরিবারের। দেড় লক্ষ টাকা দেবে পাকা বাড়ি তৈরির জন্য। তৃণমূল আর্সেনিকযুক্ত জল খেতে বাধ্য করছে। বিজেপি সরকার প্রতি ঘরে বিশুদ্ধ জল দেবে। ৮০ হাজার টাকা দেবে ছাদের উপরে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যবস্থা করার জন্য। এতে বিদ্যুতের বিল বাঁচবে। ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করবে। মহিলাদের সার্ভিক্সে ক্যানসারের চিকিৎসা, টিকা বিনামূল্যে দেওয়া হবে। গর্ভবতী মহিলাদের ২১ হাজার টাকা দেওয়া হবে। স্নাতক পাশ করার জন্য ৫০ হাজার টাকা সাহায্য করা হবে। মেয়েদের শিক্ষা এবং চিকিৎসার চিন্তা করবে বিজেপি।’’
‘‘বিজেপি বোনদের সুযোগও করে দেয়। সন্দেশখালিতে লড়াই করেছিলেন যে মহিলারা, তাঁদের এক জনকে বিজেপি টিকিট দিয়েছিল। আরজি করে যে চিকিৎসকের হত্যা হয়েছে, তাঁর মাকে টিকিট দিয়েছে বিজেপি। এটা বাংলার মেয়েদের সুরক্ষার প্রতি বিজেপির দায়বদ্ধতা। নতুন বিজেপি সরকার মহিলাদের সুবিধা দেবে।’’
‘‘ জঙ্গলরাজে পীড়িত হয়েছে বোনেরা। তাঁদের চোখে ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে সবচেয়ে বেশি। সন্দেশখালিতে বোনদের নির্যাতন করেছে গুন্ডারা। তাদের সমর্থন করেছে তৃণমূল। বোনদের গালিগালাজ করা হয়। এটা ভুলবেন না। মেয়েরা নিখোঁজ হচ্ছে এই সরকারের আমলে। মহিলাদের চিন্তা করে না তৃণমূল। গুন্ডা, ধর্ষকদের ৪ মের পরে হিসাব করবে বিজেপির সরকার। আর সহ্য করবেন না। অত্যাচারীদের সরিয়ে দেব।’’
‘‘বিজেপি কৃষকদের কল্যাণে নজর দেয়। পাটের এমএসপি (ন্যূনতম সহায়ক মূল্য) দ্বিগুণ করেছে। পাটের প্যাকিং অনির্বায করেছে। তার ব্যবহার বৃদ্ধির দিকে নজর দিয়েছে। এখানে কারখানা চলতেই দেয় না তৃণমূল। ওদের বাজনা বাজিয়ে বিদায় করুন।’’
‘‘ওদের এখান থেকে যেতেই হবে। এই সরকার হঠাতে হবে। তাই বাংলার একটাই সিদ্ধান্ত, পাল্টানো দরকার, চাই বিজেপি সরকার। বাংলার কাছে সব কিছু রয়েছে। সামর্থ রয়েছে। তাই দেশের এক নম্বর রাজ্য হতে পারে। নেতাজি সুভাষচন্দ্রের আহ্বান মনে রাখবেন। তিনি বলেন, রক্ত দাও, স্বাধীনতা দেব। দেশের মানুষ সব উজার করে দেন। আশীর্বাদ দিন, ভোট দিন, আমরা তৃণমূল থেকে মুক্তি দেব। জঙ্গলরাজ, ভয়, দুর্নীতি, মহিলা নির্যাতন, বেকারত্ব, অনুপ্রবেশকারী থেকে মুক্তি দেব।’’
‘‘তৃণমূলের আমলে ছোট গুন্ডারাও নিজেদের সরকার ভাবে। হুগলি নদীর এপারের এলাকায় ছিল কারখানা। আজ সেখানে তালা পড়ার নোটিস আসে। গত ১৫ বছরে অনেক পাটকল বন্ধ হয়েছে। একটা কারখানাই চলছে, তা হল সিন্ডিকেটের কাটমানি, কমিশন আদায়।’’
‘‘বাংলার এই ভোট এখন শেষ পর্যায়ে। একটা জিনিস লক্ষ্য করেছেন, ১৫ বছর আগে তৃণমূল মা-মাটি-মানুষের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিল। এখন ওদের মুখ থেকে এখন আর সে সব শোনা যায় না। সেই কারণ বলি, এই তৃণমূল মা-মাটি-মানুষের কথা বললে ওদের পাপ প্রকাশ্যে চলে আসবে। মা কাঁদছে ওদের নির্মমতায়। মাটিকে ওরা সিন্ডিকেট আর অনুপ্রবেশকারীদের হাতে তুলে দিয়েছে। মানুষ পালিয়েছে।’’
‘‘প্রথম দফায় বাংলা কামাল করেছে। আর কি ঘুমাতে যাবেন না কি জাগবেন? বুথে শক্তি দেবেন তো? প্রথম দফার রেকর্ড ভাঙবেন তো? প্রথম দফায় তৃণমূলের অহঙ্কার ভেঙে গিয়েছে। দ্বিতীয় দফায় বিজেপির জয় পাকা হচ্ছে।’’
‘‘আজ আবার সেই সুযোগ হল এখানে এসে। ঠাকুরবাড়ি মন্দিরে পুজোর সুযোগ পেয়েছি। শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর, গুরুচাঁদ ঠাকুর, বড়মাকে প্রণাম জানাই। এই অনুভূতি সারা জীবন থাকবে। এত মানুষ এসেছেন আশীর্বাদ দিতে, এটা আমাদের সৌভাগ্য।!!
‘‘অনেক স্মৃতি সতেজ হল। ৪-৫ বছর আগে, সীমান্তের ওপারে ওরাকান্দি যাওয়ার সুযোগ হয়। সেখানে মতুয়াদের সঙ্গে দেখা হয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে প্রথম গিয়েছিলাম। মন্দিরে পুজো করেছিলাম। বড়মার আশীর্বাদ যখন নিতে গেছিলাম, তার মমতা বিভোর করেছিল। এই আত্মীয়তা ভুলব না।’’
মোদী বললেন, ‘‘বাংলায় কার সরকার হবে, সকলে জানুক।’’ এর পরেই যাঁরা তাঁর ছবি এঁকে সভায় এনেছেন, তাঁদের থেকে ছবি সংগ্রহের নির্দেশ দিলেন রক্ষীদের। বললেন, ‘‘জয় মা দুর্গা, জয় মা কালী।’’
ঠাকুরনগরে সভামঞ্চে প্রধানমন্ত্রী মোদী।
রবিবার রাজ্যে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। দুপুরে বনগাঁয় প্রথম জনসভা করার কথা তাঁর। বনগাঁর ঠাকুরনগরে তাঁর জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে সভা সেরে মোদী যাবেন হুগলিতে। আরামবাগের হরিপাল এলাকায় তাঁর দ্বিতীয় জনসভা রয়েছে। এর পরেই কলকাতায় আসবেন মোদী। কলকাতায় তাঁর রোড শো রয়েছে।