অমৃতসরে মেঘ ঘনিয়ে এসেছে। ছবি: পিটিআই।
এপ্রিল থেকেই ‘আগুন’ ঝরাচ্ছে সূর্য। আবহবিদেরা আশঙ্কা করছেন, এই মাসেই গরমের আগের সব রেকর্ড ভেঙে যাবে। দেশের কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪৮ ডিগ্রির ঘরে পৌঁছে যেতে পারে। তাপপ্রবাহ চলছে দেশের ১০ রাজ্যে। এই পরিস্থিতিতে হাঁসফাঁস গরম থেকে মুক্তি কবে মিলবে, এই প্রশ্নই ঘুরে বেড়াচ্ছে সকলের মনে।
তবে তাপপ্রবাহ এবং গরমের দাপট থেকে আগামী দু’এক দিনের মধ্যে মুক্তি না মিললেও, তার পর থেকে যে আবহাওয়ার কিছুটা বদল হতে চলেছে, সেই আভাসই দিয়েছেন আবহবিদেরা। উত্তর ভারতে তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি চলছে। পূর্ব ভারতেও একই পরিস্থিতি। কিন্তু আবহবিদেরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তাপমাত্রার কিছুটা হেরফের হবে। তার কারণ পশ্চিমি ঝঞ্ঝা। উত্তর ভারত এবং সংলগ্ন অঞ্চলে পর পর কয়েকটি পশ্চিমি ঝঞ্ঝা সক্রিয় হচ্ছে। আর তার জেরে ওই অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে। ফলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। দহনজ্বালা থেকে সাময়িক মুক্তি পেতে পারেন ওই অঞ্চলের মানুষ।
সাধারণত পশ্চিমি ঝঞ্ঝা ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যেই আসে। তবে এ বার মার্চেও পশ্চিমি ঝঞ্ঝার দাপট দেখা গিয়েছে উত্তর ভারত জুড়ে। যার জেরে ওই মাসে ঝড়বৃষ্টি হচ্ছিল মাঝেমধ্যেই। কিন্তু এপ্রিল থেকে তাপমাত্রার পারদ চড়তে শুরু করেছে উত্তর ভারত জুড়ে। মাঝ এপ্রিলের মধ্যে তাপমাত্রা কোথাও কোথাও ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়েছে। দিল্লি-সহ উত্তর ভারতে অনেকাংশে তাপপ্রবাহ চলছে। কিন্তু আবহবিদেরা জানাচ্ছেন, আবার পশ্চিমি ঝঞ্ঝা সক্রিয় হচ্ছে। সাধারণত ভূমধ্যসাগর থেকে এই ঝঞ্ঝার সৃষ্টি হয়। তার পর সেটি পূর্ব দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় প্রচুর জলীয় বাষ্প বহন করে নিয়ে আসে। তার জেরে আগামী দিনে উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে আবার ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বাড়বে। তবে এটা ক্ষণস্থায়ী হতে পারে। এই ঝঞ্ঝা কেটে গেলেই আবার তাপমাত্রা বাড়বে।
আবহবিদেরা বলছেন, ২৭ এপ্রিলের পর থেকে আবহাওয়ার বদল হতে পারে উত্তর ভারতে। ২৮-৩০ এপ্রিলের মধ্যে দিল্লি, পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং রাজস্থান-সহ বিস্তীর্ণ অংশে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝড় হতে পারে। ২৯ এপ্রিল থেকে তাপমাত্রা ৪২ ডিগ্রির নীচে নামবে।